২৮ জুলাই ২০২১
`

ডা: সাবিরা হত্যাকাণ্ড : যা পাওয়া গেছে পোস্টমর্টেমে

ডা: সাবিরা - ছবি : সংগৃহীত

গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পোস্টমর্টেমে মিলেছে তাকে হত্যার আলামত। ধারাল অস্ত্রের আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

এ দিকে ডা: কাজী সাবিরা রহমান লিপি হত্যার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, সাবিরার কোনো স্বজনই মামলার বাদি হতে রাজি হচ্ছেন না। স্বজনরা নানা কারণ দেখাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পুলিশ নিজেই বাদি হয়ে মামলা করবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসক সাবিরার লাশের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে। পোস্টমর্টেম শেষে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস নয়া দিগন্তকে বলেন, নিহতের ঘাড়ে ও পিঠে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া তার গালের একাংশ ও পেট থেকে নিচের অংশ আগুনে ঝলসে গেছে। তিনি বলেন, ধারাল অস্ত্রের আঘাত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এটা হত্যার আলামত। পেশাদার খুনিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে ধর্ষণের আলামত আছে কি না সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু বোঝা যায়নি। ধর্ষণ হয়েছে কি না জানার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

পোস্টমর্টেম শেষে ডা: সাবিরার লাশ তার মামাত ভাই রেজাউল হাসানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। রেজাউল হাসান বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। বিষয়টিকে অন্য দিকে ডাইভার্ট করার জন্য আগুনের ঘটনা সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো কাউকে সন্দেহ করছি না। তদন্তের পর পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবে।

ডা: সাবিরা হত্যায় মামলার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বলেন, সাবিরার স্বামী শামসুদ্দীন আজাদকে মামলার বাদি হতে বলা হয়েছিল। ডায়াবেটিসসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে তিনি মামলার বাদি হতে রাজি হচ্ছেন না। অন্য দিকে সাবিরার এক মামাকে বাদি হতে বলা হলেও ঢাকার বাইরে বসবাস এবং সেখানে ব্যবসা থাকার কারণ দেখিয়ে তিনিও বাদি হতে রাজি হননি। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সাবিরার একমাত্র ছেলে তাজোয়ার এখন প্রাপ্তবয়স্ক। তাকেও বাদি হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সাবিরার মা এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, ছেলেটি কিছু দিনের মধ্যেই পড়াশোনার জন্য কানাডায় চলে যাবে। তাই তাকে বাদি করা যাবে না।
পুলিশ বলছে, এর বাইরে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো স্বজন বাদি হতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত কেউ যদি বাদি না হন, সে ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর থানার একজন এসআই পদমর্যাদার সদস্য মামলার বাদি হবেন।

গত সোমবার রাজধানীর কলাবাগানের বাসা থেকে চিকিৎসক সাবিরা রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার হয়। কলাবাগান ফার্স্ট লেনের ৫০/১ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের আগুন নেভানোর পর সাবিরার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

লাশটি উদ্ধারের পর কলাবাগান থানা-পুলিশ ছাড়াও র্যাব, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাবিরা রহমানের গলার বাঁ পাশে ও পিঠে ধারাল অস্ত্রের চারটি আঘাত পাওয়া গেছে। মধ্যরাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তার কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। কে বা কারা, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি নিহতের স্বজন ও পুলিশ।

এ দিকে ডা: সাবিরা হত্যাকাণ্ডের দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবনের দারোয়ান, সাবিরার ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকা এক তরুণী, তার এক বন্ধু এবং বাসার গৃহকর্মীকে নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের সঙ্গে কথা বলে আশপাশের আরো ছয় থেকে সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

কলাবাগান থানা পুলিশ বলছে, মামলার সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও নিহতের পরিবারের কেউ এখনো মামলা করতে আসেননি। তবে ডা: কাজী সাবিরা রহমান লিপি হত্যার শিকার হয়েছেন ধরেই তদন্ত করছে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। নিহতের আত্মীয়স্বজনের মধ্য থেকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো ৬-৭ জনকে হেফাজতে নিয়েছে ডিবি পুলিশ।

এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রমনা বিভাগের (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ডাক্তার সাবিরা হত্যার ঘটনায় যাদেরই জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে হয়েছে, তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত পর্যায়ে এখনই বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।



আরো সংবাদ