০৯ মে ২০২১
`

ভাই হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রেনু ও তার পরিবার

নিহত মিলন - ছবি : সংগৃহীত

ভাই হত্যার বিচার চাওয়ায় আসামিপক্ষের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রেনু বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা। মামলার আসামিরা জেলে থাকলেও তাদের সহযোগীরা ইতিমধ্যে রেনু বেগম ও তার ভগ্নিপতির ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। লুটপাট করে নিয়ে গেছে বাড়ির টাকা-পয়সা আর মূল্যবান সম্পদ। মামলা তুলে না নিলে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে আসামিদের লোকজন।

রেনু বেগম বলেছেন, আসামিরা জেল থেকে মুক্তি পেলে হয়তো তাদের আর রেহাই মিলবে না।

মামলার এজাহারে রেনু বেগম উল্লেখ করেন, তিনি এবং তার ভাই মিলন (৪৫) মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের চর পানিয়া গ্রামে তাদের ভগ্নিপতি হাজি মো: বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। সিরাজদিখানের চাঁন্দের চরের মৃত সিরাজ মেম্বারের ছেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী কামিজ উদ্দিন কামু, ফারুক হোসেন ও আবুল হোসেন এবং তাদের সহযোগীদের সাথে বিল্লাল হোসেনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরে কামু ও ফারুকের লোকজন গত ৯ মার্চ হাজি বিল্লাল ও তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। এই ঘটনায় বিল্লালের বড় ভাবী অজুফা বেগম সিরাজদিখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা এই মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল।

মামলা তুলে না নেয়ায় গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে ওই বাড়িতে হামলা চালায় কামু এবং ফারুক ও তাদের সহযোগীরা। তাদের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন রেনুর ভাই মিলন। দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করেই খ্যান্ত হয়নি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার ঘরের চারদিকে আগুন লাগিয়ে দেয়।

মিলনের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনায় কামু, ফারুক, রুপচান, আবুল হোসেন (৪৮)সহ মোট ২০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন মিলনের বোন রেনু বেগম। মামলা দায়েরের পর আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছেন।

এদিকে, মিলন হত্যার বিচার চাওয়ায় এবং হত্যা মামলা দায়ের করায় গ্রেফতার এড়িয়ে যেসব আসামি ছিল এবং গ্রেফতার হওয়া আসামিদের সহযোগীরা গত ২৪ এপ্রিল রেনু বেগম এবং তার ভগ্নিপতি হাজি বিল্লালের বসতঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। একইসাথে তারা রেনু বেগম ও তার ভগ্নিপতি হাজী বিল্লালের ঘরের মূল্যবান মালামাল ও টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, কামিজ উদ্দিন কামু ও ফারুকসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন সময়ের একাধিক মামলা রয়েছে। এর অনেক মামলা রয়েছে বিচারাধীন। এলাকায় এরা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। তাদের রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী।

স্থানীয়রা জানান, সিরাজদিখান জনপদের ভয়ঙ্কর একজন সন্ত্রাসী কামু। কামুর বাহিনীর অত্যাচারে সাধারণ মানুষ ও ব্যাবসায়ীরা আতঙ্কিত। সিরাজদিখান থানার ৭(১১)২০১৯ নং মির আলী মার্ডার মামলায় সিআইডি ইতিমধ্যে কামু গংয়ের মধ্যে চার্জশীট দিয়েছে, যা শুনানির জন্য আছে। কামুর লোকজন এখনো বাদি ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

রেনু বেগম বলেন, আসামিরা জামিনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। তারা উপর মহলের ক্ষমতাশালী অনেকের কাছে যাচ্ছে। তারা জামিনে মুক্ত হয়ে গেলে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়বেন বলে রেনুর আশঙ্কা। তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।



আরো সংবাদ