১২ আগস্ট ২০২২
`
নি ত্যো প ন্যা স

ছায়ারূপ

-

চল্লিশ.

চোখ বড় বড় হয়ে দম বন্ধ হয়ে মরে যাওয়ার আগে পাখিকে দেখতে পেলাম!

প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যেই চেহারা বিকৃত পোড়া মানুষটাকে চিনতে পারলাম আমি।
সুশান্তদা!
গাছ থেকে পাকা পেয়ারা খসে পড়ার মতো টুপ করে খসে পড়লাম আমি। গোঁ গোঁ শব্দ করতে থাকলাম। আমার শব্দের কারণে বা মা হয়তো পুকুরের দিকে আসছিল ছুটে এসে আমাকে কোলে তুলে নিলো। তখন আমার মুখের গোঁ গোঁ শব্দের সাথে মুখ দিয়ে সাদা গ্যাজলা বের হচ্ছে, ভয় চোখ কোটর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে!
চোখে মুখে মাথায় পানি দিয়ে যখন আমার অপ্রকৃতস্ত অবস্থাকে স্বাভাবিক করতে পারল না তখনই মা সবুরকে দিয়ে ভ্যান ঠিক করাল। ওকে এখনি ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।
আগে চেম্বারে থাকা আব্বা দেখুক, তারপর দরকার হলে পাঁচ মাইল দূরের থানা হেলথ কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া যাবে।
আমাকে নিয়ে ভ্যানের কাফেলা গ্রাম থেকে বাজারে আব্বার চেম্বারের উদ্দেশে রওনা দিলো। এর মধ্যে গোটা গ্রামে খবর হয়ে গেছে ডাক্তার সাহেবের ছেলে দিন দুপুরে পুকুর পাড় থেকে কেমন যেন হয়ে গেছে! দুদিন আগেই পাশের বাড়ি থেকে জিনসাধকের জিন তাড়ানো এবং আমার ভয়ে চোখমুখ উল্টে গোঁ গোঁ শব্দে গ্যাজলা ভাঙা দুইয়ে মিলিয়ে গ্রামের লোকেরা চার বানিয়ে ফেলল। ‘জিন মাতবর বাড়ি থেকে গেলেও পুরোপুরি যায়নি। ডাক্তার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন ডাক্তারের ছেলের ঘাড়ে লেগেছে!’
আব্বা চেম্বার বন্ধ করে বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। (চলবে)

 


আরো সংবাদ


premium cement