১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

ওয়ার্নার-ডেভিড-স্টার্কের হাত ধরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো অস্ট্রেলিয়া


দুই ব্যাটার ডেভিড ওয়ার্নার ও টিম ডেভিডের ঝড়ো ইনিংসের পর বল হাতে মিচেল স্টার্কের দারুণ বোলিং নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।

শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়া ৩১ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতলো অসিরা। প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এ ম্যাচে ওয়ার্নার ৪১ বলে ৭৫, ডেভিড ২০ বলে ৪২ রান করেন। বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২০ রানে ৪ উইকেট নেন স্টার্ক।

ব্রিজবেন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট হাতে ভালো শুরু হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ১০ রানে ফিরেন ভারত সফরে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা ক্যামেরুন গ্রিন। মাত্র ১ রান করে আলজারি জোসেফের শিকার হন গ্রিন।

শুরুতে উইকেট হারালেও তা আমলে নেননি আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের উপর চড়াও হয়ে ৩০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ওয়ার্নার। তার ঝড়ো অর্ধশতকে ১০ ওভারেই ৮৮ রান পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

১১তম ওভারেই এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁ-হাতি পেসার ওবেড ম্যাককয়। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে বিদায় করেন ম্যাককয়। ওয়ার্নারের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৫২ বলে ৮৫ রান যোগ করেন ফিঞ্চ। জুটিতে অধিনায়ক ফিঞ্চের অবদান ছিল ১৯ বলে ১৫ রান।

অধিনায়ক ফেরার পরের ওভারে বিদায় ঘটে ওয়ার্নারের। ওডিন স্মিথের শিকার হওয়ার আগে ৪১ বল খেলে ৭৫ রান করেন ওয়ার্নার। টি-টোয়েন্টিতে ২৩তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া ইনিংসে ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।

ওয়ার্নারের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর বোর্ড দ্রুত ঘুরিয়েছেন টিম ডেভিড। ২০ বলের ক্যামিও ইনিংস খেলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪২ রান করেন ডেভিড। সাথে স্টিভেন স্মিথের ১৬ বলে ১৭ ও ম্যাথু ওয়েডের ১৪ বলে ১৬ রানের উপর ভর করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৮ রান পায় অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফ ২১ রানে ৩টি ও ম্যাককয় ৩৩ রানে ২টি উইকেট নেন।

১৭৯ রানের টার্গেটে প্রথম ওভারেই কাইল মায়ার্সকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিচেল স্টার্কের চতুর্থ বলে ছক্কা মারার পরের ডেলিভারিতে ফিরেন মায়ার্স।

দ্বিতীয় উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার জনসন চালর্স ও ব্রান্ডন কিং। ৪১ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন তারা। কিংকে শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার এডাম জাম্পা। ১৮ বলে ২৩ রান করেন কিং।

মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরেন গ্রিন ও স্টার্ক। ৩০ রানের ব্যবধানে অসিদের ৩ উইকেট তুলে নেন তারা। এ সময় অধিনায়ক নিকোলস পুরান ২ ও জেসন হোল্ডার ১৬ রান করে স্টার্কের শিকার হন। আর চালর্সকে ২৯ রানে থামান গ্রিন।

১৩তম ওভারে ৯২ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের দিকে, দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন রোভম্যান পাওয়েল ও আকিল হোসেন। কিন্তু তাদের লড়াই যথেষ্ট ছিল না। ২৩ বলে ৩০ রানের জুটি গড়েন তারা। পাওয়েলকে ১৮ ও আকিলকে ২৫ রানে থামিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন প্যাট কামিন্স। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ২০ রানে ৪ উইকেট নেন। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হন ওয়ার্নার।

আগামী ৯ অক্টোবর পার্থে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া।

সূত্র : বাসস


আরো সংবাদ


premium cement