১৫ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ৮ মহররম ১৪৪৬
`

এশিয়া কাপে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

এশিয়া কাপে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা। - ছবি : সংগৃহীত

এশিয়া কাপে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় আসরের মতো ফাইনালে পৌঁছে গেছে লঙ্কানরা। নিজ দেশের মাটিতে বৃষ্টিবিঘ্নিত নাটকীয় এক ম্যাচে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটলো লঙ্কানরা। 

এমন নাটকীয়তা অপেক্ষা করছিল শেষ মুহূর্তে কে জানতো? গল্পের প্রথম দৃশ্য তো সাদামাটাই ছিলো! তবে শেষ অংশটা হয়ে উঠেছিল উত্তেজনায় টইটম্বুর, ঘোর রহস্য। যা হার মানাবে কোনো থ্রিলার মুভিকেও! তবে শেষ কথার এক কথা, ‘বিদায় পাকিস্তান।’ ভারত ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে ১৭ সেপ্টেম্বর ফাইনালে।

জিতলেই ফাইনাল, হারলেই বিদায়; এমন সমীকরণ নিয়েই প্রেমাদাসায় বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাঠে নেমেছিল দুইদল। যেখানে ৪৩ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫২ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে শেষ বলে এসে সমীকরণ পূরণ করে ফেলে শ্রীলঙ্কা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জয় পায় ২ উইকেটে। ফলে আবারো শিরোপার লড়াইয়ে নাম লেখায় বর্তমান শিরোপাজয়ীরা।

ভারতের পর এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও প্রয়োজনমতো জ্বলে উঠতে পারেনি পাক বোলাররা। শেষের দিকে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও শুরুর দিকে শাহিন আফ্রিদিদের স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলেছেন কুশল মেন্ডিসরা। যা কাল হয়েছে পাকিস্তানের জন্যে।

মাত্র বিশ রানেই যদিও প্রথম উইকেট হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাচ নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসার ভিত গড়ে ফেলে তারা। পাথুম নিশানকা ও কুশল মেন্ডিস মিলে গড়ে তুলেন অর্ধশত রানের জুটি। নিশানকা আউট হন ৪৪ বলে ২৯ রানে। ৭৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতন হয়।

তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে ১৭৭ রানে এসে। এবার সাদিরা সামারাবিক্রমাকে নিয়ে জুটি গড়েছিলেন মেন্ডিস। সাদিরা ৪৮ রান করে ফিরেন ৩০তম ওভারে। তবে ততক্ষণে ফিফটি তুলে নিয়েছেন মেন্ডিস। হাঁটছিলেন শতকের পথেই। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ান ইফতেখার। ৮৭ বলে ৯১ করা মেন্ডিসকে ফেরান তিনি।

৩৫.১ ওভারে কুশল মেন্ডিস আউট হলে খানিকটা মলিন হয়ে আসে লঙ্কানদের জয়ের স্বপ্ন। এরপর আবার দ্রুত ফেরেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা (২)। লঙ্কানদের সংগ্রহ তখন ৩৭.৪ ওভারে ২২২/৫। বাকি কাজটা সামলে দেন চারিথ আসালাঙ্কা। তবে তা একেবারেই সহজ ছিল না।

যখন জয় থেকে মাত্র ১২ রান দূরে, হাতে ১২ বল আর ৫ উইকেট। তখনই শাহিন শাহ আফ্রিদির জোড়া আঘাত। সেই ওভার থেকে আসে মাত্র ৪ রান৷ ৪১ ওভার শেষে সংগ্রহ তখন ৭ উইকেটে ২৪৬ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন দেখা দেয় ৮ রান।

শেষ ওভারে মাদুশান রান আউট হলে শেষ দুই বলে প্রয়োজন ৬ রানের৷ জামান খানকে প্রথমে বাউন্ডারি ও শেষ বলে ২ রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন আসালাঙ্কা। ৪৭ বলে ৪৯ রান করেন তিনি। ২ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট নেন ইফতেখার। 

এর আগে বৃষ্টি ভেজা প্রেমাদাসায় টসে জিতে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। এদিন ৪.২ ওভারে মাত্র ২ রান তুলতেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙে পাকিস্তানের। ফখর জামান ফেরেন ১১ বলে ৪ রানে। সেখান থেকে আব্দুল্লাহ শফিককে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় রত ছিলেন বাবর আজম। ৬৪ রানের জুটিও গড়ে তুলেছিলে মাত্র ৭৩ বলে। 

তবে শফিককে রেখেই ফিরেন তিনি। কুশল মেন্ডিসের দারুণ স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে ৩৫ বলে ২৯ করে। এরপর শফিক ও রিজওয়ান মিলে পাকিস্তানকে পৌঁছে দেন তিন অঙ্কের ঘরে। এরপরই ফের নামে ধস, ৮ রানে ২ আর ৩০ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় তারা।

ফিফটি তুলে নেয়া আব্দুল্লাহ শফিককে ফেরান পাথিরানা। ৬৯ বলে ৫২ রান করেন শফিক। পাথিরানার পরের শিকার মোহাম্মদ হারিস, ১২ বলে ৩ করে ফেরেন তিনি। আর মোহাম্মদ নাওয়াজকে (১২) ফেরান থিকসানা। ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮ ওভারে ১৩০ রান তুলে পাকিস্তান। 

পরের গল্পটা মোহাম্মদ রিজওয়ানের। ইফতেখার আহমেদকে সাথে ইনিংস টানতে থাকেন তিনি। আরো একবার প্রমাণ করেন পাকিস্তান দলে তার প্রয়োজনীয়তা কতখানি। ইফতেখারও কম যাননি, রান তুলেছেন পাল্লা দিয়ে৷ ৮৪ বল থেকে ১০৮ যোগ করেন দু'জনে।

৪১তম ওভারে ৪০ বলে ৪৭ করে ইফতেখার ফিরলে ভাঙে এই জুটি। তবে রিজওয়ান অপরাজিত ছিলেন আসরের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে, ৭৩ বলে ৮৬ রানে। ৬৫ রানে ৩ উইকেট নেব পাথিরানা, জোড়া উইকেট নেন মাদুশান।

উল্লেখ্য, বৃষ্টির কারণে এই ম্যাচে সময়মতো টস হয়নি। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের লড়াইটি প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর শুরু হয়। ফলে ৫ ওভার করে কাটা হয় দুই ইনিংসে। অর্থাৎ ৫০ ওভারের বদলে ৪৫ ওভারের ম্যাচ ধরা হয় শুরুতে। পরে বৃষ্টিবাধায় আরো তিন ওভার কাটায় হয়েছে ৪২ ওভার।


আরো সংবাদ



premium cement