১৩ জুলাই ২০২০

মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

প্রতীকী ছবি - সংগৃহীত

মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত যুবকের নাম হাসান (২৯)। শুক্রবার সকালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের কৈলাইন গ্রামের এই ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান ওই গ্রামের আব্দুল জলিল মনা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের স্ত্রী লাকি বেগম জানান, বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দিনগত রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন হাসান। রাত সাড়ে ১১টায় কেউ একজন ফোন করলে হাসান ঘর থেকে বের হয়ে যান। এরপর সারা রাতেও ঘরে ফেরেননি তিনি। এরপর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় একই গ্রামের রেহান নামে এক শিশু এসে জানায়- হাসান গ্রামের কালভার্টের কাছে পড়ে আছে।

তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার পর হাসান জানায়- মোকতার, ইদ্রিস ও রুবেল নামে তিনজন তাকে ডেকে এনে পিটিয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য হাসানকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল ফয়সল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা যাচ্ছে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। যতদূর জেনেছি হত্যাকারীরা সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি এবং হাসান মাদকের খুচরা বিক্রেতা ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, নিহত হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলার কচুয়া ও চান্দিনা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন : বাগমারায় গরু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা
রাজশাহী ব্যুরো, (১১ এপ্রিল ২০১৯)

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে ইব্রাহীম হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। নিহত ইব্রাহীম উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের কামারবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল দুপুরে ইব্রাহীমকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পার্শ্ববর্তী কালাপাড়া গ্রামে। এরপর পিটিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।

আহত অবস্থায় ইব্রাহীম হোসেনকে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ও শুক্রবার রাতে একই ইউনিয়নের কালাপাড়া গ্রাম থেকে চারটি ও পার্শ¦বর্তী মাঝগ্রাম থেকে আরো চারটি গরু চুরি হয়। এসব গরু চুরির ঘটনায় গরুর মালিক ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি কামারবাড়ি গ্রামের ইব্রাহীম হোসেনকে সন্দেহ করেন। গতকাল দুপুরের দিকে নিজ বাড়ি থেকে ধরে তাকে কালাপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয় ও গণপিটুনি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাগমারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আনোয়ারুল কবীর জানান, একেবারে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে আমাদের কাছে আনা হয়। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ইব্রাহীম হোসেনের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার লোকজন পরিকল্পিতভাবে ইব্রাহীম হোসেনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং হত্যা করা হয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় মজনু নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