১০ এপ্রিল ২০২১
`

বোনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিলেন ভাই

প্রতীকী ছবি -

সম্পত্তির লোভে নিজের বোন শামীমা বেগমকে ঢাকা থেকে নেত্রকোনা নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন দুই ভাই শফিউল আজম ও শামীম হোসেন। পরে বোন নিখোঁজ এই মর্মে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। তবে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বোন হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ঘাতক দুই ভাই।

সোমবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার খাইরুল আলম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার জানান, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দিনের ছেলে বর্তমানে ঢাকার দক্ষিণখান কাঁচা বাজার সংগ্রামী সরণী রোডের ৩১২ নং বাসার বাসিন্দা শফিউল আজম (৫২) গত ৪ মার্চ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় উপস্থিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়রি করেন।

জিডিতে শফিউল উল্লেখ করেন, তার বোন শামীমা বেগম (৪৪) গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর রানাখড়িয়ায় বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রওনা হন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত বোনের সাথে মুঠোফোনে তার যোগাযোগ হয়। এর পর থেকে বোনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রোববার কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকা থেকে প্রথমে শফিকুল আজমের চাচাত ভাই একই এলাকার নায়েব আলী মৃধার ছেলে শামীম হোসেনকে (৪০) আটক করে। পরবর্তীতে ওইদিনই শফিউল আজমকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম পুলিশকে জানায়, তার চাচাত ভাই শফিউল আজম কিছুদিন আগে তার চাচাত বোন শামীমাকে নেত্রকোনা নিয়ে যাওয়ার জন্য তার কাছে সাহায্য চান।

শামীম পুলিশকে আরো জানান, শামীমার মা মারা যাওয়ার পর চাচাত ভাই শফিউল আজম অন্য এক মহিলাকে মা সাজিয়ে তার মায়ের নামে ঢাকায় ছয় তলা বাড়ি ও মার্কেট নিজের নামে লিখে নেয়। জালিয়াতি করে বাড়ি ও মার্কেট নিজের নামে লিখে নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শফিউলের বাবা আশরাফ উদ্দিন ছেলের নামে ঢাকায় সিভিল কোর্টে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন শামীমা বেগম। প্রায় ৩০ বছর আগে নেত্রকোনা সদরে শামীমার বিয়ে হলেও অল্প দিনের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। সেই থেকে শামীমা ঢাকাতে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। কিন্তু ভাই শফিউল বোন শামীমাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। ভাইয়ের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য এক পর্যায়ে শামীমা তার স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। সম্পত্তি জালিয়াতির মামলায় যাতে বোন সাক্ষী দিতে না পারে এ জন্য দুই ভাই শফিউল ও শামীম বোন শামীমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

হত্যা পরিকল্পনার বিষয়ে শামীম জানায়, পরিকল্পনা অনুয়ায়ী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শামীম তার চাচাত বোন শামীমাকে ঢাকা থেকে নেত্রকোনা নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হন এবং পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নেত্রকোনা শহরের একটি হোটেলে ওঠেন। পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শফিউল আজম হোটেলে দু’জন লোক পাঠান।

ভাড়াটিয়া দু’জনের সহায়তায় শামীম চাচাত বোন শামীমা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য নেত্রকোনা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে কংস নদীতে ফেলে দেয়।

গত ৩ মার্চ দুপুর পৌনে ১টার দিকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ নদীতে ভাসমান অবস্থায় একজন নারীর লাশ উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম দাবি করেন, গ্রেফতারকৃত দুই ভাই শামীমা বেগমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্য আসামিদেরকেও গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র : ইউএনবি



আরো সংবাদ


লক খোলা লকডাউন, রোববার নতুন নির্দেশনা (১৫৪৬৩)র‌্যাবের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করলো পুলিশ (১৪৫৪৯)১৪ এপ্রিল থেকে জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী (১২০৮১)ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করুন : বাবুনগরী (৮৫১১)১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের চিন্তা সরকারের : কাদের (৮৩৮২)এবার টার্গেট জ্ঞানবাপী মসজিদ! (৭১৪৪)আপনি যে পতনের দ্বারপ্রান্তে তা বুঝবেন কিভাবে? (৫৪২১)মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বন্দুক নিয়ে লড়ছেন বিক্ষোভকারীরা (৪৫৯৮)হিমছড়িতে ভেসে এলো বিশাল তিমি (৪৪৫৭)বিজেপির নির্বাচনী গানে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ছবি (৪২৪৬)