০৬ এপ্রিল ২০২০

আ র ব দে শে র লো ক কা হি নী গরিব ঘরের বিড়াল

-

তিন মাথার এক ঝুনকো বুড়ি। তার ছিল একটি কুঁড়েঘর। কবরের মতো ছোট্ট। মূর্খের মনের মতো অন্ধকার। সেই ঘরে তার সাথে বাস করে একটি বিড়াল। গরিবের বিড়াল বলে কথা। বুড়ির আদরযতœ-সোহাগের কমতি ছিল না, কিন্তু খাবার পেত না। না খেয়ে থাকতে থাকতে বিড়ালটি শুকিয়ে পাটকাঠির মতো হয়ে গেছে। পেটটা তার সারাক্ষণ উনো হয়ে থাকে। বুড়ি নিজেই খেতে পায় না। বিড়ালকে খাওয়াবে কী? এবাড়ি-ওবাড়ি গিয়ে চেয়েচিন্তে যা পায়, তাই দিয়ে বুড়ির নিজেরই পেট ভরে না। অনাহারে থেকে থেকে বিড়ালটি এখন আর বিড়াল নেই। যেন বিড়ালের এক কঙ্কাল। এমনই চেহারা হয়েছে তার।
গল্পটি এই শুকনো বিড়ালকে নিয়ে। এক টুকরো রুটি খেতে পাওয়া তো দূরের কথা, বিড়ালটি তার মনের আয়নায় কোনো দিন রুটির ছবিও দেখতে পায়নি। রান্না করা গোশত? হায় রে, গোশতের ঝোলও কোনো দিন চেখে দেখেনি সে। কুঁড়েঘরের আশপাশে বড়জোর ইঁদুরের পায়ের চিহ্ন দেখেছে। আর এতেই সে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে। যদি কখনও বা পায়ের দুই থাবার নিচে ইঁদুরের একটি বাচ্চাও ধরতে পারে, সেদিন সে নিজেকে বড় সৌভাগ্যবান ভাবে।
(চলবে)


আরো সংবাদ