১৬ জানুয়ারি ২০২১
`

দুই গোয়েন্দার অভিযান অভিযান

-

দুই.
চ্যাপ্টারের নিচে ফুটনোট লেখা রয়েছে, এক মিথকুয়াল বা ‘মিথকাল’ সমান হলো এক আউন্স সোনার আট ভাগের এক ভাগ।
‘আরিব্বাপরে!’ চিৎকার করে উঠতে গিয়ে সময়মতো কণ্ঠস্বর নামিয়ে ফেলল সুজা। ফিসফিস করে বলল, ‘কল্পনা করতে পারো কত সোনা, আর আজকের দিনের বাজার দরে তার দাম কত হয়!’
‘শুধু যে গোলামদের দিয়েই সোনা বহন করিয়েছেন, তাই না,’ রেজা বলল, ‘উটের পিঠেও প্রচুর সোনা ছিল। কায়রো পেরোনোর সময় ওখানকার মানুষকে এত সোনা উপহার দিয়েছিলেন, বহুকাল এক ভয়ঙ্কর মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে দেশটাকে।’
‘কী সাংঘাতিক!’
জানা গেল, মানসা মুসা লোক হিসেবে খুব ভালো ছিলেন। প্রজারা তাঁকে ভীষণ পছন্দ করত। ভালোবাসত।
‘হজ করার জন্য কী ভীষণ দুর্গম আর কতখানি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে জানো?’ রেজা বলল। ‘এই ম্যাপটা দেখো, বুঝতে পারবে।’
‘বাপরে! পায়ে হেঁটে, ঘোড়ায় চড়ে, উটে...অসম্ভব মনে হচ্ছে!’
বইটার সূচীপত্র ঘেঁটে আরো কিছু অধ্যায় বের করে পড়ল সুজা। তারপর বলল, ‘দেখো, সোনা আর লবণের দাম সমান! সিইলমাসা থেকে দক্ষিণে লবণ নিয়ে যেত লবণ ব্যবসায়ীরা, পশ্চিম আফ্রিকায় সোনার ওজনে লবণ বিক্রি হতো। অর্থাৎ এক পাল্লায় সোনা রেখে আরেক পাল্লায় লবণ রাখা হতো। যতখানি সোনা ততখানি লবণ। মনে হচ্ছে ওই জায়গাটার কথাই বলা হয়েছে মুখোশে আঁকা সাঙ্কেতিক লেখাগুলোতে।’
আরো কিছুটা পড়ে জানা গেল বহু আগেই হারানো নগরীতে পরিণত হয়েছে সিইলমাসা।
‘মনে হচ্ছে ওখানে গিয়েই উধাও হয়ে গেছে মুখোশে লেখা রহস্যময় রহস্য-কাফেলা,’ রেজা বলল। (চলবে)

 

 



আরো সংবাদ