০৮ জুলাই ২০২০

ভালোবেসে বিয়ে, পরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ঢেলে নির্যাতন

ভালোবেসে বিয়ে, পরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ঢেলে নির্যাতন - নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে যৌতুকলোভী এক পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ঢেলে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্বজনেরা নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে মহিলা ওয়ার্ডে ওই গৃহবধূ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে বর্বরোচিত এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সাড়ে চার মাস আগে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমানের (২০) সাথে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের কচুরী গ্রামের মৃত আবুল কাসেমের মেয়ে লাইলী আক্তারের (১৯) বিয়ে হয়। কিন্ত বিয়ের পর থেকেই লাইলীকে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলো স্বামী মিজানুর রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে স্ত্রী লাইলীকে মারপিট শুরু করে মিজানুর। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সে তার স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ঢেলে দেয়। এতে লাইলী যন্ত্রণায় ছটফট ও চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় লাইলী হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনেরা।

নির্যাতিত গৃহবধূ লাইলী আক্তারের বড় ভাই আল আমিন জানান, তিনি রাজধানীর মিরপুরে ফেরি করে মাছ বিক্রি করেন। তার বোন লাইলীও মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতো। প্রায় ছয় মাস আগে মেবাইলে রং নাম্বারের সূত্র ধরে মিজানের সাথে লাইলীর পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে গত রোজার ঈদের একদিন পর মিজানের সাথে লাইলী পালিয়ে যায়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে মাত্র সাড়ে চার মাস আগে তাদের বিয়ে হয়।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের পর থেকে মিজান যৌতুকের জন্য লাইলীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বাবা বেঁচে না থাকায় বোনের সুখের জন্য তিনি তিন দফায় মিজানকে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এরপরও তার বোনের উপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। দিনের পর দিন মোটা অংকের যৌতুকের জন্য মিজান লাইলীর উপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো।

তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লাইলীর শ্বশুরবাড়ির এলাকার এক ব্যক্তির নিকট থেকে মোবাইলে বোনের উপর হওয়া নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কে জেনে তিনি তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে শুক্রবার বিকেলে লাইলীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে লাইলীর অবস্থার অবনতি দেখে রাতে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার ওসি মো: মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত আসামি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