৩০ মে ২০২০

সোনারগাঁয়ে নৌকার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

উপজেলা নির্বাচন
সোনারগাঁয়ে নৌকার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে - নয়া দিগন্ত

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীকের মোশাররফ হোসেনের এজেন্টদের উপর হামলা ও কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোনারঁগা উপজেলায় বাড়ী মজলিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এছাড়া স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে কালাম সমর্থকরা।

নৌকার পোলিং এজেন্ট এবং ভোটাররা অভিযোগ করে বলেন, নৌকার এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে মারধর করে কাগজপত্র রেখে তাদেরকে গেইটের সামনে থেকে বের করে দিয়েছে ঘোড়া প্রতীক তথা কালামের সমর্থকেরা।

এ বিষয়ে থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকেই আমাদের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্রের বাইরে বের করে দেয়া হয়।’

প্রিজাইডিং অফিসার জানান, ‘আমি শুনেছি বাইরে কিছু একটা হয়েছে, তবে কেন্দ্রের ভিতরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’

এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

সোনারগাঁও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি গাজী মজিবুর রহমান জানান, ‘সম্পূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

আরো পড়ুন :
স্বল্প ভোটেও কেন্দ্র দখল : উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপেও ৩০ ডিসেম্বরের প্রভাব
নয়া দিগন্ত ডেস্ক, ২৫ মার্চ ২০১৯
উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে গতকাল রোববার ১১৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আগের দুই ধাপের মতো গতকালও নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। বিএনপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল এ নির্বাচন বর্জন করায় কেবল সরকারি দলের লোকজনই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। কিন্তু এ পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক স্থানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ, গুলি ও ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে প্রার্থী ও পুলিশসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলায় সব কেন্দ্রে আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মারায় এ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ওই উপজেলার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ ও কটিয়াদি সংবাদদাতা জানান, জেলার ১৩টি উপজেলায় ভোটারবিহীন নির্বাচন হলেও কটিয়াদী উপজেলায় রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মারার কারণে সকাল পৌনে ১০টায় উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের সবকটিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনারের বার্তা পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান কেয়া উপজেলার সকল কেন্দ্রে ভোট বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কন্ট্রোল রুমে ফিরে আসার নির্দেশ দেন।
কটিয়াদী উপজেলার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কটিয়াদী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা বলেন, রোববার সকাল ৮টায় এ উপজেলায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে খবর আসতে থাকে রাতেই নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলে উপজেলার ৮৯টি কেন্দ্রের সবকটিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ উপজেলায় কবে ভোট হবে তা পরে জানানো হবে।
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় কোনো নির্বাচনী আমেজ ছিল না। অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের কোনো লাইন চোখে পড়েনি। টুকটাক ভোটার আসছেন, ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের এমন অনাগ্রহ দেখে প্রার্থীসহ তাদের কর্মী-সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অলস সময় পার করছেন। রোববার সকাল থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সরেজমিন গিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। নির্বাচনে টিয়া প্রতীকের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: নেকবর আলী মাস্টার জানান, ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম।
পিরোজপুর ও মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, জেলার মঠবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজউদ্দিন আহমেদের সমর্থকরা হামলা করে নৌকার প্রার্থী হোসাইন মোসারেফ সাকু, হলতা-গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোসহ ১৯ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় গুলিশাখালী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনেও এ দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী আসলাম জমাদ্দার জানান, নৌকার প্রার্থী হোসাইন মোসারেফ সাকু তার সমর্থকদের নিয়ে গুলিশাখালী বাজারে জনসংযোগে গেলে আনারস প্রতীকের আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের সমর্থকেরা পেছন থেকে হামলা করে। দেশীও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোসারেফ সাকুর পায়ে ও হাতে কোপায়। এতে সাকুর ডান হাতের দু’টি আঙুল কেটে গেছে এবং পায়ের গোড়ালিতে কুপিয়ে জখম করেছে। এ ছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন অংশে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলতা-গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোর মাথায় রামদার কোপ লেগে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় মোসারেফ সাকুর আরো ১৭ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মোসারেফ সাকু, রিয়াজুল আলম ঝনো, মো: বাবুল (৪০) ও মোতালেব তালুকদারকে (৪৫) গভীর রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি এম আর শওকত আনোয়ার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলার সব স্থানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ও হামলায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
