০২ জুন ২০২০

লকডাউনে সাটুরিয়ায় বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

লকডাউনে সাটুরিয়ায় বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ - ছবি: নয়া দিগন্ত

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। অবশ্য কিছু কিছু জেলা ও উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে রাস্তাঘাট। সব মিলিয়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে সারাদেশে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষ।

করোনা রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলেও এখনো অরক্ষিত রয়েছেন সাটুরিয়ার চিকিৎসকরা। রোগীর সেবাদানের জন্য ভাইরাসরোধে সক্ষম এমন পোশাক তাদের এখনো দেয়া হয়নি। শুধু চিকিৎসকরা নন উপজেলার অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বাসিন্দারা। অন্যদিকে উপজেলায় ১১০ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এজন্য প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

সাটুরিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড মোড়। মানুষের আনাগোনা নেই। বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে যতদূর চোখ যায় গোটা দশেক মানুষের দেখা মেলে। এ রাস্তায় কয়েকটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করছিল। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। যেকোনো ধরণের জনসমাগমসহ একাধিক মানুষ যাতে একসাথে চলাফেরা না করে সেজন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সবধরণের মার্কেট, দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে। একরকম জনশূন্য হয়ে পড়েছে সাটুরিয়া উপজেলা। পুরো উপজেলা জুড়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

দরগ্রাম এলাকার রিকশাচালক তজুমুদ্দিন উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, ‘কি বলবো ভাই! খাওয়া-দাওয়া করতে পারছি না। সারাদিন বের হতে পারিনি। দুপুরের পর বের হয়েছি। বাড়ি বউ, ছেলে-মেয়ে রয়েছে। খাওয়ার টাকাও উপার্জন করতে পারিনি। আবার মহাজনকেও টাকা দিতে হবে। যদিও করোনার এ সময়ে টাকা কমিয়েছে মহাজন। কিন্তু এভাবে তো চললে না খেয়েই মারা যাবো। আমাদের পাশে কেউ দাঁড়ালে রাস্তায় বের হতাম না।’

সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় এক সবজি বিক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, লোকজন রাস্তায় বের হচ্ছে না। ক্রেতাও কম আর আমরা মালামাল নিয়ে বসে আছি। সবাই কয়েকদিনের বাজার করে ঘরে ঢুকে গেছে। কয়েকদিন হয়তো এভাবেই চলবে। কিন্তু ক্রেতা না থাকলে আমরা চলবো কী করে? করোনার কারণে আমাদের মতো মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কমিটির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের নামের তালিকা সম্পন্ন করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি ডিটারজেন্ট পাউডার দেয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।


আরো সংবাদ