ভারী বর্ষণে লাখো মানুষ পানিবন্দী

পটিয়া-চন্দনাইশে তিনজনের মৃত্যু; রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে ফের যান চলাচল বন্ধ
নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পটিয়া-চন্দনাইশে ঢলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণে মাইজদী শহর ও হাতিয়া হাঁটু পরিমাণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ দিকে ভারী বর্ষণের কারণে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আবারো যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়ায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গাজীপুর এলাকার কলঘেষিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রামের নি¤œাঞ্চল ও দেড় হাজার বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, তিন দিনের ভারী বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্থায়ীভাবে বন্যায় রূপ নিচ্ছে। এতে উপকূলীয় ও নি¤œাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ কার্যত পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ দিকে ২৩ জুলাই একই দিনে ঢলে ভেসে গিয়ে পটিয়ায় সাজ্জাদ হোসেন (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য় এক ছাত্র, বোয়ালখালীতে পাহাড় থেকে আসার পথে মতিউর রহমান (৩২) এবং সাতকানিয়ায় মাছ ধরে ফেরার পথে আইয়ুব আলী (৫২) মারা গেছেন।
ওই দিন বিকেলে পটিয়া কচুআই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে চক্রশালা ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের আষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদ শ্রিমাই খালের পাড়ে এলাকার মানুষের ঢলে ভেসে যাওয়া গাছের গুঁড়ি তোলার দৃশ্য দেখছিল। এ সময় সে খালপাড়ের একটি গাছসহ নিচে দেবে যায়। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিকেলে বোয়ালখালীর করলডেঙ্গার তালুকদারবাড়ির ইউসুফ আলীর ছেলে মতিউর রহমান পাহাড় থেকে লেবু নিয়ে আসার সময় ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। একই সময়ে সাতকানিয়া পৌর এলাকার সমুদারপাড়ার মৃত সাচি মিয়ার ছেলে আইয়ুব আলী মাছ ধরে সাঁতার ডলু নদী পার হওয়ার সময় পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বোয়ালখালী ও সাতকানিয়ায় তলিয়ে যাওয়া দুইজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক’দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সিন্দুরপুর, গৌতমখালী, কৈখালী, শরীফপুর, রঘুনাথপুর, রাজাপুর, গনিপুর ও সেকান্দরপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওইসব এলাকায় অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ক’দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে ওইসব গ্রামের বসতবাড়ি, হাটবাজার ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। আমন আবাদের প্রায় ৪০ হেক্টর বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বল্প কয়েকটি পরিবার শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিলেও অনেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নেয়া শুরু করেছে। পুকুর ও মাছের ঘের থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এ দিকে রোববার সন্ধ্যায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম ভূঞা। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: নুর নবী ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, চার দিন টানা ভারী বর্ষণের পর দুই দিন বিরতি দিয়ে গত রোববার রাত থেকে গতকাল সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নোয়াখালীর ৯টি উপজেলায় ফের টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়ক ছাড়া আর প্রায় সব সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় পানিতে নিমজ্জিত হয়। এ দিকে টানা বর্ষণ ও সামুদ্রিক জোয়ারে হাতিয়া উপজেলার পৌরসভাসহ প্রায় সব ক’টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। নি¤œচাপের প্রভাবে জেলার ৯টি উপজেলায় গত বুধবার রাত থেকে গত শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকে। শনিবার ও রোববার দিন বৃষ্টি বন্ধ হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু রোববার রাত থেকে ফের টানা বর্ষণ শুরু হয়। এতে জেলা শহর মাইজদীর জেলা প্রশাসক সড়ক, কোর্ট মসজিদ সড়ক, রেকর্ড রুম সড়ক, কালেক্টরি ভবন সড়ক, হাজী কাজিম উদ্দিন সড়ক, জেনারেল হাসপাতাল সড়ক, মুক্তার মসজিদ সড়ক, সরকারি আবাসিক কলোনি সড়ক, ইসলামিয়া সড়ক, জজকোর্ট সড়ক, ফকিরপুর, জয়কৃষ্ণপুরসহ প্রায় প্রতিটি সড়ক হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে গেছে। নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মাস্টারপাড়া, ল’ইয়ার্স কলোনি, হরিনারায়ণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধাতার কারণে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
