২২ মার্চ ২০২৩, ০৮ চৈত্র ১৪২৯, ২৯ শাবান ১৪৪৪
`

'কেন ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে ভয় পায়'?- মিয়াঁদাদের মন্তব্যে ঝড়

-

ভারতীয় ক্রিকেট দল শেষবারের মতো পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল প্রায় ১৪ বছর আগে, ২০০৮-এর এশিয়া কাপে খেলতে।

এরপর মাঝে বহু বছর পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ থাকলেও গত তিন বছরে আইসিসির পূর্ণ সদস্য প্রায় সবগুলো দেশই পাকিস্তানে খেলতে গেছে- ব্যতিক্রম কেবল ভারত।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এ বিষয়ে বহুবার আপত্তি জানালেও কোনো লাভ হয়নি। কারণ পাকিস্তানে গিয়ে ভারতের জাতীয় দলের খেলাকে ভারতের নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার মোটেই পছন্দ করে না। এটা তারা খোলাখুলিই বলে।

এই মতবিরোধের জেরে পাকিস্তানের মাটিতে চলতি বছরে যে এশিয়া কাপ হওয়ার কথা, তারও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ ভারত আবার পাকিস্তানে যেতে বেঁকে বসেছে। তারা চায় কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টুর্নামেন্ট হোক।

আর এই স্পর্শকাতর বিষয়টিতেই এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট লেজেন্ড জাভেদ মিয়াঁদাদ। তিনি ক্রিকেট মহলে বেশ ‘ঠোঁটকাটা’ বলেই পরিচিত।

মিয়াঁদাদের সেই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে।

কী বলেছেন মিয়াঁদাদ?
পাকিস্তানের ক্রীড়া সাংবাদিক ফরিদ খান একের পর এক টুইটে একটি অনুষ্ঠানে দেয়া জাভেদ মিয়াঁদাদের ওই বক্তব্য সামনে এনেছেন। পরে সেই বক্তব্যের ভিডিও-ও প্রকাশিত হয়েছে।

সেখানে সাবেক ওই তারকা ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘কেন ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে ভয় পায়? কারণ, তারা জানে, পাকিস্তানের কাছে হারলে তাদের দেশের মানুষ ছেড়ে কথা বলবে না। এমনকি নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত উধাও হয়ে যাবেন। ভারতের পাবলিক তাকেও ছাড়বে না।

জাভেদ মিয়াঁদাদ আরো দাবি করেছেন, আশির দশকে পাকিস্তান যখন শারজাতে ভারতের বিরুদ্ধে নিয়মিত জিততো, তখন ভারত শারজায় খেলতে আসাই বন্ধ করে দিয়েছিল।

‘কারণ (হারার পর) তাদের ক্রিকেটারদের বাড়িতে ক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দিত। এমনকি গাভাসকারের মতো ক্রিকেটারও এর জন্য সমস্যায় পড়েছিলেন!’

এর পরই তিনি যোগ করেন, ‘পাকিস্তানে যদি তারা খেলতে না আসে, তাহলে জাহান্নামে যাক। ভারত না এলে আমাদের কিচ্ছু যায় আসে না!’

ভারতকে ‘বাগে আনার’ দায়িত্ব ক্রিকেট বিশ্বের নিয়ামক সংস্থা আইসিসির বলেও মনে করেন তিনি।

মিয়াঁদাদকে উদ্ধৃত করে ফরিদ খান আরো জানান, ‘যদি তারা সদস্যদের নিয়ন্ত্রণই করতে না পারে, তাহলে এমন গভর্নিং বডি থেকে কী লাভ? সব সদস্যের জন্যই নিয়ম এক হওয়া উচিত।’

মিয়াঁদাদের এই বক্তব্য সামনে আসার পর ভারতের ক্রিকেট সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়াতে যথারীতি তাকে ধুইয়ে দিচ্ছেন বলা যেতে পারে।

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ভেঙ্কটেশ প্রসাদ মিয়াঁদাদের বক্তব্যের কনটেক্সটে ভারতীয় দলের একটি ছবি দিয়ে টুইট করেছেন, ‘কিন্তু এরা তো জাহান্নামে যেতে চাইছে না!’

এশিয়া কাপের ভাগ্যে কী আছে?
ভারতের ক্রিকেট পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন, মিয়াঁদাদের এই বক্তব্যের আড়ালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবি-ই আসলে তাদের দেশে খেলতে আসার জন্য ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে।

সিনিয়র ক্রিকেট সাংবাদিক জয়দীপ বসু মনে করছেন, ‘দু’দেশের বোর্ডের মধ্যে বিস্তর আলোচনাতেও যার জট খোলেনি, এখন সাবেক তারকাদের দিয়ে ভারতের আঁতে ঘা দিয়ে পিসিবি হয়তো দেখতে চাইছে- তাতে কোনো কাজ হয় কিনা!’

তবে জাভেদ মিয়াঁদাদের বিবৃতিতে পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই তিনি মনে করেন। কারণ ‘রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণেই ভারত সরকার কিছুতেই এখন ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে পাঠাতে রাজি হবে না।’

তবে ভারতের খেলতে না আসার বিষয়টি বহুকাল নীরবে হজম করে যাওয়ার পর পাকিস্তান যে এখন তা নিয়ে একটি হেস্তনেস্ত করতে চাইছে, সে লক্ষণ স্পষ্ট।

গত শনিবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি) বাহরাইনে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বৈঠকে এ বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কঠোর অবস্থান ভারতকেও বেশ বিস্মিত করেছে।

ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো জানাচ্ছে, ওই বৈঠকে এসিসির প্রেসিডেন্ট তথা ভারতীয় বোর্ডের সচিব জেয় শাহ যখন বলেন- তারা এশিয়া কাপ পাকিস্তানের বদলে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে করতে চান, তখন পিসিবি প্রধান নাজম শেঠিও জানিয়ে দেন, এমন হলে তাদেরও ভাবতে হবে, আগামী অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ান-ডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান আদৌ খেলতে আসবে কিনা।

বস্তুত পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের কারণেই বাহরাইনের সেই বৈঠকে এশিয়া কাপের ভেন্যু নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি।

আপাতত স্থির হয়েছে, মার্চে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আবার বৈঠকে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।

ভারতের দাবি অনুযায়ী ওই টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেয়া হবে, নাকি পাকিস্তান নিজের দেশের মাটিতেই সেটি আয়োজন করতে পারবে, তার ফয়সালা হবে সেই বৈঠকেই।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ


premium cement