০৬ মার্চ ২০২১
`

দুই গোয়েন্দার অভিযান-১২ পর্ব

-

‘চোর ঢুকতে পারবে না,’ সন্দেহটা গেল না রেজার। ‘শোয়ার আগে নিশ্চয় বার্গলার অ্যালার্ম চালু করে দিয়েছে ফুপু।’
বত্রিশ.

চাচা আসবে শুনে খুশি হলো রেজা-সুজা। আসামাত্র তাকে সব খুলে বলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এতই ঘুম পেয়েছে, একটা মিনিটও আর চোখ খুলে রাখতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। তা ছাড়া আগামী দিন মাছধরা পার্টিতে যেতে চাইলে খুব সকালে উঠতে হবে।
মিনাফুপু ও মিসেস জনসনকে ‘গুডনাইট’ জানিয়ে রেজা-সুজার সঙ্গে উঠে গেলেন বাগচি। তাঁকে গেস্ট রুমে পৌঁছে দিলো ওরা। পায়জামা, ঢোলা পোশাক আর চটি এনে দিলো।
নিজেদের ঘরে ফিরে বিছানায় শোয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ল দু’জনে। কিন্তু একটু পরেই ঘুম ভেঙে গেল রেজার। কিছু একটা চমকে দিয়েছে ওকে। ঘড়ি দেখল। প্রায় দুটো বাজে।
মুহূর্ত পরে সুজাও জেগে গেল। বিছানায় থেকেই বলল, ‘কী হলো? ওঠার সময় হয়েছে?’
‘না, মাত্র দুটো বাজে। নিচতলায় কারো চলাফেরার শব্দ শুনলাম মনে হলো। তুই কিছু শুনিসনি?’
‘উঁহু।’
‘চোর ঢুকতে পারবে না,’ সন্দেহটা গেল না রেজার। ‘শোয়ার আগে নিশ্চয় বার্গলার অ্যালার্ম চালু করে দিয়েছে ফুপু।’
নিঃশব্দে বিছানা থেকে নেমে পা টিপে টিপে দরজার দিকে এগোল সুজা। দরজা খুলল। কান পেতে রইল কয়েক সেকেন্ড। ‘কোনো শব্দ তো শুনতে পাচ্ছি না।’
‘ভালো।’ বিছানায় টান টান হয়ে আড়ামোড়া ভাঙল রেজা। ‘নে, ঘুমা এখন।’
দরজা লাগিয়ে দিয়ে এক পাশের জানালাটার কাছে গিয়ে দাঁড়াল সুজা। পুরো খুলে দিলো জানালাটা। এ সময় চোখে পড়ল চলমান ছায়াটা। লনের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে।
‘আরে, রেজা! জলদি আয়!’
চোখের পলকে সুজার পাশে চলে এলো রেজা। ‘কী হয়েছে?’
‘লনের ওপর আছে কেউ,’ ফিসফিস করে সুজা বলল। ‘পাতাবাহারের ওই বেড়াগুলোর কাছে।’
‘স্পটলাইট জ্বেলে ওটার ওপর আলো ফেলা দরকার।’ (চলবে)



আরো সংবাদ