১০ এপ্রিল ২০২০

আমের সোনারাঙা মুকুলে স্বপ্ন চাষিদের

শীতের বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আগমন ঘটেছে ঋতুরাজ বসন্তের। আগুনঝরা ফাগুনের আগমনে ফুটেছে শিমুল-পলাশ। গ্রামের মেঠোপথে দূর সীমানা থেকে কানে ভেসে আসে কোকিলের কুহু কুহু কলতান। এরই মধ্যে গাঁদা ফুলের সাথে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুলও। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মুখরিত চারিদিক। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাস আন্দোলিত করে তুলছে মানুষের মন।

ঋতুবৈচিত্রে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়ও লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। বসন্তের ফাগুন আর আমের মুকুল যেন একই সুতোয় গাঁথা। বছরের নির্দিষ্ট এই সময়জুড়ে তাই চাষি তো বটেই, কম-বেশী সব শ্রেণির মানুষেরও দৃষ্টি থাকে সবুজ পাতায় ঢাকা আমগাছের শাখা-প্রশাখায়।

সদ্য মুকুল ফোটার এমন দৃশ্য এখন ইট-পাথরের শহর থেকে শুরু করে বিস্তৃত সাটুরিয়ার গ্রামীণ জনপদে। জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই এখন প্রচুর আমবাগান রয়েছে। ফল হিসেবে আম লাভজনক মৌসুমি ব্যবসা হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে আম বাগানের সংখ্যা। তবে গড়ে ওঠা নতুন আম বাগানগুলো প্রায়ই স্থানীয় জাতের। এছাড়াও সাটুরিয়াতে আমরূপালী, বারি-৪, হাড়িভাঙা জাতের আম চাষ হয়।

বছরজুড়ে চাষিদের নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এখন সাটুরিয়ায় আমের আশানুরূপ ফলন বেড়েছে। এছাড়া এবার পৌষের শেষেই আগাম মুকুল এসেছে সাটুরিয়ার অনেক আম বাগানে। তাই এরই মধ্যে স্বর্ণালী মুকুলে ছেয়ে গেছে সাটুরিয়ার প্রতিটি আম বাগান। ফাল্গুনী হাওয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খাওয়া মুকুলে তাই স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

আমের মুকুলে চাষিরা খুশি হলেও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোপুরিভাবে শীত বিদায়ের আগেই আমের মুকুল আসা ভালো নয়। হঠাৎ ঘন কুয়াশা পড়লেই আগেভাগে আসা মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা ফলনেও প্রভাব ফেলবে।

সাটুরিয়ার পাতিলাপাড়া এলাকার আম ব্যবসায়ী আব্দুল হাই মিয়া বলেন, বছরের এই আম বিক্রি করেই অনেক চাষি মেয়ের বিয়ে দেন, নিজের চিকিৎসা খরচ জোগাড় করেন, বড় ঋণ পরিশোধ করেন, মহাজনের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিয়ে জমি ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। তাই গাছ, মুকুল আর আম অনেকেরই বেঁচে থাকার মূল অবলম্বন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: খলিলুর রহমান বলেন, মাঘের শুরুতে শীতের তীব্রতা ছিল। এরই মধ্যে মুকুল এসেছে অনেক গাছে। এখন কোনো কারণে যদি কুয়াশা পড়ে তাহলে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আবহাওয়া যদি রৌদ্রজ্জ্বল হয় এবং তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়ে তাহলে সমস্যা হবে না।


আরো সংবাদ