২৮ অক্টোবর ২০২১
`

খুলনা হাসপাতালের আড়াই কোটি টাকা লুটপাট, টেকনোলজিস্ট লাপাত্তা


খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামীদের কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকার হিসাব নেই। হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাশ এই টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছেন বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রকাশ কুমারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার পর্যন্ত তিন দিন ধরে অফিসও করেননি তিনি।

এ দিকে বিপুল পরিমাণের ওই অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার ও দেশত্যাগ করতে পারেন প্রকাশ কুমার। এমন আশঙ্কায় খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাসপাতালের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকাশ কুমারের লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় খুলনা সদর থানায় মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে খুলনায় সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ। লুটপাট হওয়া হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও তিনি। যোগদান করার পর জানতে পারেন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা সিভিল সার্জনের নাম করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। গত এপ্রিলে ব্যাপারটি প্রমাণিত হওয়ার পর ওই হাসপাতাল থেকে কোভিড পরীক্ষার কাজ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের বাদ দেয়া হয়। আর বিদেশগামীদের কোভিড পরীক্ষার মূল দায়িত্বে থাকা প্রকাশ কুমারের কাছে সব পরীক্ষার তথ্য ও হিসাব চাওয়া হয়। তিনি হিসাব জমা দিতে গড়িমসি করছিলেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, প্রতিদিনই কোভিড পরীক্ষার টাকা হিসাব শাখায় জমা দিতেন প্রকাশ কুমার। তবে তা যে সেবাগ্রহীতার চেয়ে কম, তা কেউ বুঝতে পারেননি।

সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকাশ কুমারের জমা দেয়া টাকার সাথে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকার গড়মিল রয়েছে। পরদিন প্রকাশ কুমারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ওই টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চিঠি দেন সিভিল সার্জন। গত বৃহস্পতিবার ওই টাকা জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে এসে বিভিন্ন হিসাব নিয়ে বসেন প্রকাশ কুমার। দুপুরের দিকে হঠাৎ বোনের মারা যাওয়ার কথা বলে অফিস থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, এরপর সোমবার পর্যন্ত তিন দিন অফিসে আসেননি প্রকাশ কুমার দাশ। বাসায় খোঁজ নিলেও জানানো হয়েছে তারা প্রকাশ কুমারের ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও প্রকাশ কুমারকে না পেয়ে খুলনা সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি (প্রকাশ) যেন দেশত্যাগ করে পালিয়ে যেতে না পারেন, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে এই টাকা কি শুধু প্রকাশ কুমার একাই আত্মসাৎ করেছেন না কি তার সাথে আরো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাছাড়া প্রকাশের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।



আরো সংবাদ