০১ জুন ২০২০

নাগরপুরে করোনার ঝুঁকি নিয়ে চলছে ইটভাটা

নাগরপুরে করোনার ঝুঁকি নিয়ে চলছে ইটভাটা - ছবি: নয়া দিগন্ত

সারাবিশ্বের ন্যায় মহামারি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্ক নিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে চোখে-মুখে বিষন্নতা নিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন ইটভাটায়। পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য থেমে নেই শ্রমিকরা।

করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন তারা, তা সত্বেও নিরুপায় তারা। অপরদিকে রয়েছে ইটভাটা মালিকের দাদনের টাকা পরিশোধের চিন্তা। দাদনের টাকা পরিশোধের জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের মুখে ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতেই সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার কয়েকটি ইটভাটায় দল বেঁধে কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে করে উপজেলার মানুষ করোনা হুমকির মুখে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, করোনার ঝুঁকিতে সারাদেশ যেখানে অঘোষিত লকডাউন চলছে, সেখানে ভাটাগুলো কেন বন্ধ করা হয়নি। শত শত শ্রমিকদের মাধ্যমে করোনা ছড়ানের ঝুঁকি রয়েছে।

উপজেলায় এরকম ইটের ভাটা রয়েছে ২৩টি। সকল ইট ভাটার যথাযথ বৈধতা আছে কি না এ নিয়েও প্রশ্ন তাদের মনে।

উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নে এসকেএস বিক্রস্-এর মালিক সুর্য কান্ত সাহা বলেন, প্রশাসন আমাদের এ বিষয়ে কাজ বন্ধ বা স্থগিত করার জন্য কোন নোটিশ দেয়নি। তবে আগের থেকে এখন শ্রমিক কম। যারা আছে সকলেই উপজেলার আশের পাশের শ্রমিক। প্রশাসন আমাদের কোন নির্দেশ দিলে আমরা তা অবশ্যই পালন করব।

এ বিষয়ে উপজেলার গয়হাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, সারাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে অঘোষিত লকডাউনের বিষয়টি বিবেচনায় সরকারি নির্দেশ মোতাবেক মাইকিং করে হাট-বাজার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং জমায়েত সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ তা না মানে তা হলে সে সকল প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে থাকি। ইটভাটায় যেহেতু শতাধিক লোক কাজ করে থাকে করোনার ঝুঁকি কেবল তাদের মধ্যেই না সারা উপজেলায়তেও এর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইটভাটা বন্ধ করার জন্য তিনি সহমত পোষণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ইট ভাটায় যে সকল শ্রমিক ভিতরে কাজ করবে তারা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বের হতে পারবে না এবং ইট বেচা-কেনা বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যতিক্রম হলে আইনের আওতায় আনা হবে।


আরো সংবাদ