০৬ এপ্রিল ২০২০

রাজনৈতিক সঙ্কটাবর্তে মালয়েশিয়া

-

মালয়েশিয়ায় তীব্র রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে চরম অনিশ্চয়তা। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে রাজনৈতিক অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ড. মাহাথির মোহাম্মদ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদে ড. মাহাথির থাকবেন নাকি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য পিকেআর দলের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, তা নিয়ে দৃশ্যত আলাপ-আলোচনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচনে বিজয়ী জোটের প্রধান আনোয়ার ইব্রাহিমই আগামী দুই বছরের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। কিন্তু মাহাথির মোহাম্মদ তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে ডিগবাজির রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করার কারণেই মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপট হঠাৎ করে বদলে গেছে।
৯৪ বছর বয়সী মাহাথির পদত্যাগ করার পর মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আবদুল্লাহ রিয়ান উদ্দিন আল মুস্তফা বিল্লাহ শাহ মাহাথির মোহাম্মদকে গত সোমবারই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন রাজা। তবে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী কত দিন ক্ষমতায় থাকবেন তাও স্পষ্ট নয়। কবে নাগাদ পরবর্তী সরকার গঠিত হবে তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। রয়টার্স জানিয়েছে, পদত্যাগের একদিন পরই মাহাথির কাজে যোগ দিয়েছেন। মাহাথির পদত্যাগ করার পর মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে যেন ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে। ওই দিন তিনি গোটা মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
অন্তর্র্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ড. মাহাথির মোহাম্মদ কত দিন দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিশ্চিত নয়। কবে নাগাদ একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে তাও স্পষ্ট নয়। পরবর্তী সরকার কবে গঠন হবে তা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। সব মিলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে মালয়েশিয়ার রাজনীতি।
সোমবার ড. মাহাথির মোহাম্মদ পদত্যাগ করায় আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে তার ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনের আগে মাহাথির পুরনো শত্রু, নিজের প্রথম দিককার ক্ষমতার মেয়াদে উপপ্রধানমন্ত্রী থাকা আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে জোট বেঁধে ছিলেন। সেই জোট ২০১৮ সালে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণায় বিস্ময়করভাবে ক্ষমতায় আসে। তবে ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে তারা। জোটের এমন ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যেই পদত্যাগ করে বসেন মাহাথির। কিন্তু নির্বাচনের আগে আনোয়ার ইব্রাহিমকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতার অর্ধেক মেয়াদে তিনি থাকবেন, বাকিটা সময় প্রধানমন্ত্রী হবেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
সপ্তাহান্তে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এ সময় অভিযোগ ওঠে, আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাদ দিয়ে নতুন একটি জোট সরকার গঠনের জন্য মাহাথিরের মিত্ররা এর আগে ক্ষমতাসীন নাজিব রাজাকের দলের সাথে জোট বাঁধার ষড়যন্ত্র করছে। এ অবস্থায় কবে নাগাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন মাহাথির তা জানতে চেয়ে জোর দাবি তোলেন আনোয়ার ইব্রাহিমের অনুগতরা। এতে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ হন মাহাথির।
মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুসারে, কোনো নেতা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারলে তিনি সরকার গঠন করতে পারেন। তার আগে তাকে রাজার সম্মতি নিতে হয়। রাজা তাকে অনুমতি দিলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।
মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করার পর মালয়েশিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাক্ষাৎকারের জন্য মঙ্গলবার ৯০ জন এমপিকে রাজপ্রাসাদে ডেকেছেন রাজা ইয়াং ডি-পার্তুয়ান আগং।
স্ট্রেইট টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কী হবে এবং পরবর্তীতে কিভাবে নতুন সরকার গঠন করা যাবে; সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছেন রাজা। রাজপ্রাসাদের কম্পট্রোলার আহমেদ ফাদিল শামসুদ্দিন মিডিয়ার সাথে বিশেষ এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, সাক্ষাৎকারে প্রতি এমপিকে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় দেয়া হয়েছে।
ড. মাহাথির মোহাম্মদ সোমবার পদত্যাগ করার কারণেই এমপিদের ওই ব্যক্তিগত সাক্ষাতে ডাকা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় এই পদ্ধতি এবারই প্রথম ব্যবহার করা হচ্ছে।
কোনো কোনো এমপিকে ডাকা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাজপ্রাসাদের কম্পট্রোলার বলেন, তাদের নাম আমরা প্রকাশ করতে চাই না। সংশ্লিষ্ট এমপিদের এরই মধ্যে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ১৩১ জন এমপির গতকাল বুধবার রাজা একইভাবে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন । হ

 


আরো সংবাদ