কক্সবাজার (দক্ষিণ) সংবাদদাতা জানান, নিরুত্তাপ ভোটেও কারচুপি, অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন এবং গুলিবর্ষণ ও হামলাসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের পাঁচ উপজেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে গতকাল কক্সবাজারের পেকুয়া, মহেশখালী, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সবখানেই ভোটার উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। তবে পেকুয়ার মগনামা, টেকনাফ ও রামুর কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বেশি ছিল। এসব কেন্দ্রে ভোট কাস্ট কম করাতে কিছু প্রার্থী কেন্দ্র এলাকায় গুলিবর্ষণ, মারামারি করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পেকুয়ার মগনামায় ইউনিয়নের দক্ষিণ মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় সকাল ৯টায় চারজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধরা হলেনÑ আবুল হোছেন, ছাদেক, বদি, রমিজ। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি কেন্দ্রের বাইরের ঘটনা। কারা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অপর দিকে, ভোট গ্রহণে বিশেষ প্রার্থীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে কক্সবাজার উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে তিনজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা হলেনÑ মাহবুব আলম মাহাবু, এ আর জিহান চৌধুরী ও মো: রাসেল।
রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ধোয়াপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় ভোট দিতে আসার সময় হেলমেট পরা কয়েকজন তরুণ ভোটারদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আবদুল আজিজ ও আবদুর রহমান নামে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে হামলাকারীদের একজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন।
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরে চারটি উপজেলায় কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার সংখ্যা বাড়লেও তা ছিল প্রত্যাশার চেয়েও অনেক কম।
শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নে প্রহলাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৯টায় গিয়ে দেখা গেছে এক ঘণ্টায় এ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২৫টি। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৯৯৮টি। কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য বলতে থাকেন, আল্লাহ কিছু ভোটার পাঠিয়ে দিন। সাংবাদিক ভাইয়েরা এসেছে তাদের ছবি নেয়ার মতো কিছু লোক পাঠিয়ে দিন।
কালীগঞ্জ উপজেলায় কেবলমাত্র মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হওয়ায় সেখানে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। দুপুরে স্বতন্ত্রপ্রার্থী শর্মিলী দাস অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং পুনঃ ভোট গ্রহণের দাবি জানান।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলার নির্বাচনে বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্র ছিল ভোটার শূন্য। জেলার মিরপুর উপজেলার জাসদ সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দুপুরের আগেই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। দৌলতপুর উপজেলার আল্লাহ দরগা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। কুমারখালী, খোকসা, ভেড়ামারা ও সদর উপজেলার বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত একেবারেই ছিল না।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, স্বল্প সংখ্যক ভোটার উপস্থিতির মধ্যে গতকাল শিবালয় উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রেজাউর রহমান খান জানু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য পদগুলোতে ভোটগ্রহণ করা হয়।
তেওতা কেন্দ্রের ভোটার সাইফুল ইসলাম খান জানান, বিগত নির্বাচনে নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার ফলে এ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিবালয় সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার মিনা ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী না থাকা ও বিরোধী দল অংশ না নেয়ায় এ নির্বাচন একপেশে হয়ে পড়েছে।
নড়াইলে ২০ জন আহত
নড়াইল সংবাদদাতা জানান, নড়াইলের কালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক ও বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। দুপুর ১২টার দিকে কালিয়ার নওয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাসহ কয়েকজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষে রাসেল (২২), রাশেদুল (২৫), আব্বাস (২৫), রাইসুল (২৮), আলফু শেখ (৬৫), আনোয়ার (৪৫), মুস্তাইন (৪৭), হাসান শেখ (২২), টিপু মণ্ডল (৫০), সাগর শেখ (৩০), বাদশা শেখ (৫০), মনির শেখ (৩১), হাফিজুর ফকির (৩২), রকিব মীর (৩১), ইসমাইল শেখ (১৯), খাইরুল মোল্যা (৪৮), আলম মোল্যা (৩৮), হান্নান গাজী (৪০) ও বিল্লাল গাজীসহ (২৫) দু’পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মেহেরপুর সংবাদদাতা জানান, মেহেরপুরে তিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গতকাল কেন্দ্রগুলোর চিত্র দেখে মনে হয়েছে ভোটাররা ভোট দেয়ার আগ্রহ হরিয়ে ফেলেছেন। প্রার্থীরা সবাই সরকার দলীয় হলেও সেই দলের ভোটাররাও ভোটকেন্দ্রে আসেননি। সকাল ১০টার দিকে কয়েকটি কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক বুথে তখন পর্যন্ত কোনো ভোট পড়েনি। বাকিগুলোতে ভোট পড়েছে অল্প কয়েকটি করে। এরপর মেহেরপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র। এখানে একই স্কুলে পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের জন্য আলাদা দু’টি কেন্দ্র করা হয়েছে। এ সময় পরিসংখ্যান নিয়ে জানা গেছে মহিলা কেন্দ্রে ২১টি ও পুরুষ কেন্দ্রে ৬৯টি ভোট পড়েছে। যার মধ্যে দু’টি বুথে কোনো ভোট পড়েনি। অন্য দু’টি উপজেলা গাংনী ও মুজিবনগরের চিত্র অনেকটা একই রকম বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মেহেরপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লতিফন নেছা লতা ও মুজিবনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দীন বিশ্বাস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
চন্দনাইশে গুলিতে দুই পুলিশ গুলিবিদ্ধ
