ঢাকা, শনিবার,০৬ জুন ২০২০

খুলনা

চুরি হওয়া শিশু উদ্ধার হয়নি, তদন্ত কমিটি

যশোর অফিস

১০ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৪:৩১


প্রিন্ট
মায়ের আহাজারি, (ডানে) হারিয়ে যাওয়া শিশু

মায়ের আহাজারি, (ডানে) হারিয়ে যাওয়া শিশু

যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ড (প্রসূতি ওয়ার্ড) থেকে কৌশলে নিয়ে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় এক নারী। এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এদিকে, শিশু চুরির ঘটনায় ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কলসালটেন্ট আব্দুর রহিম মোড়লকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শিশু চোর সন্দেহে উপস্থিত লোকজন মহিলা লীগের যে নেত্রীকে পুলিশে দিয়েছিল, সেই মমতাজ পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

চুরি হওয়া শিশুটি যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া এলাকার সাইদুল ইসলাম-রুপালি খাতুন দম্পতির। একদিন বয়সী একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই দম্পতি। প্রসূতি রুপালি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাতে তিনি ছেলেসন্তানটিকে প্রসব করেছিলেন।

কান্নায় ভেঙে পড়া রুপালি জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লেবার ওয়ার্ডে তার শাশুড়ি সখিনা বেগমের কোলে বাচ্চাটি ছিল। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী এসে তাদের বলেন, তার কোনো সন্তান নেই। বাচ্চাটিকে তিনি একটু কোলে নিতে চান। রুপালি বাচ্চাটিকে নিষেধ করা সত্ত্বেও পীড়াপীড়ির মুখে তার শাশুড়ি সখিনা সরল বিশ্বাসে শিশুটিকে ওই নারীর কোলে দেন। ওই নারীর কোলে দেওয়ার কিছু সময় পর সখিনা বাচ্চাটির খোঁজ করতে থাকেন। কিন্তু গোটা ওয়ার্ড খুঁজেও বাচ্চাসহ ওই নারীকে আর পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাসপাতাল চত্বওে লোকসমাগম ঘটলে মমতাজ পারভীন নামে এক নারী হাজির হন। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট না করে শিশু চোরকে বাইরে খোঁজ করার জন্য বলেন। তখন সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে শিশু চোর হিসেবে সন্দেহ করেন। হাসপাতালের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা মমতাজকে আটক করেন। পরে কোতয়ালী থানার এসআই সুকুমার কু-ু হাসপাতালে গিয়ে মমতাজকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। মমতাজ নিজেকে মহিলা লীগ জেলা কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং ‘শুকতারা’ নামে একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন।

এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে জানিয়ে ডা. বেনু বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কলসানটেন্ট আব্দুর রহিম মোড়লকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়েদুজ্জামান ডিটু ও শিশু বিভাগের সিনিয়র কলসানটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমান। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে অবহিত করা হয়েছে।’

এর আগে গত বছরের ১৯ নভেম্বর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে নয়দিনের একটি শিশু চুরি হয়েছিল। ঘটনার পাঁচ মাস পর কেশবপুর থানা পুলিশ ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে মা-বাবার কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