উপগ্রহ কূটনীতি ও বিচার বিভ্রাট

অন্য দৃষ্টি
জসিম উদ্দিন

ভারতের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম রহস্যময় আচরণ করে। এ কারণে সবচেয়ে কাছের হয়েও দেশটি বাংলাদেশীদের কাছে অপরিচিত থেকে যাচ্ছে। নেতিবাচক খবর (মিডিয়ার দৃষ্টিতে) আড়াল করে দেয়া হচ্ছে। ইতিবাচক খবর (মিডিয়ার দৃষ্টিতে) প্রয়োজনের তুলনায় জোর দিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের খবর আমরা দিতে নারাজ। স্কুলে শিশুদের টিফিনে আমিষ থাকা চলবে না, দাড়ি রাখা যাবে না, যোগির মতো চুল কামিয়ে হাজিরা দিলে ‘বহুত খুশি’। অন্য দিকে নির্বাচনী জয়ের উত্তেজনায় কসাইখানায় হামলা, এর সাথে জড়িতদের মারধর, বরযাত্রীরা মেহমানদারিতে গরুর গোশতের রসনা না পেয়ে বিয়ে ভাঙার খবর চটকদার আইটেম হিসেবেও জায়গা পাচ্ছে না। তিনিই ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি, যিনি, গো-মাতার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করছেন। একই সময় ওই প্রদেশে মৃত ছেলের লাশ কাঁধে করে বাড়ি ফিরতে দেখা যাচ্ছে বাবাকে। লাশ বহন কিংবা মুমূর্ষু রোগীর জন্য প্রদেশটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারেনি।
এসব খবর যখন বাংলাদেশী মিডিয়ায় উধাও তখন উগ্রবাদের উত্থানে তছনছ পাকিস্তানের সব নেতিবাচক খবর আমাদের পছন্দ। এই দেশটি আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে, তাদের সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এরা এখন আমাদের থেকে এতটাই দূরে মাঝখানে বড় দেশ ভারত নিজেই বাফার স্টেট। আমাদের মিডিয়া দেখলে মনে হতে পারে, পাকিস্তানিরা এখনো আমাদের লাগোয়া সীমান্তে রয়েছে। তারাই কারণে-অকারণে বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। বাংলাদেশের মিডিয়ার সুস্থ বিস্তারের জন্য উপমহাদেশের দুটো দেশের ব্যাপারে নির্মোহ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক গভীর করার জন্য মিডিয়ার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রক্ষেপণ জরুরি। বাস্তবতা হচ্ছে, দুটো দেশের ব্যাপারে খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে বৃহত্তর মিডিয়া নিজস্ব সেন্সর প্রয়োগ করেই চলেছে।
একটি পত্রিকা শিরোনাম করেছে ‘দণি এশিয়াকে বদলে দিচ্ছে মহাকাশ কূটনীতি’। এটি ছিল পত্রিকাটির প্রথম পাতায় গুরুত্বের সাথে দেয়া একটি সংবাদ বিশ্লেষণ। আশাজাগানিয়া ইতিবাচক শিরোনাম এবং এরপর প্রথম প্যারা পড়েই মনে হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বড় একটি উপহার নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সামনে হাজির হয়েছেন। তিনি বড় ধরনের আর্থিক গচ্চা দিয়ে ছোট ছোট দেশগুলোর বড় কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন। খবর বিশ্লেষণটির যতই বিস্তারিত বিবরণ পাঠ করা হবে ততই শিরোনাম ও প্রথম প্যারার সাথে এমন মানসিক চিন্তার বিপরীত প্রতিফলন পাওয়া যাবে। সংবাদ প্রক্ষেপণের এমন নীতি কিভাবে সঙ্গত হতে পারে, সেই প্রশ্ন পাঠক তুলতে পারেন।
উপগ্রহটির পেছনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্লেষণে লেখা হয়েছে, ভারতের এই দক্ষিণ এশীয় উপগ্রহটি আসলে হওয়ার কথা সার্ক উপগ্রহ। এটির সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০১৪ সালে সার্কের কাঠমান্ডু শীর্ষ বৈঠকে। ভারত বলেছে যে, পাকিস্তান এই উপগ্রহে অংশগ্রহণের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সিএনএনে দেয়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি তুলে ধরে লেখা হয়েছে, পাকিস্তান শুরুতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু ভারত সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজটি করতে রাজি না হওয়ায় সার্কের ছায়ায় তা করা গেল না।
