০৩ আগস্ট ২০২১
`

হাজারের বেশি নারীকে পাচারের কথা স্বীকার করেছে মেহেদি : পুলিশ

মেহেদি হাসান বাবু (ডানে) - ছবি : সংগৃহীত

মেহেদি হাসান বাবু নামে এক ব্যক্তি একাই এক হাজারের বেশি নারীকে ভারতে পাচার করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এ কথা জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো: শহিদুল্লাহ।

বুধবার শ্যামলীতে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ভারতে পাচার হওয়া এক কিশোরী সম্প্রতি দেশে ফিরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। এরপর ওই মামলায় তিনজনকে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে মেহেদি হাসান বাবু (৩৫) একজন। তিনি মামলার বাদি ওই কিশোরীসহ এক হাজারের বেশি নারীকে ভারতে পাচারের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

ডিসি মো: শহিদুল্লাহ জানান, গ্রেফতার অপর দুই আসামি মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের মামলার বাদি ভুক্তভোগীসহ পাঁচ শতাধিক নারীকে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি কক্ষে রাখতে সহায়তা করেছে। ভুক্তভোগী নারীদের মোটরসাইকেলের মাধ্যমে সীমান্তে মানব পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়ার কথাও স্বীকার করেছে তারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ভারতে নারী পাচার হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভারতে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের সে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে হাতিরঝিল থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মানব পাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন তরুণীটির বাবা। তিনি মামলায় বলেছেন, তার মেয়েকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কথা বলে ভারতে নিয়ে যান রিফাদুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয় (২৬)।

সেই আলোচিত ঘটনার পর এবার আরেকজন কিশোরী পালিয়ে এসে নিজেই হাতিরঝিল থানায় মামলাটি করেছেন। ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলাটি করা হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী দাবকপাড়া কালিয়ানী এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে ভারতে পাচারের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নারী পাচারের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, একটি ডায়েরি, চারটি মুঠোফোন ও একটি ভারতীয় সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

এ মামলার ১২ আসামির মধ্যে গ্রেফতার তিনজনসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছে পুলিশ। বাকিরা ভারত থেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। বাংলাদেশের পাঁচজনের মধ্যে গ্রেফতার তিন আসামির সাথে ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্ত টিকটক হৃদয়ের যোগসাজশ পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া মেহেদি হাসান বাবুর বিষয়ে ডিসি মো: শহিদুল্লাহ বলেন, “সে প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে মানব পাচারে জড়িত। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা মুঠোফোন ও ডায়েরিতে হৃদয় বাবু, সাগর, সবুজ, ডালিম ও রুবেলের ভারতীয় মুঠোফোন নম্বর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ডায়েরিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওর ঘটনার ভুক্তভোগীর ‘আধার নম্বর’ ও ভারতে পাচারকৃত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভুক্তভোগীর নাম ও মানব পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।”



আরো সংবাদ