২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
`
নি ত্যো প ন্যা স

আকাশের ওপারে আকাশ

-

নয়.
এখন তো ঐসব সংস্থা-টংস্থার কারণে তোদের পোয়াবারো। গায়ে হাতটাত তুললেই ওরা রিরি করে ছুটে আসে। যত্তোসব, মাছের মার পুত্রশোক! এতই যদি দরদ উথলে ওঠে তাহলে তোদের নিয়ে ওরা খাওয়ায় না কেন? যত্তোসব, বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে বেড়ায়।
যা যা বললাম সব মনে রেখে করিস কিন্তু। তোর গোসলের সময় বাথরুমের মেঝেটা একটু ডলে দিস। তাহলে ওটা আর স্যাঁতসেঁতে হবে না। বুঝলি তো। আর এসে যদি দেখি কোনো কিছু ঠিকমতো করিসনি, তাহলে তোর গায়ের চামড়া আস্ত রাখব না। যে চুলো থেকে এসেছিলি সেই চুলোয় পাঠিয়ে দেবো। বোনের মতো বাপের গাড়ি ঠেলে ঠেলে ভিক্ষে করে খাবি ভিখারির বাচ্চা।’
মামীর ফোন শেষ হয়, তার পরেও যেন কাজের ফিরিস্তির রেশ বাজতে থাকে। এত এত কাজের কথা একনাগাড়ে বলে গেছে কোনোটাই তার ঠিকমতো মনে নেই। আর মনে রেখেও লাভ নেই। একটা না একটা ভুল বের করে মারধর করবেই। আর আজ তো মার আগে থেকেই পাওনা হয়ে গেছে। এখন কাজ বেশি করলেই কী আর কম করলেই কী। মারের পরিমাণ তো আর কমবে না।
ড্রয়িংরুমের ভিতর দিয়ে আসার সময় টিভিটা ছেড়ে দিয়ে সোফায় বসে বসে আয়েস করে দেখবে কিনা এই চিন্তা শেষ পর্যন্ত বাতিল করে দেয়। এখনি স্কুলের গাড়ি এসে বাবুকে নামিয়ে দিয়ে যাবে। ননীর পুতুলকে আনতে নিচতলায় যেতে হবে। ওর স্কুলব্যাগ বয়ে আনতে হবে। বাবু এসে যদি টিভি খোলা দেখে তাহলেই হয়েছে। মাকে লাগাবে। যা একটা বিচ্ছু না ওটা!
সে ধীরে সুস্থে পায়ে পায়ে হেঁটে রান্না ঘরে আসে। দুধ পোড়া হাঁড়ি পরিষ্কারের জায়গায় উবু হয়ে বসে অন্য হাঁড়িগুলোর পাশে দুধের হাঁড়িটা না পেয়ে বিরক্ত হয়। হাঁড়িটা যাবে কই? এখানে রেখেই তো সে উঠে গিয়েছিল ফোন ধরতে? এর মধ্যে তো আর বাসায় কেউ আসেনি? ভূতে উড়িয়ে নিয়ে গেল নাকি হাঁড়ি? নাকি বিড়ালটিড়াল খোলা জানালা দিয়ে ঢুকে হাঁড়ি নিয়ে টানাটানি করেছে। কিন্তু বিড়ালের তো এত অভাব পড়েনি যে ওই পোড়া হাঁড়িতে নজর পড়বে। ওতে তো চাটারও জায়গা নেই।
(চলবে)



আরো সংবাদ