পত্রিকাটি লিখেছে, ‘বাস্তবতা একেবারেই আলাদা।’ অর্থাৎ বিশ্লেষণকারীর মন্তব্য পাকিস্তানের অবস্থানটি একেবারেই সঠিক নয়। এরপর লিখেছে, গত মার্চে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় যে ভারতের দণি এশিয়া উপগ্রহে বাংলাদেশ অংশ নেবে। তার তিন দিন পর ২৩ মার্চ ঢাকায় বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করলেন। পর্যায়ক্রমে ভারতের উদ্যোগে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে অন্য ছয়টি দেশও এই উপগ্রহে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর পত্রিকাটি একটি প্রশ্ন তুলেছে, যে সাতটি দেশ এতে অংশ নিলো, তারা কি কোনো নতুন ফোরাম প্রতিষ্ঠা করল? আরো একটু ব্যাখ্যা করে বলা হলো, এই উদ্যোগ যে প্রশ্নের জন্ম দিয়ে গেল তা হচ্ছে, আমরা কি একে এখন সার্কের মৃত্যু ঘোষণার একটি স্মারক হিসেবে দেখব?
পাঠকেরাও প্রশ্ন তুলতে পারেন, যেভাবে সংবাদ বিশ্লেষণে এই উপগ্রহে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে হাইলাইট করা হয়েছে তা কি আসলে তত বড় একটা জিনিস? সংবাদ বিশ্লেষণের দ্বিতীয় প্যারাতেই এর উত্তর অনেকটাই রয়েছে। দণি এশীয় উপগ্রহে ভারতের খরচ হয়েছে সাড়ে ৪০০ কোটি রুপি। মার্কিন ডলারে রূপান্তর করলে এ খরচ সাত কোটি রুপি হয়। হিসাব মতে অনেক কম খরচে বিশাল দেশ ভারত একটা বিরাট কিছু করে ফেলেছে! এর জন্য তাকে মাত্র সাত কোটি ডলার খরচ করতে হলো। যেখানে এই পত্রিকার হিসাবে বাংলাদেশ যে কৃত্রিম উপগ্রহ মহাশূন্যে স্থাপন করতে যাচ্ছে তার খরচ পড়ছে এর পাঁচ গুণের বেশি। সাড়ে ৩৭ কোটি ডলার। বাংলাদেশী টাকায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে স্থাপন করতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ।
এই পত্রিকাটি প্রতিবেদনের শেষের দিকে লিখেছে, বিশেষজ্ঞ অভিমত হচ্ছে, এই উপগ্রহের কোনো সুফল আমাদের এখনই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাহলে পরে কোন সময় এটি আমাদের উপকারে আসবে? এই প্রশ্নটি পাঠকের হতে পারে। কারণ আর কিছু দিনের মধ্যে আমাদের বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ মহাকাশে অবস্থান নেবে। সেটির কার্যক্ষমতা নিঃসন্দেহে ওই উপগ্রহের চেয়ে বেশি হবে। কারণ এটির খরচ পড়ছে ভারতীয় উপগ্রহ স্থাপনের পাঁচ গুণেরও বেশি। তবে একটি কথা এখানে স্মরণ করিয়ে দেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে পাবলিক মানি খরচের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নেই। ইচ্ছেমতো প্রকল্পব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে ব্যয়ও বাড়িয়ে নেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে একটি সন্দেহ থেকে যায় বঙ্গবন্ধু উপগ্রহটি প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় উপগ্রহের তুলনায় পাঁচ গুণ শক্তিশালী আদৌ হবে কি না। এ ক্ষেত্রে কিছুটা আশা করা যেতে পারে, এ কারণে যে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া উপগ্রহ আয়োজনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি করা হবে না।
