০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ৫ জিলহজ ১৪৪৩
`

৬ মাসের বিরতি নাকি টি-টোয়েন্টিতে আর ফেরাই হবে না তামিমের?

তামিম ইকবাল - ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ও তামিম ইকবাল। কিছুদিন ধরে এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। সবশেষ একটি ঘোষণা সে আলোচনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেছেন, আগামী ছয় মাস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলবেন না তিনি।

আগামী ছয় মাস। নাকি আর টি-টোয়েন্টিতেই ফেরা হবে না তামিমের- তা নিয়েও আছে রাজ্যের সংশয়। কারণ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ তামিম খেলেছেন সেই ২০২০ সালের মার্চে। এরপর কয়েকটি সিরিজ গেছে। খেলা হয়নি। তিনি খেলেননি বিশ্বকাপও। নাম সরিয়ে নেন বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে। যদিও দলের ভেতরের কোন্দলের কথা কম বেশি অনেকের জানা। তামিম এখন খেলছেন বিপিএলে। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, তামিম আর টি-টোয়েন্টি খেলতে চায় না।

সেই খবরের পর বৃহস্পতিবারের তামিমের ঘোষণা এক বিন্দুতে সব মিল করে দিয়েছে। তামিমকে আর টি-টোয়েন্টিতে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে থাকছে সংশয়।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম শুরুটা করেন এভাবে, ‘শেষ কয়েকদিন ধরে আপনারা সবাই জানেন যে আমার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে অনেক জায়গায় বৈঠক হয়েছে। সভাপতি, জালাল ভাই, কাজী এনাম ভাইদের সাথে। উনারা অবশ্যই চাচ্ছেন আমি চালিয়ে যাই অন্তত বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আমার ব্যাপারটা আলাদা ছিল। এখন দুজন মিলে যেটা ভালো হয় ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ছয় মাস আমি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে ভাবছি না। এই কয়েক মাস আমার পুরো ফোকাস টেস্ট ও ওয়ানডেতে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি নিয়ে ভাবব না। আশা করি এই ছয় মাসে তরুণরা এত ভালো খেলবে-আমার আর প্রয়োজন পড়বে না। তারপরও ছয় মাস পর আল্লাহ মাফ করুক যদি এমন সময় আসে ক্রিকেট বোর্ড, সিলেক্টর বা টিম ম্যানেজম্যান্ট যদি মনে করে আমাকে দরকার। আমিও যদি রেডি থাকি। তখন আবার এটা নিয়ে আলাপ হবে। কিন্তু এই ছয় মাস ভাবছি না।’

টি-টোয়েন্টি থেকে বিশ্রাম কেন। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘অনেক ক্রিকেটারই টি-টোয়েন্টি আগে ছেড়েছেন। বড় বড় ক্রিকেটাররাও করেছেন। ওয়ানডে আমাদের সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট, আমিও খুব উপভোগ করি। টেস্ট ক্রিকেট এমন একটা ফরম্যাট- যখন থেকে ক্রিকেটের ব্যাট ধরা শুরু করেছি। তখন দুইটা ইচ্ছে ছিল। এক হচ্ছে বাংলাদেশের হয়ে খেলবো, এবং টেস্ট খেলবো।’

তার চোখ এখন টেস্টে, ‘আপনারা জানেন টেস্ট ক্রিকেটের ভেল্যুটা কেমন। হয়তো এই ফরম্যাটে আমরা খুব শক্তিশালী দল না। কিন্তু এখানে একটা সেঞ্চুরি বা ফিফটি করা এটার ভেল্যু অন্যরকম। টেস্ট আমি যতদিন সম্ভব খেলে যেতে চাই। আমার বয়স ৩৩। ৩৪-৩৫-এ অনেকের অভিষেক হয়। তারা আরো পাঁচ বছর খেলে। আমার এখনো ভালো চার-পাঁচ বছর আছে ভালো ক্রিকেট খেলার। আমার পারফরম্যান্স ও ফিটনেস ঠিক থাকলে আরো চার-পাঁচ বছর খেলব।’

সমালোচনা নিয়ে মাথা ঘামান না তামিম। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা মাঠের বাইরে কী আলোচনা হচ্ছে, এটা নিয়ে ভাবলে খেলাটা কঠিন হয়ে যাবে। আমি কী করেছি, কী করি নাই এটা নতুন কিছু না। আমি খোলা বইয়ের মতো। আমি এত কিছু ভাবি না। আমার কাছে যেটা বললাম সবচেয়ে প্রায়োরিটি টেস্ট ও ওয়ানডে। ওখানেই পুরো ফোকসটা দিতে চাই।’

ব্যক্তিগত পরিকল্পনা কী ছিল। এমন প্রশ্নে তামিম বলেন, ‘আমি এখন যেটা বলেছি সেটাতেই স্ট্রিক্ট থাকবো। বোর্ডকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা তারা ডেকে বলেছে তাদের পরিকল্পনা কী। সব মিডিয়াতে এসে বলা ঠিক না। কিছু বিষয় আমার ও বোর্ডের মধ্যে কথা হয়েছে। পাপন ও জালাল ভাই গত কয়েকদিন আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন। বোঝার চেষ্টা করেছেন আমার জায়গাটা কী।’

আগামী ছয় মাসে কী হবে। তামিম বলেন, ‘দেখেন, আমি এটাই আশা করি আমি বিশ্বাসও করি। আমাদের যারা টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করছে, তাদের সব ধরনের সামর্থ্য আছে। তারা ভালো করবে। আমি আমার দল ও সতীর্থদের খারাপ উইশ করতে পারবো না। আমি নিশ্চিত তারা ভালো করবে। আমার আর দরকার পড়বে না।’


আরো সংবাদ


premium cement