২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

বাবুলের নির্দেশেই মিতুকে হত্যা করা হয় : আদালতে জবানবন্দি ভোলার

বাবুল আক্তার ও মাহমুদা খানম মিতু - ছবি : সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের নির্দেশেই তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়েছিল। কামরুল শিকদার ওরফে মুছার নেতৃত্বে ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে।

শনিবার সন্ধ্যায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেন আলোচিত এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা।

মাহমুদা খানম মিতুর হত্যার সময় চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাবুল আক্তার। ওই সময় কামরুল শিকদার বাবুল আক্তারের তথ্যদাতা (সোর্স) হিসেবে কাজ করতেন।

এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা জানান, কামরুল শিকদারই বাবুলের সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন।

এর আগে শনিবার ভোরে যশোরের বেনাপোল থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ভোলাকে গ্রেফতার করে।

পরে বিকেলে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে জবানবন্দি দেন তিনি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মিতু হত্যায় নেতৃত্ব দেয়া কামরুল শিকদার ওরফে মুছাই এহতেশামুল হক ওরফে ভোলাকে বাবুল আক্তারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন বলে জবানবন্দিতে জানান তিনি।

জবানবন্দিতে ভোলা বলেন, বাবুল আক্তার ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার সোর্স ছিলেন কামরুল শিকদার ওরফে মুছা। কামরুল শিকদারের সাথে আগে থেকে পরিচয় ছিল ভোলার। ভোলার বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় মামলা রয়েছে ২০টি। কামরুল ভোলাকে বাবুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর থেকে বাবুলকে বিভিন্ন তথ্য দিতেন তিনি। নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় গুলি করতে যাওয়া এক ব্যক্তির তথ্য বাবুলকে দেন ভোলা। ওই ঘটনার আসামি ধরে বাবুল বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন।

পরে বাবুলের নির্দেশে কামরুল শিকদারকে ভোলা তার বালুর ব্যবসায় ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেন বলে জবানবন্দিতে জানান তিনি।

জবানবন্দিতে ভোলা বলেন, ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে কামরুল তাকে জানান, বাবুল আক্তার পারিবারিক সমস্যায় আছেন। তার স্ত্রীকে খুন করতে হবে। এ জন্য ভোলাকে অস্ত্র সংগ্রহ করে দিতে হবে।

তখন ভোলা পারিবারিক বিষয়ে না জড়াতে কামরুলকে অনুরোধ করেন। কামরুল বিষয়টি বাবুলকে জানিয়ে দেন। পরে বাবুল ভোলাকে ডেকে পাঠান। বিষয়টি তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে জানালে ঝামেলা হবে বলে হুমকি দেন। এরপর বিষয়টি কাউকে বলেননি ভোলা।

জবানবন্দিতে ভোলা আরো জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করে দেন তিনি। কামরুলও শুরুতে রাজি ছিলেন না। তাকে এ কাজ না করলে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দিয়েছিলেন বাবুল। যার কারণে কামরুল রাজি হন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে হত্যার শিকার হন মাহমুদা খানম মিতু। এরপর তার স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ১২ মে এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। ওই দিন মাহমুদার বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই বাবুল আক্তারকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে।

বাবুল আক্তার বর্তমানে ফেনী কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

মিতু হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৬ সালের ২৭ জুন অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা। ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এদিকে মাহমুদার বাবার করা মামলায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন পান ভোলা। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করার জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে সময়ের আবেদন করেন তিনি। ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে আবেদনটি করা হয়। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের আবেদনে ১২ জুলাই আদালত ভোলাসহ তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। অন্য দুইজন হলেন কামরুল শিকদার ওরফে মুছা ও মো. কালু।



আরো সংবাদ


যে কারণে ঝর্ণাকে আদালতে হিজাব খুলতে নিষেধ করলেন মামুনুল হক (১৬৩৯৪)করোনায় মৃত্যু এক দিনে তিন গুণ বৃদ্ধি (১২৪৬৩)খালেদা জিয়াকে যে ৩ দেশে নিয়ে যেতে বলেছেন চিকিৎসকরা (১১৮৬৬)মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত হলেন জাহাঙ্গীর (৯৮৫৯)সেরা করদাতা হলেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ (৬৩২১)১০৭ বছরের যৌথ ব্যবসায় ভাঙন, ১,৫০০ কোটি ডলারের সম্পত্তি নিয়ে লড়াই হিন্দুজা ভাইদের (৬০৬৩)পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, যে আদেশ দিলো আদালত (৫৯০১)মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ শতাংশ কোটার বিধান বাতিল করলো হাইকোর্ট (৫৮১৩)গাজীপুরে মেয়র জাহাঙ্গীরের দলীয় পদে আতাউল্লাহ (৫৮০৩)আইএস খোরাসানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সৈন্য পাঠাল তালেবান (৫১৪৬)