২৫ অক্টোবর ২০২০

দুই গোয়েন্দার অভিযান- ১১ পর্ব

-

চব্বিশ.

‘দেখি, আমার হাতে দাও,’ সাহায্য করতে এগোল সুজা।
‘ইরাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই,’ লেভিন বললেন। ‘দেখতে ওরকম শুকনো হলে কি হবে, গায়ে শক্তি আছে।’
‘অনেক ধন্যবাদ, আঙ্কেল,’ হেসে বলল ইরা। ঘরের মাঝখানে কাউন্টারের ওপর নামিয়ে রাখল টিনগুলো। ‘যা জায়গা, দুর্বলেরা বাস করতে পারবে না এখানে, গায়ে শক্তি থাকতেই হবে।’
‘তোমাকে নিশ্চয় খুব বেশি খাটাই না আমরা, তাই না, ইরা?’ প্রশ্ন করলেন মিচেল।
‘না... তা খাটাও না। কেবল সারাদিন কাজ করে রাতে শোয়ার সময় গায়ের ব্যথায় অস্থির হয়ে যাই।’
ভাতিজির কথায় কিছু মনে করলেন না ওর চাচা-চাচী। হাসিমুখে লেভিন বললেন, ‘এই ইয়াং লেডিটির নাম ইরা লেভিন, আমার ভাইয়ের মেয়েÑ এর কথাই তোমাদের বলেছিলাম। ব্যালেরিনা ড্যান্সার হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত হওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেজন্যই না খেয়ে খেয়ে শরীরটাকে ওরকম হাড্ডিসার বানিয়ে রেখেছে,’ দুই গোয়েন্দাকে বললেন লেভিন। ‘শীতের ছুটিতে আছে এখন ইরা। ক্যাথিকে নানা কাজে সাহায্য করে। কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা, বিছানা পাতা, রান্নাবাড়া, সব কাজে।’
‘তবে এখানে বেশি কাজ করা নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই,’ রেজা-সুজার দিকে তাকিয়ে বলল ইরা। ‘স্কুল আর ব্যালে লেসন থেকে কয়েকটা দিন দূরে থাকতে ভালোই লাগছে। আর এই জায়গাটাও দারুণ।’
‘আমি রেজা মুরাদ,’ রেজা বলল। ‘আর ও আমার ভাই সুজা মুরাদ। ‘এখানে এসেছি লজ ও মেইন বনের ওপর তথ্য জোগাড় করতে, স্কুলের পত্রিকায় প্রতিবেদন লিখবে।’
‘সুতরাং আশপাশে ঘুরে বেড়াব আমরা, যেখানে ইচ্ছে যাবো, যদি কিছু মনে না করেন আপনারা,’ সুজা বলল লেভিনের দিকে তাকিয়ে।
‘আমার কোনো অসুবিধা নেই,’ ওর চাচা জবাব দেয়ার আগেই হেসে বলল ইরা। ‘বরং শিকারি নয় এমন দু’জন অতিথি পেয়ে ভালোই লাগছে।’ (চলবে)


আরো সংবাদ