এ দিকে টানা বর্ষণ ও সামুদ্রিক জোয়ারে হাতিয়া উপজেলা সদর, পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড নিঝুমদ্বীপ, নলচিরা, তমরুদ্দি, চরকিংসহ ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি ইউনিয়ন পানিতে ডুবে গেছে। এতে শত শত মৎস্যখামারের মাছ ভেসে গেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব ক’টি ইউনিয়নের শাখা সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। সেনবাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশির ভাগ রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার কাঁচা ও পাকা অনেক সড়ক প্লøাবিত হয়। এসব এলাকার অনেক বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে এবং অনেক বাড়িঘর ডুবোডুবো ভাব।
রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা জানান, রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার এক মাস তিন দিন পর রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে মাটি ভরাটের মাধ্যমে সংযোগ পুনঃস্থাপন করে হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হলেও রাঙ্গামাটিতে গত তিন দিনের টানা বৃষ্টির কারণে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়ির মোনতলীতে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বৃষ্টির পানির তোড়ে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় আবারো যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
অপর দিকে প্রবল বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট সামান্য খুলে দিয়ে পানি ছাড়া হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: এমদাদ হোসেন এ কথা নিশ্চিত করে জানান, আবারো প্রবল বৃষ্টির কারণে এ সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আপাতত এখন আর কোনো যান চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে যেকোনো সময় সড়কটিতে যানবাহন চলাচল শুরু হবে বলে তিনি জানান।
এ দিকে কয়েক দিন ধরে রাঙ্গামাটিতে আবারো অতি বর্ষণের ফলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাহাড়ের ঝুঁকিপর্ণ এলাকা থেকে সরে আসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করা হচ্ছে। সতর্কতামূলক মাইকিংয়ের কারণে শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানসহ বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। অতি বর্ষণে শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসা সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন রাঙ্গামাটি পৌরসভার কাউন্সিলররা।
উল্লেখ্য, ১৩ জুন একটানা ভারী বর্ষণ ও প্রচ বজ্রপাতের কারণে রাঙ্গামাটি শহরে ঘটে যায় স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ধস। ভয়াবহ পাহাড়ধসের ফলে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের খামারপাড়া ও কুতুকছড়ির মোনতলা এলাকার ৬ কিলোমিটার এবং ৮ কিলোমিটার অংশে রাস্তার দু’টি অংশে বিশাল এলাকা ধসে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দীর্ঘ দিন পর এই রাস্তার সংযোগ করায় এলাকার জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এক মাস রাস্তা বিচ্ছিন্ন থাকায় রাঙ্গামাটির সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় খাগড়াছড়ি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু ও কুতুকছড়ি এলাকাবাসীর।
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, গত কয়েক দিনের অবিরাম টানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বেশির ভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। শঙ্খ ও ডলু নদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত, মৎস্য খামার ও পুকুর। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কেরানীহাট সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়কের বিভিন্ন স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শঙ্খ ও ডলু নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়ি শঙ্খ ও ডলু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া, ছদাহা, ঢেমশা, বাজালিয়া, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, পুরানগড়, নলুয়া, পশ্চিম ঢেমশা, এওচিয়া, সোনাকানিয়া, চরতি, কাঞ্চনা ও সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকার লোকজন ইতোমধ্যে নৌকা নিয়ে যাতায়াত করেছেন। উপজেলা সদরের সাথে অনেক এলাকার লোকজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বেশির ভাগ এলাকার ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শঙ্খ ও ডলু নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। শঙ্খ ও ডলু নদীর তীরবর্তী অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বন্যার পানিতে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের দস্তিদারহাট, বাজালিয়ার মাহালিয়া ও