পত্রিকাটি বিশেষজ্ঞদের বরাতে বলছে, যে কাজগুলো ভারতীয় উপগ্রহটি করবে বা তা থেকে যেসব তথ্য-উপাত্ত ভারতের প্রতিবেশীরা পেতে পারে, সেগুলো সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত উপগ্রহ প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে থাকে। ভারতের এ উপগ্রহ টেলিযোগাযোগ, সম্প্রচার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আবহাওয়া পূর্বাভাস দেয়ার কাজে লাগবে। আমরা এ সেবাগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিচ্ছি। তবে এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের মজুদ ম্যাপিং করা যাবে। আমাদের সম্পর্কে অনেক কিছুই আমরা জানার আগে ভারত জানতে পারবে। কৃত্রিম উপগ্রহের পুরো মেয়াদকালেই আমরা যেকোনো ধরনের তথ্যই চাই না কেন, তা ভারতের কাছে অজানা থাকবে না। এর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি হচ্ছে ভারতের শ্রীহরিকোটায়। আমাদের জন্য গোপন নিরাপদ কোনো চ্যানেল এতে থাকছে না। এতে করে এ উপগ্রহে অংশ নেয়ার মধ্যে কার লাভ হলো? শিরোনামের ইতিবাচক আবহের সাথে এই তথ্য-উপাত্ত কোনোভাবে মিলছে না। তাহলে কি সংবাদ বিশ্লেষণটি দিয়ে ভারতীয় উদ্যোগকে স্যাটায়ার করা হলো!
বাংলাদেশ এই সুবিধা নিতে চাইলে তাকে একটি আর্থস্টেশনের প্রয়োজন হবে। সেটি উষ্ণ বন্ধুত্ব ও দৃঢ় কূটনৈতিক তাড়নায় ভারত করে দেবে এমন প্রতিশ্রুতি দেশটি দেয়নি। এর মধ্যে আমাদের যেসব স্টেশন রয়েছে সেগুলো এর জন্য উপযুক্ত নয়। বিটিআরসির চেয়ারম্যান পত্রিকাটিকে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু উপগ্রহের জন্য গাজীপুরে একটি ভূকেন্দ্র নির্মাণের কাজ হচ্ছে। এটি শেষ হতে আরো পাঁচ মাস লাগবে। দণি এশীয় উপগ্রহ থেকে এখনই স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। টিভি চ্যানেলের সম্প্রচারকাজে এই উপগ্রহ ব্যবহার করতে পারবে।
সংবাদ বিশ্লেষণের শেষে যে বিষয়টি দাঁড়িয়েছে তা হলো এই কৃত্রিম উপগ্রহে আমাদের অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। হিসাব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে এটি আসলে আমাদের কোনো উপকারে আসছে না। ভারতীয়দের উপকারে আসছে, কারণ আমাদের যাবতীয় গোপন তথ্য তারা জেনে যাচ্ছে। অন্য দিকে বঙ্গবন্ধু উপগ্রহের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা এর চেয়ে বেশি হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বঙ্গবন্ধু উপগ্রহের অতিরিক্ত হিসেবে আমরা এটি ব্যবহার করব। দণি এশিয়াকে বদলে দিচ্ছে মহাকাশ কূটনীতি, এমন শিরোনামের সেভাবে কোনো সার্থকতা দেখা গেল না। প্রকৃতপক্ষে এই শিরোনামও করা যেত ‘ভারতীয় উপগ্রহে অংশগ্রহণ করার যৌক্তিকতা কোথায়?’ সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলা, কিংবা প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে শিরোনাম করা যেত’ এবার বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিরাপত্তার তথ্য গোপনে জানার সুযোগ পাচ্ছে ভারত।’ তবে এ কথাটি সত্য ভারত বিশ্বে ‘মহাকাশ কূটনীতির’ উদ্যোক্তা! অনেক কম খরচে সেটা সম্ভব হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতায়।

বিচার বিভ্রাট
উচ্চ আদালত ধর্ষণ মামলায় দুই ধরনের শাস্তির রায় দিলেন। গুজরাটে সংখ্যালঘু নিধনের সময় অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানু গণধর্ষণের শিকার হন। ওই সময় তার পরিবারের ১৪ সদস্যকে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি হত্যা করে। এ বিচার গুজরাটের আদালতে তিনি উত্থাপন করতে পারেননি। ১৫ বছর এখানে-ওখানে ঘোরার পর মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় রাজ্যের বাইরে মামলাটি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। তবে মুম্বাই আদালত সঠিক বিচার করেছেন কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে এখন। ধর্ষণের অভিযোগে আদালত ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ঠিক এর পরের দিনই সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির বাসে ধর্ষণ মামলার রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এ যেন একই যাত্রার দু’টি ফল। অপরাধের ধরনের দিক দিয়ে বাসে ধর্ষণের চেয়ে গুজরাটে বানুকে গণধর্ষণ ছোট হতে পারে না।
অপরাধীরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে পরিবারের ১৪ সদস্যকে হত্যা করার পর তার ওপর ওই চরম নিপীড়ন চালায়। প্রশ্ন উঠেছে বিচারের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক বিবেচনা কাজ করছে কি না সেই প্রসঙ্গটি। অপরাধী যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের হচ্ছে তখন গুরুপাপ লঘু হয়ে যাচ্ছে। বিচারের আসনে বসা ব্যক্তিরা কি নিজের সম্প্রদায়ের অপরাধীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন এমন প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক। ভারতের বিচার অঙ্গনে ঠিক এ সময় লণ্ডভণ্ড করে দিলেন দলিত সম্প্রদায়ের এক বিচারপতি। তিনি দেশটির প্রধান বিচারপতিসহ আট বিচারপতির বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন। নি¤œবর্ণের এই বিচারকের রায় অবশ্য ধোপে টেকেনি, বরং তার রায় স্থগিত করে দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বিচারপতিরা পাল্টা তার বিরুদ্ধে ছয় মাসের জেল দিয়েছেন। সম্ভবত শেষের রায়টি কার্যকর হতে পরে। নি¤œবর্ণের এই বিচারককে শেষ পর্যন্ত জেলের ঘানি টানতে হবে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি চিন্নাস্বামী স্বামীনাথন কারনান গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তার এ অভিযোগ আমলে নিলে ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হবে। কারনান তফসিলি সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের ধারায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের বিরুদ্ধে ওই শাস্তির রায় দেন। মূল ব্যাপার হচ্ছে কারনান চলতি বছরের প্রথম দিকে সুপ্রিম কোর্টের ২০ বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। শিডিউল কাস্টে কারনানের অভিযোগ পাত্তা পায়নি, বরং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের একটি বেঞ্চ তাকে মানসিক সুস্থতার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসনকে। প্রশাসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা টিম কারনানের বাসায় পৌঁছলে তাদের তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে নিজেই তার বিরুদ্ধে মানসিক অসুস্থতার অভিযোগ আনা বিচারপতিদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়ে বসেন।
কোন পক্ষ ন্যায়বিচার করল সেটা বোঝা গেল না। কারণ অভিযুক্তরা একে অপরের বিরুদ্ধে অবলীলায় রায় দিয়ে দিচ্ছেন। কারনানের বিরুদ্ধে মানসিক অসুস্থতার অভিযোগ আনার আগে তারা কমপক্ষে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারতেন। ওই কমিশন কারনানের আনীত অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে পারতেন। সেটা না করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই এর ‘বিচার’ করে বসলেন। নি¤œবর্ণের কারনানও তার প্রতিক্রিয়া দেখালেন একইভাবে। ভারতীয় বিচারকেরা মূলত মানুষের তৈরি করা ঠুনকো বিচারব্যবস্থাকে উলঙ্গ করে দেখিয়ে দিলো। বাংলাদেশেও এমন দেখা গেছে। সাবেক এক বিচারপতি এমনটি করেছেন। সে ক্ষেত্রে তার প্রতিপক্ষ নিজের সহকর্মী বা বিচারক ছিলেন না। যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাদের আদালতে এনে লেফট রাইট করিয়ে ছেড়েছেন। এই বিচারপতি নিজে বিচারক থাকা অবস্থায় দলীয় মঞ্চে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বেড়িয়েছেন। পরে লন্ডনের রাস্তায় তাকে পাবলিক দৌড়িয়েছে। সৌভাগ্য হলো তাকে দৌড় ‘অমুক’ খেতাব পেতে হয়নি বাংলাদেশে মিডিয়া ফেবারের কারণে।
[email protected]

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.