১৪ জুলাই ২০২০

গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা : স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক

গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা : স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক - নয়া দিগন্ত

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাজিরা গ্রামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত গৃহবধূর নাম চাঁদনী আক্তার (১৫)। পুলিশ রোববার সকালে নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূ চাঁদনীর স্বামী ও তার পরিবারের লোকাজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের আবুল হাওলাদারের মেয়ে চাঁদনীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বালিকা অবস্থায় বিয়ে হয় জাজিরা গ্রামের বাবুল ফকিরের মাদকাসক্ত ছেলে রিয়াদের। ছেলে মাদকাসক্ত ও বখাটে হওয়ায় মেয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি।

বিয়ের পর থেকে নেশার টাকা ও যৌতুকের জন্য গৃহবধূ চাঁদনীকে প্রায়ই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো স্বামীসহ তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। নেশা ও যৌতুকের টাকা না দিতে পারায় শনিবার রাতে চাঁদনীকে পিটিয়ে হত্যা করে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে গৃহবধূর লাশ ফেলে রেখে রোববার ভোরে স্বামী রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন সবকিছু নিয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

সকালে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে সদর থানার পুলিশ নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত গৃহবধূ চাঁদনীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে প্রতিবেশীরা জানান।

নিহত গৃহবধূ চাঁদনীর বাবা আবুল হাওলাদার বলেন, বিয়ের পর থেকেই নেশার টাকা ও যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে মারধর করতো। রোববার সকালে শুনি আমার মেয়েকে মেরে ওর স্বামীর বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সুরতহাল প্রস্তুতকরণের সাক্ষী দুলুফা বেগম বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের নীচের অংশে জমাট বাধা রক্তের দাগ দেখা গেছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মোঃ কামরুল হাসান বলেন, নিহত গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।


আরো সংবাদ