০৭ আগস্ট ২০২০

রাস্তা বন্ধ করে অনন্ত জলিলের গড়া দেয়াল, স্থানীয়দের ক্ষোভ

রাস্তা বন্ধ করে অনন্ত জলিলের গড়া দেয়াল - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা গ্রামে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত রাস্তার ইট উপড়ে ফেলে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেছেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। দীর্ঘদিনের রাস্তাটি বন্ধ করে গড়া দেয়াল এখন ওই এলাকার হাজারো মানুষের চাপা কান্না। রাস্তাটি খুলে দেয়ার দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলনে না গিয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এলাকার আড়াইশতাধিক লোকের সই করা স্বারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দিয়েছেন।

ওই স্বারকলিপির কপি পড়ে জানা যায়, উপজেলার ধল্লা মধ্যপাড়া ক্বারী আব্দুল আলী পীর সাহেবের বাড়ি থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ হয়ে ধল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা, কবরস্থান ও বাজারে যাতায়াতের রাস্তাটি হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ফোর্ডনগর রাস্তায় মিলিত হয়েছে। এছাড়া সিংগাইরের সাথে রাজধানীর সংযোগস্থল ধলেশ্বরী নদীতে শহীদ রফিক সেতু হওয়ার পর ওই রাস্তাটির গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। এই গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ধল্লা ইউনিয়েনের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক মোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আলী দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করে রাস্তাটি পুণঃনির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এলজিএসপি প্রকল্পের অধীনে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ইটের সলিং করা হয়। এতে রাস্তার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। সর্বশেষ রাজস্ব আয় দিয়ে রাস্তার একটি অংশ পাকা করা হয়। কিন্তু উপজেলার এতো গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির ওপর নজর পড়ে অনন্ত জলিলের। তিনি ওই রাস্তার ইট উপড়ে ফেলে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এতে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে এলাকাবাসীর। তারা এখন চরম দুর্ভোগে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে এম এ জলিল অনন্ত ধল্লা মৌজায় বৃদ্ধাশ্রম করার জন্য ২০ বিঘা জমি কেনেন। বন্ধ করা রাস্তাটি তার কেনা জমির ওপর ছিল।

এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, ধল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পার্শ্বে অনন্ত জলিলের মালিকানাধীন এজেআই গ্রুপের ক্রয়কৃত জমির মাঝ বরাবর শত বছরের পুরনো আইলের দু’পাশের সামান্য পরিমাণ জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হতো। জনচলাচলের কারণে প্রশস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি উন্নয়ন হয়। গত বছরের শেষের দিকে এজেআই গ্রুপের লোকজন ও তাদের সশস্ত্র আনসার বাহিনী কয়েক দফা রাস্তাটি ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এতে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পিছু হটে তারা। সর্বশেষ গত ১৮ জুন স্থানীয়দের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে রাস্তার ইট উপরে ফেলে। সেই সাথে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও মালিকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় সংঘর্ষ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা পুনরুদ্ধারে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি আইনী প্রক্রিয়ায় অনন্ত জলিলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

তারা আরো বলেন, ইতোপূর্বে কয়েক দফায় সরকারি অর্থায়নে রাস্তাটি উন্নয়ন ও সংস্কারের সময় এজেআই গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বাধা দেয়া হয়নি। এ রাস্তাটি খুলে না দিলে এজেআই গ্রুপের কোনো যানবাহন এলাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না।

এজেআই গ্রুপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, এটা আমাদের প্রজেক্টের জায়গা। এখানে কোনো রাস্তা ছিলো না।

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ডিসি স্যারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আমাকে অনুলিপি দিয়েছে। আমার সাথে এজেআই গ্রুপের কথা হয়েছে। তারা ডিসি স্যারের সাথে বসে আগামী রোববারের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করে দিবেন।

ডিডিএলজি মানিকগঞ্জ ফৌজিয়া খাঁনম বলেন, সরকারি বরাদ্দের কাজগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউএনও তদারকি করবেন। এলজিএসপির দায়িত্ব কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, স্মারকলিপির কপি পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