০৪ আগস্ট ২০২০
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে প্রাণহানি

দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করুন

-
24tkt

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বড় লঞ্চডুবির ঘটনা না ঘটলেও অতীতে প্রায় প্রত্যেক বছরই ছোট-বড় নৌদুর্ঘটনায় শত শত মানুষের মৃত্যু অসহায়ভাবে সবাইকে দেখতে হয়েছে। সাধারণত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন, চালকের অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতা, লঞ্চের নকশায় ত্রুটি, ফিটনেস ও তদারকির অভাব, মাঝনদীতে দুই লঞ্চের প্রতিযোগিতা নৌদুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ। ছোটখাটো নৌদুর্ঘটনা নিয়ে দেশে তেমন আলোচনা হয় না। তখনই হইচই হয়, যখন নৌদুর্ঘটনায় বহুজনের প্রাণহানি ঘটে। ঠিক তেমনি, গত সোমবার করোনা মহামারীর মধ্যেই বুড়িগঙ্গায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় সদর ঘাটের এপার থেকে ওপারে যাতায়াতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এমন দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এসব দুর্ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনায় লঞ্চের মাস্টার, চালক ও নৌশ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের দৌরাত্ম্য কমানোর দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে সোমবার বড় একটি লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ছোট আরেকটি লঞ্চ ডুবে বহু মানুষের সলিল সমাধির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে অন্তত ৭০ যাত্রী ছিল। এ পর্যন্ত ৩৩ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে, এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ক্ষেত্রে মালিকদের গাফিলতি আছে কি না, খতিয়ে দেখতে হবে’। আর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুই লঞ্চের কর্মীদের অসতর্কতায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছেন।’ এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিন করা হয়েছে।
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনা মর্মান্তিক। কোনো ঝড় বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নয়; বড় লঞ্চের ধাক্কায় ছোট লঞ্চটি ডুবে বহু যাত্রীর প্রাণহানির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম হয়েছে। অর্থাৎ এ দুর্ঘটনার জন্য কেউ-না-কেউ দায়ী। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যেও এরই প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। এখন প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন। তবে তা হবে কি না, এটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যায়। কারণ অতীতের কোনো নৌদুর্ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা কতটুকু হয়েছে, তা আমাদের অজানা। দুর্ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কিছুদিন তোড়জোড় করলেও পরে তা ধামাচাপা পড়ে গেছে। আর কোনো তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেছে কি না তাও কারো জানা নেই। অতীতে যাই হোক না কেন, গত সোমবার বুড়িগঙ্গায় ঘটে যাওয়া নৌদুর্ঘটনায় দোষীদের বিচার দেখতে চায় দেশবাসী।
লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধে প্রথমেই কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত। ২০১৭ সালে তৈরি করা অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল আইনের খসড়া ২০১৮ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, যাতে নৌদুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়। কিন্তু নৌযান মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপে সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন খসড়া চূড়ান্তপর্যায়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নাবিক বা অন্য কারও অদক্ষতা, অবহেলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে কী ধরনের সাজা হবে; তাও খসড়ায় সরাসরি রাখা হয়নি। এভাবে আইনটি চূড়ান্ত হলে নৌদুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা কতটা সাবধানতা অবলম্বন করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট আইন ও এর বাস্তবায়ন কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে সঠিক নকশা অনুযায়ী লঞ্চ নির্মাণ, লঞ্চের ফিটনেস, নিয়মিত তদারকি এবং চালক ও সহযোগীদের দক্ষতা-অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ নদীপ্রধান দেশ হওয়ায় এখনো অনেক জায়গার সাথে রাজধানীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকে লঞ্চ ভ্রমণ বেছে নেয়। তাই মাধ্যমটির নিরাপত্তায় অধিকতর দৃষ্টি দেয়া দরকার। সোমবার বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে যারা প্রাণ হারিয়েছে, তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। যদিও অর্থ দিয়ে মানুষের জীবন পরিমাপ করা যায় না, তবু বুড়িগঙ্গায় নৌদুর্ঘটনায় মৃতদের প্রতিটি পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।


আরো সংবাদ

হিজবুল্লাহর জালে আটকা পড়েছে ইসরাইল! (১৪২০০)হামলায় মার্কিন রণতরীর ডামি ধ্বংস না হওয়ার কারণ জানালো ইরান (১০৯৪৫)ভারতের যেকোনো অপকর্মের কঠিন জবাব দেয়ার হুমকি দিলো পাকিস্তান (৭৮৮৭)সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা : পুলিশের ২১ সদস্য প্রত্যাহার (৬৫২১)নেপালের সমর্থনে এবার লিপুলেখ পাসে সৈন্য বৃদ্ধি চীনের (৫৮৪৫)আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেন সন্দিহান ইরান-কাতার? (৫৪৭৪)চামড়ার দাম বিপর্যয়ের নেপথ্যে (৪৭৯৯)তল্লাশি চৌকিতে সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু দেশবাসীকে ক্ষুব্ধ করেছে: মির্জা ফখরুল (৪৭০২)‘অন্যায় সমর্থন না করায় আমাকে দুইবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল জয়নাল হাজারী’ (৪২৪৬)বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন (৪০৮৬)