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, গতকাল দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৪ উপজেলায় নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। পটিয়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলায় নিরুত্তাপ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলেও চন্দনাইশে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। সকাল সোয়া ৯টায় পূর্ব চন্দনাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম ও কনস্টেবল মোহাম্মদ ফরহাদ (২২) গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে ফরহাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে চমেক হাসপাতাল ও পরে হেলিকপ্টারে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে। ব্যাপক সহিংসতার কারণে এ উপজেলায় পূর্ব চন্দনাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর বরকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ দিকে বেলা ১১টায় পটিয়া রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় ৪ জনকে আটক করা হয়।
সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আটক
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে জাল ভোট দেয়ার সময় এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জীয়নপুরের খা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ঘটনা ঘটে। আটক কর্মকর্তার নাম রুহুল আমিন। তিনি দৌলতপুর ক্ষুদ্র সাথিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
এ দিকে ভোট কারচুপি, কেন্দ্রে যেতে বাধাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে দৌলতপুর উপজেলায় আ’লীগের দুই বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। বর্জনকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান (ঘোড়া) ও জেলা আ’লীগের উপদেষ্টা আবদুল কাদের (আনারস)। ওই উপজেলায় আ’লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম রাজা।
ভোলাহাটে দুই প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ভোলাহাট উপজেলায় আ’লীগ প্রার্থী মো: রাব্বুল হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা ও এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জণের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবর আলী বিশ^াস ও ভোলাহাট মোহবুল্লাহ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম। রোববার দুপুরে ভোলাহাট প্রেস ক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ আ’লীগ প্রার্থী ভোলাহাট মহিলা সরকারি কলেজের প্রভাষক মো: রাব্বুল হোসেন বলেন, আ’লীগের কেউ এ কাজে জড়িত নন।
নরসিংদী সংবাদদাতা জানান, ভোটারশূন্য মাঠে জাল ভোটের মধ্য দিয়ে গতকাল নরসিংদী জেলার ৪টি উপজেলায় তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকালের দিকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে দুপুরের দিকে কিছু ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, জাল ভোট দেয়ার ঘটনায় কয়েকটি কেন্দ্রে উত্তেজনা দেখা দেয়।
নরসিংদী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: মেজবাহ উদ্দিন প্রতিটি উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি কম ছিল বলে স্বীকার করেছেন। বেলাব পাইলট মডার্ন উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে তামিম আহমেদ ও ফয়সাল নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, এজেন্ট বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মেদ ভূঁইয়া (আনারস) এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুল হক খোকন পাটওয়ারী (নলকূপ)।
রামগঞ্জে সিল মারায় আটক ৬
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, সকাল থেকে জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি না থাকলেও দুপুরের পর কেন্দ্রগুলোতে আ’লীগের নেতাকর্মীরা ঢুকে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে সিল মারতে দেখা গেছে। এ সময় জাল ভোট দেয়ার অপরাধে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা ভোটকেন্দ্র থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৬ জনকে আটক করে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। বেলা ১টায় নোয়াগাঁও বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মমিন পাটোয়ারী ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন রানার উপস্থিতিতে দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে হাতাহাতি হয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সিরাজুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার বই নিয়ে সিল মারার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঝালকাঠিতে এক বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোট বর্জন
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির চার উপজেলার ২৩৭টি কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের সাজানো লাইনও দেখা গেছে। অলস সময় পার করছেন ভোট গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এ দিকে অনিয়ম ও কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগে সদর উপজেলায় আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ভোট বর্জন করেছেন। বেলা পৌনে ২টায় তিনি বাউলকান্দা গ্রামের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
উখিয়ায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, উখিয়া উপজেলায় রত্না পালং উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে ব্যালেট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেতু ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিরাপত্তা জোরদার করায় শিক্ষকেরা বুথে গিয়ে আবার ভোট গ্রহণ শুরু করেন। নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উখিয়া উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম মাহবুব, এ আর জিহান চৌধুরী ও মোহাম্মদ রাসেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভোটের দুই দিন আগে আরেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হুদা এবং এরই কিছু দিন আগে আরেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন মেম্বার ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে দু-একজন করে ভোটার ভোট দিতে আসেন। এসব ভোটারের মধ্যে নারীরা বেশি। জেলার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, তালা, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের খবর নিয়ে জানা গেছে সেখানেও ভোটারের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক খুবই কম। তবে প্রার্থীদের নিজস্ব এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি একটু বেশি ছিল।


আরো সংবাদ