০১ ডিসেম্বর ২০২০

দুই গোয়েন্দার অভিযান

-

পয়তাল্লিশ.
এ সময় সেখানে হাজির হলেন লেভিন, আনমনে মাথা নাড়তে নাড়তে। ‘মিস্টার মিচেলের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলে এলাম। মিসেস মিচেল শিকারে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন। তাঁর স্বামীরও মন খারাপ। হঠাৎ ওদের কি হলো, কে জানে!’ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। ‘অনেক বলেকয়ে আরো কয়েকটা দিন এখানে থেকে যেতে রাজি করিয়েছি ওদের।’
সুজাকে লক্ষ্য করে ছুরি ছোড়ার ঘটনাটা জানাল ওঁকে রেজা।
‘ও, এতক্ষণে বুঝলাম সব!’ মাথা ঝাঁকালেন লেভিন। ‘মিসেস মিচেলকে সন্দেহ করা হয়েছে বলেই রেগে গেছেন তিনি। যাই হোক, ওঁকে বোঝাতে আর অসুবিধে হবে না আমার। কিছুটা বদমেজাজি আর স্বামীর ওপর হম্বিতম্বি করলেও মানুষ হিসেবে খারাপ না মহিলা। ট্রফি হিসেবে একটা মদ্দা মুসের মাথা নিয়ে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে আছেন। বললাম, এদিকে মুস আসার সময় হয়ে গেছে, হয়তো এ সপ্তাহের শেষ দিকেই চলে আসবে। তবে কতদিন এভাবে গেস্টদের ঠেকিয়ে রাখতে পারব, জানি না। যেভাবে একের পর এক অঘটন ঘটছে, তাতে বেশি দিন আর স্টেট পুলিশকে না জানিয়ে পারব না।’
‘না জানালেও খবরটা বেশি দিন চেপে রাখতে পারবেন না,’ সুজা বলল। টম আর হেনরির কথা সব খুলে বলল লেভিনকে।
গম্ভীর হয়ে গেলেন লেভিন। ‘ওসব অপপ্রচার শুরু হলে আমার ব্যবসা শেষ। লজ বন্ধ করে দিতে হবে।’
‘তবে আমার অনুরোধ,’ রেজা বলল। ‘এখনই তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, আঙ্কেল। আমাদের একটা সুযোগ দিন। এখনো তদন্ত শুরুই করিনি আমরা। যদি আমরা কিছু করতে না পারি, তখন পুলিশকে জানাবেন।’
একটু চিন্তা করে লেভিন জিজ্ঞেস করলেন, ‘তো, এখন কি করতে চাও তোমরা?’
‘যে এসব কাণ্ড করে বেড়াচ্ছে, প্রথমে ওকে বোঝাতে চাই, আমরা সত্যিই লেকের পারে ঘুরতে গেছি। লোকটা কে, এখনো জানি না আমরা। তাই সব গেস্টদের অলক্ষে দ্রুত ফিরে এসে লজের প্রতিটি ইঞ্চি খুঁজে দেখব কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না।’ (চলবে)

 


আরো সংবাদ