বায়তুর রউফ মসজিদ

আহমেদ ইফতেখার
মসজিদের শহর ঢাকার একটি অনন্য স্থাপত্যশৈলীর মসজিদ হলো বায়তুর রউফ মসজিদ। স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের নকশায় এটি নির্মিত হয়েছে। ঢাকার দণিখান থানার ফায়েদাবাদে অবস্থিত এই মসজিদের নকশার জন্য মেরিনা অর্জন করেছেন সম্মানজনক আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার। আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিকে গিয়ে রেললাইন পেরিয়ে বায়তুর রউফ মসজিদটির অবস্থান। এর স্থাপত্যের বিশেষ দিক হলো, এর বায়ু চলাচলব্যবস্থা ও আলোর চমৎকার বিচ্ছুরণ মসজিদের পরিবেশকে দেয় ভিন্ন মাত্রা। ৭৫৪ বর্গমিটারের মসজিদটির বিশেষত্ব হলো, এখানকার মসজিদের পরিচিত চিত্র ডোম বা মিনার নেই। চতুর্দিকে আটটি পিলারের ওপর এটি তৈরি। এর নকশার বিশেষত্ব হলো, কিবলার দিকে ১৩ ডিগ্রি কোনাকুনি করা একটি থাম। আলো প্রবেশের জন্য চারদিকে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সুলতানি আমলের মসজিদের অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে এর স্থাপত্য। মসজিদের ইমাম দ্বীন ইসলাম জানান, এই মসজিদে প্রতি জামাতে ৪০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করেন, ঈদুল আজহায় এখানে ৬ শতাধিক মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়তে পারেন। 
অপরূপ এই মসজিদ সম্পর্কে দণিখান এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, দেশের অনেক এলাকায় মসজিদ দেখেছি। অনেক ঐতিহাসিক মসজিদও দেখেছি। কিন্তু বায়তুর রউফ মসজিদ অনেকটা আলাদা। প্রাকৃতিক পরিবেশের বিষয়গুলো অনেক চমৎকারভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। অনেক আলো-বাতাস রয়েছে। শীত বা গরমে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব বোঝা যায় না মসজিদের ভেতর।
মসজিদের স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম মসজিদটির বিশেষত্ব সম্পর্কে জানিয়েছেন, মসজিদটি তৈরি হয়েছে একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। প্রচলিত মসজিদগুলোর ধরন থেকে আলাদা। আর মসজিদটি নির্মিত হয়েছে স্থানীয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে, অংশগ্রহণমূলক ধারণা থেকে। খরচও এসেছে সবার কাছ থেকে। পরিবেশবান্ধব এবং আলো-বাতাসের বিষয়টি মাথায় রেখে এর ডিজাইন করেছি। ইতিহাস, সংস্কৃতি, আবহাওয়াসহ নানা বিষয় মাথায় রেখে এর নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদে ব্যবহৃত সব উপকরণই স্থানীয়। ছবি: মুস্তফা রাজি

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.