১১ জুলাই ২০২০

দুই গোয়েন্দার অভিযান

-

আঠার.
‘তারাশ খান!’ বিস্ময়ে বিস্ফোরিত হলো যেন সুজা। ‘চাচা, তোমার ওই ভারতীয় বন্ধুটির নাম তারাশ খান?’
‘হ্যাঁ। কেন?’ প্রশ্ন করল নাসের।
কুরিয়ার সার্ভিসে তারাশ খানের পাঠানো বাজপাখিটার কথা চাচাকে জানাল রেজা-সুজা। জানাল, কিভাবে চোর এসে ওটাকে কেড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সবশেষে খুলে বলল, বাজপাখিটা কিভাবে কবুতরটাকে মেরে ফেলেছে। জানাল, ওটার পায়ে আটকানো ক্যাপসুলের ভিতরে চুনি পাথর খুঁজে পাওয়ার কথা।
‘ইন্টারেস্টিং!’ নাসের বলল। ‘আমি এখনই তারাশ খানকে ফোন করছি।’
বাড়িতেই পাওয়া গেল লোকটাকে। কিছুক্ষণ কথা বলে খাবার টেবিলে ফিরে এলো নাসের।
‘তারাশ অবশ্য বলেছিল, তোদের কাছে একটা শিকারি বাজ পাঠাবে। যাতে সন্দেহজনক কবুতর দেখলে ওটাকে ধরে আনতে পারিস। মেসেজ আছে কিনা দেখতে পারিস। পাখির খাঁচার সাথে তো একটা চিঠিও পাঠানোর কথা বলেছে। পাসনি?’
‘না তো!’ চিন্তিত ভঙ্গিতে জবাব দিলো রেজা। ‘পাচারকারীদের হাতে পড়েছে কিনা কে জানে। হয়তো ওরা পেয়ে লুকিয়ে ফেলেছে, আমরা যাতে কিছু জানতে না পারি। কেন বাজপাখিটা আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, বুঝতে না পারি।’
‘তা হতে পারে,’ নাসের বলল। ‘তারাশ তোদেরকে আরেকজন ভারতীয়ের সাথে দেখা করতে বলেছে, এখানে ইয়েলো বিচেই থাকে লোকটা। কম্বলের ব্যবসা করে। নাম হাশিম। তোরা ওকে চিনিস। ওই লোক তোদেরকে ফ্যালকনারি শেখাবে।’
বাধা দিলেন মিনাফুপু। ‘এ ধরনের নিষ্ঠুর খেলা শেখার কোনো মানে হয় না।’
‘ফুপু,’ বোঝানোর চেষ্টা করল রেজা, ‘ফ্যালকনারি শিখলেই যে আমরা নিষ্ঠুরতা শুরু করব, বাজপাখি দিয়ে শিকার ধরব, তা কিন্তু বলা হয়নি। আর তদন্তের প্রয়োজনে এক-আধটা কবুতর ধরলেইবা কী? বাজপাখিরা প্রতিদিন কত পাখি আর অন্যান্য প্রাণী শিকার করে খায়।’ (চলবে)

 


আরো সংবাদ