উন্নয়ন চাই কিন্তু তা মানুষের ক্ষতি করে নয় : আবুল মকসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাপা’র সহসভাপতি ও বিশিষ্ঠ লেখক বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু তা মানুষের ক্ষতি করে নয়। আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবো, কিন্তু পরিবেশকে অবশ্যই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়াটাকিপারস বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

‘বাংলাদেশে কয়লার ব্যবহার : গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়কারী ও বাপা’র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) অস্ট্রেলিয়া শাখার সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান।

সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, সভ্যতার ইতিহাস ও কয়লার ইতিহাস সমর্থক। মানব সভ্যতার ইতিহাসে কয়লার ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বর্তমানে কয়লা ছাড়াও আরো অনেক উপাদান সভ্যতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। কয়লা ছাড়াও উন্নয়ন সম্ভব। উন্নয়নে কয়লা যতটা না ভূমিকা রাখছে, তার চেয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছে বেশি। উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নত দেশসমূহে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে চীন সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ যদি বলে আমরা ধারাবাহিকভাবে মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হব, তা হবে বড় ধরনের বুদ্ধিহীনতার পরিচয়। কোনো প্রকল্পই কয়লাভিত্তিক করা যাবে না, এটাই সরকারের কাছে আবেদন।

বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) অস্ট্রেলিয়া শাখার সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান বলেন, অন্যান্য বক্তারা যেসব বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই বিষয় ও তথ্যগুলো সঠিক মনে হলে মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। অস্ট্রেলিয়া ঘোষণা দিয়েছে, কয়লার পরিবর্তে শিগগিরই বিদ্যুৎ খাতে সোলার পাওয়ার ও অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ার শহর ক্যানবেরা ২০২০ সালের মধ্যে ১০০% সোলার পাওয়ার ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে সারা বিশ্ব কয়লার বিকল্প খুঁজছে, সেখানে আমরা সবচেয়ে নিম্নমানের কয়লা আমদানি করছি।

ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, যদি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে পুরাতন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কোনো ক্ষতি না হয়ে থাকে, তাহলে রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন কেন। এতে মনে হচ্ছে সরকারের বক্তব্য স্ববিরোধী এবং সরকার অনেক তথ্য গোপন করছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দূষণ হবে না, এটা অবান্তর।

শরীফ জামিল বলেন, কয়লা একটি মারাত্মক দূষক। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যান্য উপায় থাকা স্বত্বেও কয়লার ব্যবহার ও অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নে সুন্দরবন, কুয়াকাটা ও কক্সবাজার এর মত অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদসমূহের উপর হুমকি সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগজনক। কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এই ছোট্ট কিন্তু জনবহুল দেশটির উন্নয়ন আকাংখা মেটানোর এই প্রক্রিয়া আমাদের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে। সারা বিশ্বের কয়লা বিরোধী অবস্থান একবারেই মূল্যহীন, এটা ভাবা অবান্তর। আমরা কোনোক্রমেই বিদ্যুৎ ও উন্নয়নের বিরোধী নই-আমরা শুধু এর প্রবল নেতিবাচক দিকটির প্রতি সরকার, রাজনীতিবিদ ও আপামর দেশবাসীর জরুরী দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.