০৫ এপ্রিল ২০২০

না’গঞ্জে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

ইউপি সচিবসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
এহসান উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ ইউসুফ - ছবি : সংগৃহীত

ট্রেড লাইসেন্স ও জন্ম নিবন্ধন বাবদ ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাধীন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাপা নেতা এহসান উদ্দিন আহমেদকে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই সাথে চূড়ান্তভাবে তাকে কেন বরখাস্ত করা হবে না সে বিষয়ে জানতে চেয়ে চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অপর এক স্মারকে আত্মসাৎকৃত টাকা আদায়ের জন্য চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ ও সাবেক ইউপি সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ আদেশ প্রকাশ হয়।

এর আগে জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইউসুফকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ এই দুই অর্থ বছরের জন্ম নিবন্ধন ও ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ছয় মাসের ট্রেড লাইসেন্স খাতে আদায়কৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ ও তার সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ। এই দুই খাতে মোট ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় অডিট আপত্তি তোলা হয়। পরে তদন্তে নামে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সংস্থাটির তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জন্ম নিবন্ধন ফি বাবদ ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮০ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একই খাতে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২০ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত টাকা আদায়সহ ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে। একই সাথে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউপি সচিবকে বরখাস্ত করা হলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি আত্মসাৎকৃত টাকাও আদায় করা হয়নি।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসন থেকে এখনো আমি চিঠি পাইনি। জেলা প্রশাসক হয়ে চিঠি আমার কাছে আসবে। চিঠি হাতে পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বন্দর ইউপির সচিব হিসেবে যোগদান করেন মোহাম্মদ ইউসুফ। এখান থেকে তকে বদলি করা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। সর্বমোট দেড় বছর তিনি এই ইউপির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ এই দুই অর্থ বছরের জন্ম নিবন্ধন এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স খাত থেকে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ঘটেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত টাকা আদায়সহ ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে। তবে কোনো এক রহস্যজনক কারণে ইউসুফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও চেয়ারম্যান পদে বহাল থেকে যান এহসান।

তবে সচিব ইউসুফ তখন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেছিলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আমি ছিলাম না এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বদলি হয়ে যাই। সুতরাং তিনটি অডিট আপত্তির একটাতে আমি ছিলাম। বাকি দুটিতে আমি ওই ইউনিয়নে ছিলাম না। ওই সময়গুলোতে যারা সচিব ছিলেন তাদের অভিযুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু তারা অভিযুক্ত হননি। তিনটিতেই আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেছিলেন, আমি যোগদানের পাঁচ বছর আগ থেকেই জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্সের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি চলে আসছিল। আমি এ বিষয়ে জন্ম নিবন্ধনের স্থায়ী কমিটির সভাপতির কাছে লিখিতও দিয়েছিলাম। তিনি ইউএনও অফিসে জমা দিয়েছিলেন। আমি সেখানে সচিব হিসেবে যা যা করার দরকার করেছি। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমি তো কিছু করতে পারি না।

সচিব ইউসুফ অভিযোগ করে বলেন, আমি পুনঃতদন্তের সুযোগে আমি আমার ডকুমেন্ট সাবমিট করেছি। এখন বিভাগীয় মামলা চলছে। তবে চেয়ারম্যান সাহেব নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে আমাকে ফাঁদে ফেলে আমাকে দিয়েই পুরো টাকাটা পরিশোধ করাতে চাইছেন।

এদিকে বরখাস্তের পর চেয়ারম্যানে এহসান একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তিনি লিখেন, বন্দর ইউনিয়নবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। হাজারও প্রমাণ হাতে থাকার পরও আজ সত্য প্রতিষ্ঠায় মনে হয় ব্যর্থ হয়ে গেলাম।

আমি হাল ছেড়ে দেয়ার মতো মানুষ না। আমি অন্যায়ের সাথে আপস করার মানুষ না। আমি দুর্নীতির সাথে আপস করার মতো মানুষ না। আমি মিথ্যা কথা বলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মানুষ না। আমি কারো হক নষ্ট করে অর্থ উপার্জন করার মতো মানুষ না। আমি জীবনে কাউকে এক টাকা ঠকিয়েছি এমন কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না ইনশাআল্লাহ।

আস্থা আর বিশ্বাস ছাড়া পৃথিবীতে কোনো প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না। পিতার ওপর পুত্রের আর পুত্রের ওপর পিতার এবং স্বামীর ওপর স্ত্রী আর স্ত্রীর ওপর তার স্বামীর যদি আস্থা-বিশ্বাস না থাকতে তাহলে পৃথিবীতে থেকে সংসার নামক শব্দটি এতদিনে মুছে যেত।


আরো সংবাদ

১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি শুরু, কুড়িগ্রামে সাধারণ মানুষের ভিড় নবীনগরে দেড় হাজার পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা সাঈদ তাবলিগের সব জামাতকে ঘরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ মানিকগঞ্জে স্বাস্থ্য পরিদর্শক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ঝালকাঠিতে ১০ টাকা দরে চাল বিক্রি শুরু নরসিংদীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১০ বাগেরহাটে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম নিয়ে নড়াইলবাসীর পাশে মাশরাফি কেরানীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত বরগুনায় পিপিই পৌঁছেছে, প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২২ আইসোলেশন বেড কুয়েতসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সকল