বড়দোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে চার-পাঁচ ফুট উঁচু হয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত রোববার দুপুর থেকে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপর দিকে, সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়কের রহমত বেগের টেক, আনু ফকিরের দোকান, সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে, কামারের ভাঙ্গা, কাঞ্চনা জোট পুকুরিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা তিন-চার ফুট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। একটানা বিরতিহীন বৃষ্টির ফলে বন্যার পানি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া এলাকার লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছে। বেশির ভাগ এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শঙ্খ ও ডলু নদীর পানি বিপদসীমার ৫-৬ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের ফলে কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি, কাপ্তাই বাঁধের পানি ছেড়ে দেয়ার কারণে আনোয়ারা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ বিশেষ করে আনোয়ারা উপজেলা সদর, চাতরী, পরৈকোড়া, জুঁইদ ী, বারখাইন, রায়পুর ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। শতাধিক পরিবার তাদের খাবার রান্নাবান্না করতে না পারায় অনাহারে ও অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। এসব এলাকা প্লাবিত হওয়ার কারণে ফসল ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকায় সরকারি কোনো ত্রাণসামগ্রী না পৌঁছার কারণে আসহায় মানুষ অনাহাবে-অর্ধাহারে জীবন যাপন করছে।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গাজীপুর এলাকার কলঘেষিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রামের নি¤œাঞ্চল ও দেড় হাজার বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের কলঘেষিয়া নদীর এ বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শতাধিক এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত বাঁধ সংস্কারের প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে প্রবল জোয়ারের চাপে কলঘেষিয়া নদের প্রায় এক শ’ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে শ্রীউলা ইউনিয়নের গাজীপুর, কাঁকড়াবুনিয়া ও বলাডাঙ্গা গ্রামের নি¤œাঞ্চল, দেড় হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়।
স্থানীয় শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল ঘটনাস্থল থেকে জানান, সেখানে শতাধিক এলাকাবাসীকে নিয়ে বেড়িবাঁধটি সংস্কারের প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাঁধটি সংস্কার করা না গেলে পরবর্তী জোয়ারে শ্রীউলা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অবহিত করার পরও এখন পর্যন্ত সেখানে কেউ পরিদর্শনে যাননি।
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, অমাবশ্যায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং কয়েক দিন ধরে অবিরাম ভারী বর্ষণে মঠবাড়িয়া উপজেলার আমনের বীজতলা, মছের ঘের এবং নি¤œাঞ্চল প্রায় ১-২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আগামী আমন আবাদ এবং ঘেরের মাছের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। উপজেলার নি¤œাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়ির আঙিনা এবং রবি শস্যের ক্ষেতও পানির নিচে তলিয়ে আছে।
জানা গেছে, ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে বলেশ্বর নদী তীরবর্তী তুষখালী, বড় মাছুয়া, বেতমোর রজপাড়া ও সাপলেজা ইউনিয়নসহ মিরুখালী, গুলিশাখালী ও ধানীসাফা ইউনিয়নের বেশির ভাগ আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।
উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী তীরবর্তী কচুবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো: ফরহাদ জানান, তার প্রায় ৭০ শতাংশ আমনের বীজতলা ১-২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি আর ৩-৪ দিন থাকলে বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। বীজ নষ্ট হলে আমন আবাদ হবে বলে তিনি জানান। মিরুখালী ইউনিয়নের ছোট শৌলা গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক মো: জালাল খান জানান, তার প্রায় এক একর জমির বীজতলাসহ পাশের বাঁশবুনিয়া, বড়শৌলা ও দেবীপুর গ্রামের অধিকাংশ বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এ দিকে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের সাপলেজা গ্রামের মৎস্য ঘেরের মালিক মো: মোবারক হাং জানান, তার প্রায় ৭ একর জমিতে ৫টি মাছের ঘেরে ১০ লাখ টাকার মাছ আছে। ঘেরের সীমানা বাঁধ ছুঁই ছুঁই পানিতে অর্ধলাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানি আরো বাড়লে ঘেরের মাছ রাখা যাবে না বলে তিনি জানান।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.