ঢাকা, শনিবার,৩০ মে ২০২০

অর্থনীতি

এবার সরকারের কাছে ২৬ শ’ কোটি টাকার বন্ড চাইল বেসিক ব্যাংক!

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

০৩ অক্টোবর ২০১৬,সোমবার, ০৭:১৬


প্রিন্ট

এবার সরকারের কাছে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড চাইল বেসিক ব্যাংক। পুরোপুরি রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের দুর্নীতিগ্রস্ত এই ব্যাংকটি পুনর্মূলধন খাতে এই পরিমাণ টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। ব্যাংকটি বলেছে, তারা এখনো প্রবল আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। এই আর্থিক সঙ্কট লাঘবের জন্য বন্ডের মাধ্যমে হলেও যেন বেসিক ব্যাংককে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। এই বন্ড হবে সুদমুক্ত। অর্থাৎ, এই অর্থের জন্য কোনো ধরনের সুদ দিতে রাজি নয় ব্যাংকটি।
জানা গেছে, বেসিক ব্যাংক মোট ২৬টি বন্ডের মাধ্যমে এই অর্থ দেয়ার আবেদন করেছে। প্রতিটি বন্ডের মূল্যমান হবে ১০০ কোটি টাকা এবং পুরো বন্ডটি হবে সুদবিহীন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, এই ধরনের বন্ড দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় যোগ দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। তিনি আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে ব্যাংকটির পক্ষে এ ধরনের বন্ড ইস্যুর কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এর আগেও বেসিক ব্যাংকের আর্থিক সঙ্কট কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিন দফায় দুই হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল। প্রথমবার ২০১৪ সালে দুই দফায় যথাক্রমে ৭৯০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৪০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। পরে গত বছর দেয়া হয়েছিল আরো ১২ শ’ কোটি টাকা। এ সম্পর্কিত অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘অর্থ বিভাগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১২০০ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের অনুকূলে মূলধন পুনর্ভরণ খাতে প্রদান করা হলো।
তবে এ জন্য বেসিক ব্যাংকে চারটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছিল। এই শর্তের মধ্যে ছিলÑ এই অর্থ ব্যয়ে প্রচলিত সব আর্থিক বিধিবিধান এবং অনুশাসনাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বেসিক ব্যাংকের মূলধন পুনর্ভরণ ছাড়া অন্যকোনো উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। এই ব্যাংকের অটোমেশন কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক (বিজনেস) পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিশেষ করে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি বা হ্রাসের ওপর ত্রৈমাসিকভিত্তিক প্রতিবেদন ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের কাছে প্রেরণ করতে হবে। একই সাথে পর্যালোচনার কার্যাবলিও অর্থ বিভাগের কাছে ত্রৈমাসিকভাবে পাঠাতে হবে। বেসিক ব্যাংকের মূলধন পুনর্ভরণ বাবদ ১২০০ কোটি টাকা প্রদান করার পরে অনুমোদিত মূলধনের পর পরিশোধিত মূলধন বেশি হলে সে ক্ষেত্রে ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ পরিবর্তন করতে হবে।
সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক ব্যাংক ছিল। কিন্তু এরপর যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেয়া হয় তখন থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে। চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে যায় অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা, যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি বিরোধিতা করলেও বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সেই ঋণ অনুমোদন করেছে। ৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির েেত্রই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যক্রম পরিলতি হয় না। পর্ষদের ১১টি সভায় ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যার অধিকাংশই গুরুতর অনিয়ম সংঘটনের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ বা আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