০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

মিলারের ৩ ছক্কায় আইপিএলের ফাইনালে গুজরাট

ডেভিড মিলারের ৩ ছক্কায় রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গুজরাট লায়ন্স। - ছবি : সংগৃহীত

ছয় বলে দরকার ১৬ রান। ম্যাচ তখন ঝুলছিল পেন্ডুলামের মতো। তবে এক ঝটকায় সব পানির মতো সহজ করে দিলেন গুজরাটের ডেভিড মিলার। প্রথম তিন বলেই রোমাঞ্চ ছড়িয়ে টানা তিন ছক্কা হাঁকালেন তিনি। তিন বল হাতে রেখে এলো রুদ্ধশ্বাস এক জয়। মিলারের ব্যাটেই আইপিএলের ফাইনালে পৌঁছে গেল গুজরাট লায়ন্স।

প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মঙ্গলবার রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে গুজরাট লায়ন্স। আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে রাজস্থান। জবাবে ৩ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় গুজরাট।

হারলেও ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ আছে রাজস্থানের। সেক্ষেত্রে তাদের খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ।

বড় টার্গেটে খেলতে দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় গুজরাট। বোল্টের বলে স্যামসনের হাতে ক্যাচ দেন ঋদ্ধিমান শাহা। দ্বিতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন সুবমান গিল ও ম্যাথু ওয়েড। এই জুটি দলকে নিয়ে যান ৭২ রান পর্যন্ত। ২১ বল ৩৫ রান করে রান আউট হন সুবমান গিল। ৫ চারের পাশাপাশি তিনি হাঁকান এক ছক্কা।

এর কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন ওয়েডও। ম্যাকয়ের বলে বাটলারের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৩০ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। ছক্কা না হাঁকালেও বাউন্ডারি মেরেছেন ৬টি।

এরপর দলকে কক্ষপথে রাখেন অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ও ডেভিড মিলার জুটি। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে জয়ে আশা বেঁচে থাকে গুজরাটের। যদিও রান ও বলের ব্যবধান ছিল বেশ। আস্তে আস্তে সেই ব্যবধান কমিয়ে আনেন দুজন।

১৮ বলে এক সময় দরকার ছিল ৩৪ রান। চাহালের ওভারে মিলারের ছক্কাসহ আসে ১১ রান। ১২ বলে দরকার তখন ২৩ রান। ১৯তম ওভারে ম্যাকয় দেন মাত্র ৭ রান।

শেষ ৬ বলে দরকার পড়ে ১৬ রান। ক্রিজে দুই হিটার হার্দিক ও মিলার। প্রসিদ্ধর প্রথম দুই বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ডেভিড কিলার খ্যাত ডেভিড মিলার। ৪ বলে দরকার তখন মাত্র ৪ রান। তৃতীয় বলেও হাঁকান ছক্কা। রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গুজরাট লায়ন্স।

৩৮ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে সর্বোচ্চ ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার। অনুমিতভাবে ম্যাচ সেরা তিনিই। ২৭ বলে ৫ চারে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন হার্দিক পান্ডিয়া।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ওপেনার ইয়াসভি জয়সালকে হারায় রাজস্থান রয়্যালস। ৮ বলে ৩ রান করে তিনি বিদায় নেন ইয়াশ দয়ালের বলে। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে বড় স্কোরের ভিত করে দেন জশ বাটলার ও সঞ্জু স্যামসন।

ব্যাট হাতে ঝলসে ওঠেন বাটলার। তার ব্যাটেই আসে ইনিংস সর্বোচ্চ রান। ৫৬ বলে ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কার মার। সেঞ্চুরিটা হয়ে যেত, দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়ে যান তিনি রান আউট।

অল্পের জন্য ফিফটি পাননি স্যামসন। ২৬ বলে ৪৭ রান করেন তিনি। ৫ চারের পাশাপশি ৩ ছক্কায় হাঁকান রাজস্থান অধিনায়ক। মিডল অর্ডারে ২০ বলে ২৮ রান করেন দেবদূত পাডিকাল। দুটি করে সমান চার ও ছক্কা মারেন তিনি। গুজরাটের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সামি, ইয়াশ দয়াল, হার্দিক পান্ডিয়া ও সাই কিশোর।


আরো সংবাদ


premium cement