০৯ এপ্রিল ২০২০

আজও আমার ভাই হত্যার বিচার পাইনি : তৈমুর

র‌্যালি পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তারা - ছবি: নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ নিট ম্যানুফ্যাক্চারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারের ১৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিশাল শোক রালি বের করা হয়। এ শোক সমাবেশ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী দিবস ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দাকার বলেন, ‘আমার ভাইকে কোনো ব্যক্তিগত কারণে হত্যা করা হয়নি। শুধুমাত্র মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ভাই আইন-শৃঙ্খলার মিটিংয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নাম উল্লেখ্য করেন এবং তারা কে কত টাকা পায় এসব বলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আজও আমার ভাই হত্যার বিচার পাইনি। শুধুমাত্র টাকার কাছে হেরে গেছি। হত্যাকারীরা টাকা দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ চার্জশীট করিয়েছে। তাই আজও বিচার পাইনি। খুনিরা আবারো ঢাকায় ফিরে আমাদের খুন করার হুমকি দিচ্ছে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, আজ যে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারসহ দেশবাসী কথা বলছেন, সেই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার নব্বইয়ের দশক থেকেই সোচ্চার ছিলেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় মাদক ও সন্ত্রাসের গড ফাদারদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। সমাজের ও দেশের চিন্তা করেই একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েও অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। এখনও পর্যন্ত তার হত্যার বিচার পাইনি তার পরিবার। বক্তারা সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের ফাঁসি ও নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করার দাবি জানান।

সাব্বির আলম খন্দাকার গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)  সাবেক সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাসেরও সহসভাপতি ছিলেন।

এর আগে সকালে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইরে সাব্বির আলম খন্দকারের স্মরণে ও খুনিদের গ্রেপ্তার এবং বিচার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সর্বস্তরের সন্ত্রাস বিরোধী জনগণ ব্যানারে মানববন্ধন করে বিএনপির নেতারা।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস, চাঁদা ও মাদকমুক্ত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাসে অনুষ্ঠিত জেলার ৩২টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর মতবিনিময় সভা। এতে শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী ও মাদকব্যবসায়ীদের নাম, ঠিকানা ও তাদের গডফাদারদের নাম প্রকাশ করেন। এর কয়েকদিন পর সকালে হাঁটাহাটির জন্য বের হলে শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরেও একটি গ্রহণযোগ্য চার্জশিট প্রসাশনের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দাকার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আজাদ বিশ্বাস, বিএিনপি নেতা খন্দকার মনিরুল ইসলাম, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শামছুর রহমান বেনু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন মন্তু, আইনজীবী নেতা এড. সরকার বোরহান, এড. হামিদ ভাসানী, এড. শিপলু, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি নাসির উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন প্রমুখ।


আরো সংবাদ