০৫ এপ্রিল ২০২০

তালাবদ্ধ ঘর থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার

নিহত রাজিব ও সোনলী - ছবি: নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের শহরের পূর্ব খাবাসপুরে ঘরের দরজা বন্ধ অবস্থায় এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পূর্ব খাবাসপুরের লঞ্চঘাট মহল্লার শওকত সরদার জানান, বছর খানেক আগে রাজিব রাজিব বণিক (৩৫) ও তার স্ত্রী সোনালী বণিক (২২) আমার বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। রাজিব কলেজে শিক্ষকতা এবং তার স্ত্রী টিউশনি করাতেন জানিয়েছিলেন তারা।

জানা গেছে, রাজিবের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তিনি সদর উপজেলার মমিন খাঁর হাটে অবস্থিত একটি কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সোনালী বণিকের বাড়িও একই উপজেলার বাটিকামারি গ্রামে। তার বাবার নাম খোকন বণিক।

ওই বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া ফারুক শিকদার জানান, সোনালীর মাসী (খালা) সোমবার সন্ধ্যার সময় তাদের ঘরের একটি দরজা বন্ধ ও আরেকটিতে তালা দেয়া অবস্থায় দেখতে পান। বাইরে থেকে রাজিবের স্ত্রীকে ডাকাডাকি করতে থাকেন তিনি। ডাকাডাকির পর সাড়া দেয় না কেউ। তারা দরজাও খোলেননি। পরে বাজার থেকে লোক এনে তালা ভাঙেন। তবে ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় খুলতে পারেননি। এরপর তার মাসী জানালা ভাঙেন। ভাঙা জানালা দিয়ে ঘরের মধ্যে গলায় দড়ি নেয়া অবস্থায় রাজিবের লাশ ঝুলতে দেখেন। আর সোনালীর লাশ বিছানায় পড়েছিল।

ফারুক শিকদারের স্ত্রী আছিয়া জানান, ওই দম্পতি বেশিরভাগ সময় ঘরেই কাটাতো। তারা ব্যবহারে অমায়িক ছিলেন। দুপুরে তাদের দরজাবন্ধ ঘরে দুজনকে ঝগড়া করতে শুনেছেন তার বাচ্চারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা সোনালীর মেসো (খালু) জানান, দুই বছর আগে রাজিব ও সোনালী প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। এরপর থেকে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। সম্প্রতি কথা প্রসঙ্গে রাজিব তাকে জানিয়েছিলেন সে চরের একটি কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন জানান, পুলিশ দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় রাজিবের লাশ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে শয্যায় পড়ে ছিল স্বপ্নার লাশ। যে ঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি ভিতর থেকে বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