০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ন ১৪৩০, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরি
`

সাকিবময় আরো একটা বিশ্বকাপের অপেক্ষায়...

সাকিব আল হাসান - ছবি - ইন্টারনেট

রাত পোহালেই বিশ্বকাপ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) মাঠে গড়াবে ক্রিকেটের এই মহারণ। একদিন পর মাঠে নামবে বাংলাদেশও, ৭ অক্টোবর (শনিবার) আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লড়াই। সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশের জার্সিতে টস করতে নামবেন সাকিব, যা হবে তার পঞ্চম বিশ্বকাপ।

পরিসংখ্যান আর পারফরম্যান্সের বিচারে তাকে এই বিশ্বকাপের সেরা তারকাও বলা যায়। আলাদাভাবে ব্যাটে বলেও এই বিশ্বকাপে অন্য সবার চেয়ে ঢের এগিয়ে সাকিব, যার সবচেয়ে বড় রেকর্ড বোধদয় অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংটাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা।

২২ জানুয়ারি ২০০৯। বাঙালীর বহু বছরের সাধনার পরিসমাপ্তি ঘটেছিল সেইদিনে। কোটি প্রাণের আরাধনা সত্য হয়েছিল সেদিনে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছিল উঁচুশিরে। যার সবটাই ছিল সাকিবকে ঘিরে। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় বিশ্বসেরার সিংহাসনে সমাসীন হন তিনি! প্রথমবারের মতো উঠে আসেন অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে।

এরপর থেকে যেন ব্যাটে-বলে সমতালের সেরার আসনটা একেবারে নিজের সম্পত্তি করে ফেলেছেন সাকিব। এমনকি গড়ে ফেলেছেন ইতিহাসও। ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, জ্যাক ক্যালিস বা গ্যারি সোবার্সের সাথে যেই সাকিবের তুলনা হয় অহরহ, সেই সাকিব তাদেরও ছাপিয় গেছেন একটা দৌড়ে।

অন্য খেলাগুলোরও তারকা তিনি, এমনকি রজার ফেদেরার কিংবা সেরেনা উইলিয়ামসের মতো তারকারাও যে দৌঁড়ে তার পেছনে। হ্যাঁ, বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, সাকিব আল হাসান টানা ৩২৪ সপ্তাহ ওয়ানডে ক্রিকেট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেছেন, যেখানে পেছনে ফেলেছেন সেরেনার ৩১৬ সপ্তাহ শীর্ষে থাকার কীর্তি।

২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে একচেটিয়া রাজত্ব চলছে সাকিব আল হাসানের। একটা সময় শীর্ষস্থান নিয়ে তার লড়াই চলেছে জ্যাক ক্যালিস, ফ্লিনটফ, জয়সুরিয়াদের সাথে। শেন ওয়াটসন, শহিদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিকরা ছিলেন পরের ধাপে। এখন স্টোকস, পান্ডিয়া, রশিদ খানরা আছেন, সাথে আছেন সাকিব আল হাসানও। আছেন যুগ পেরিয়ে সেরাদের সেরা হয়ে।

এই রাজত্ব চলছে ক্রিকেট বিশ্বকাপেও। সব কিছু ঠিক থাকলে এবারের বিশ্বকাপেও র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে অংশ নেবেন সাকিব, যা নিয়েছেন আগের তিন আসরেও। সব মিলিয়ে নিজের খেলা পাঁচ বিশ্বকাপের চারটিতেই শীর্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে অংশ নিচ্ছেন সাকিব। যা নেই আর কারো। দু'বার আছে কেবল গ্রেগ চ্যাপেলের।

এখানেই শেষ নয়, এবারের বিশ্বকাপে সাকিব অংশ নিচ্ছেন দাপুটে চরিত্রেই। অংশ নেয়া সব ক্রিকেটারের মাঝে সর্বোচ্চ রান সাকিব আল হাসানের, ১১৪৬ রান নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। যেখানে ১০৩০ রান নিয়ে তার পেছনে বিরাট কোহলি।

বল হাতেও সেরাদের কাতারে সাকিব। যেখানে অংশ নেয়া ক্রিকেটারদের মাঝে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী তিনি। উইকেট সংখ্যা ৩৪। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্যাটে কিংবা বলে সেরা পাঁচে অলরাউন্ডার নেই আর কেউ।

শেষ করি একটা পরিসংখ্যান দিয়ে। ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিব আল হাসানই একমাত্র ক্রিকেটার, বিশ্বকাপে যার এক হাজারের অধিক রান ও ত্রিশোর্ধ্ব উইকেট রয়েছে!


আরো সংবাদ



premium cement