নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি

বিশেষ সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আজ বোরবার। এ উপলে গতকাল জাতীয় প্রেস কাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি। মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে সবেেত্র নারীর নিরাপদ, নির্বিঘœ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি দেশে উদ্বেগজনকভাবে ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং তারপর হত্যার মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকার সমালোচনা করা হয়। বক্তারা প্রয়োজনে ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তির দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির সচিবালয় সম্পাদক ফেরদৌস আরা রুমী, বাংলাদেশ মাস পিপল জাস্টিস পার্টির সভাপতি মো: হাসান, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি জায়েদ ইকবাল, কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, বাংলাদেশ কৃষাণী সভার কদভানু ও জাতীয় কমিটির সভাপ্রধান শামীমা আক্তার।
এবার দেশের ৫০টির বেশি জেলায় উদ্যাপন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। এবারো সারা দেশে র‌্যালি, সেমিনার, মানববন্ধন, মেলা আয়োজন এবং বিভিন্ন েেত্র অবদান রাখায় গ্রামীণ নারীদের সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবটি উদ্যাপন করা হচ্ছে।
ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে অন্তত দুইটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে মামলা হচ্ছে অর্ধেক ঘটনার। আইনি ও নানা জটিল প্রক্রিয়া এসব মামলার বেশির ভাগই আলোর মুখ দেখছে না। অন্য দিকে আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বেশির ভাগ আসামি। পরিসংখ্যান বলছে, ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার হার মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ ভাগ। যার মধ্যে সাজা পাচ্ছে শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়ার কারণে ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, আত্মহত্যা এ ঘটনাগুলো বেড়েই চলছে।
জায়েদ ইকবাল খান বলেন, গরিব অভিভাবকেরা অনেক সময় অল্প টাকায় আসামির সাথে আপস করে মামলা তুলে নেন। অনেক সময় সম্মান খোয়ানোর ভয়ে ভিকটিম বা তার পরিবার মামলা করেন না। মামলা করলেও আসামি পরে আইনজীবীর নোংরা জেরায় বাদিপ পিছিয়ে যান।
বদরুল আলম বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে এটি পালিত হচ্ছে। ২০০৭ সালে দিবসটি বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করে। বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ নারীর নানা সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
শামীমা আক্তার বলেন, বেশির ভাগ শিশু ধর্ষণের ঘটনা পর্যবেণ করে দেখা গেছে, ধর্ষণকারীরা সম্পর্কে আত্মীয়, পাড়াপ্রতিবেশী বা পরিবারের পরিচিতজন। এ ছাড়া ১৩ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের ধর্ষণ করা হয়েছে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বা কোনো নির্জন স্থানে বা বাড়িতে একা পেয়ে। এ কারণে ছোটবেলা থেকে পরিবারে ছেলে শিশুদের নৈতিক শিা দেয়া, নারীকে সম্মান করা, তার নিরাপত্তা বিঘিœত হলে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতায় বড় করতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.