২৮ মার্চ ২০২০

এত অভিযানের পরও দুই কোটি ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকলো কিভাবে?

কক্সবাজার জেলায় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফে এবার ২১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ঘটা করে আত্নসমর্পণ করানো হয়েছে। এক বছর আগে টেকনাফেই ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্নসমর্পণ করেছিল।

অবৈধ মাদকের ব্যবসার বিরুদ্ধে দেড় বছরেরও বেশি সময়ে পুলিশ র‍্যাবের অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বা এনকাউন্টারে কমপক্ষে ৪০০জন নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে।

কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের আত্নসমর্পণ বা এমন অভিযানের পরও গত বছর টেকনাফ সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই কোটির বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে এসব পদক্ষেপ কতটা ভূমিকা রাখছে, সেই প্রশ্ন উঠছে।

টেকনাফে ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ২১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্নসমর্পণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশের ডিআইজিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২১ হাজার ইয়াবাসহ তাদেরকে পুলিশ প্রথমে আটক করেছিল, এরপর এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্নসমর্পণ করানোর পর তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র এবং মাদকের মামলা দায়ের করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসাইন বলছিলেন, এই মাদক ব্যবসায়ীদের আবেদন অনুযায়ী আত্নসমর্পণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের ঐ পথ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেয়া হলো।

"এই ২১ জন এক জায়গায় জড়ো হওয়ার পর খবর পাওয়া গেছে যে তাদের কাছে মাদক এবং অস্ত্র আছে। পুলিশের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে একপর্যায়ে তারা বলে যে তারা আত্নসমর্পণ করতে চায়। সেকারণে তাদের এই আত্নসমর্পণ প্রক্রিয়া।"

এক বছর আগে কক্সবাজারে যে ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্নসমর্পণ করেছিল, তারা অবৈধ অস্ত্র এবং মাদকের মামলায় জেলে রয়েছে বলে পুলিশ বলছে।

একইসাথে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, যারা আত্নসমর্পণ করছে, তারা ছাড় পাবে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র এবং মাদকের মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ তাদের সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখবে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।

অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশ র‍্যাবের অভিযানে একের পর এক কথিত বন্দুকযুদ্ধে বা এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

২০১৮ সালের মে মাসে এই অভিযান শুরুর পর থেকে এপর্যন্ত কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৪০০ জনের মতো নিহত হয়েছে এবং অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে পাঁচ হাজারের বেশি আটক রয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে।

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা রাঘব বোয়ালরা আত্নসমর্পণ করছে না বা তাদের ধরা হচ্ছে না, সেকারণে ইয়াবা ব্যবসা থামছে না।

"মাদকের আসল ব্যবসায়ীদের কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে, সেই প্রশ্ন থাকছেই।"

অবৈধ মাদক ব্যবসা এবং পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক। তিনি মনে করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দেয়ার জন্য আরো গভীরে যাওয়া প্রয়োজন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ীই দেখা যাচ্ছে, গত বছরে দুই কোটি বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।

তবে অধিপ্তরের মহাপরিচালক মো: জামাল উদ্দীন আহমেদ দাবি করেছেন, আত্মসমর্পণ এবং অভিযানের কারণে এখন প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা নেই।

"সম্প্রতি যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে, সেগুলোকে যদি বিবেচনায় নেয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশে ইয়াবার প্রচলন যিনি ঘটিয়েছেন, তিনি এখন আর দৃশ্যপটে নেই। এভাবে অনেক গডফাদারের নাম উল্লেখ করতে পারি, যারা কেউ আত্মগোপনে গেছে বা কেউ জেলে আছে।"

তিনি আরও বলেছেন, "২০১৯ সালে দুই কোটির বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এর আগের বছর ২০১৮ সালে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল পাঁচ কোটি ৩০ লাখ। ফলে ইয়াবা সরবরাহ কমে এসেছে।"

তিনি এও দাবি করেছেন যে, প্রভাবশালী কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। বিবিসি।


আরো সংবাদ