৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`
নি ত্যো প ন্যা স

আকাশের ওপারে আকাশ

-

চুয়ান্ন.
সুন্দর ছিমছাম ছোট্ট সুন্দর করে সাজানো কামরাটা দেখে আনন্দে নেচে উঠল রিয়াজের মন। এখন থেকে এই কামরায় সে থাকবে ভেবে এত্ত সুন্দর কামরাটা তার নিজের জেনে তার সব ক্লান্তি নিমেষে উধাও হয়ে গেল। মামীর বাসায় থাকতে বাবুর কামরায় একটু আধটুর জন্য গেলেও বাবু তাকে খাঁমচে ধমকে বের করে দিত। একটু বেশি সময়ের জন্য তাকে থাকতে দিত না কামরাটায়। তখন তার মনে হতো তার নিজস্ব একটা ছোট্ট ঘর একটা ছোট্ট কামরা যদি থাকত যেখানে সে সারাক্ষণ নিজের মতো করে থাকতে পারবে। সাদা পরিছন্ন নরম তুলতুলে বিছানাটা দেখে তার গা এলিয়ে দিতে ইচ্ছে করল কিন্তু সামনে তিতলী পরী দাঁড়িয়ে থাকায় তার ভদ্রতায় বাঁধল।
তিতলী পরী বিছানায় তার পাশে বসতে বসতে বলল, ‘কামরা পছন্দ হয়েছে?’
‘হু। খুব পছন্দ হয়েছে।এত সুন্দর কামরা।’ ‘আমাদের এখানে সবকিছুই এরকম। সবার জন্য সরকার একই রকম কামরার ব্যবস্থা রেখেছে। আমার কামরাটাও ওরকম। সবার বাড়ির আসবাবপত্র একই ধরনের এবং একই রকম বলে কেউ কারোটার উপরে লোভ করতে পারে না।’
এমন সময় বাইরে মোটা পুরুষালী গলা শোনা গেল, ‘মিস্টার আসহাব হাবাব কি বাড়িতে আছেন? মিসেস তিলোত্তমা?’
তিতলী বাইরে বেরিয়ে আসে। অপরিচিত লোকজনের সামনে বের হতে সবসময় রিয়াজের সংকোচে বাঁধে। এত অপরিচিত এক পরী রাজ্যেও এক অপরিচিত পরী। রিয়াজ তার দুধশাদা মখমলের বিছানায় গড়িয়ে রুপালি জানালা গলিয়ে বাইরে দেখতে থাকে। পুলিশের পোশাক পরা একজন মধ্যবয়স্ক শক্তসামর্থ্য পরী, হাতে একটা ছোট্ট সাদা হ্যান্ডব্যাগ। পুলিশ দেখে রিয়াজ একটু ঘাবড়ে যায়। (চলবে)



আরো সংবাদ