১৬ মে ২০২২
`
সেই বিপিএল এই বিপিএল

সেই বিপিএল এই বিপিএল

লোগোটাই বলে দিত বিপিএল কী ছিল তখন - ছবি : সংগ্রহ

...শেখার জন্য এসো, পরিণত হয়ে বেড়িয়ে যাও।
বন্ধু তো সেই হয়, যে খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়ায়।
সুখটা তুমিই রাখো, দুঃখটা না হয় আমিই নিলাম।

এমন আরো অসংখ্য নীতি বাক্য বা অভিমানী প্রেম কাব্য বলা যায় আমাদের বিপিএলকে ঘিরে। একটু ভেবে দেখলে বুঝবেন সত্যিই ভুল বলিনি। একটা সময় ক্ষুদ্র রশিদ খান এসেছিলেন এখানে, এখন তিনি আইপিএলের ১৫ কোটি রুপির নিলামের আগেই নিবন্ধিত ক্রিকেটার, কিন্তু আমাদের সাকিব! যেখানে ছিলেন আজও সেখানেই রয়ে গেছেন। বরং নামের তুলনায় বলা চলে একটুখানি পিছিয়েছেন।

ধরা যায় জফরা আর্চারের কথা। বিপিএল মাতিয়ে এসেছিলেন আলোচনায়। অল্পদিনেই গোটা বিশ্বকে মাতালেন তার বন্দনায়। আইপিএল যদিও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চ নয়, কিন্তু পুরো বিশ্ব তো সেখানেই তাকিয়ে রয়। একই গল্প ঘটেছে আর ঘটবেও অসংখ্যবার। গত বিপিএলেই তো আমাদের তরুণদের তুলনায় দল সেজেছিল বিদেশী তারুণ্যের প্রাধান্যতায়। মুজিব, কায়েস, নুর মোহাম্মদ থেকে লঙ্কান কিংবা ব্রিটিশ তরুণ, সবাই পেয়েছিল অধিক সম্মান৷

খারাপ সময়ে সবারই বরাবরই পাশে থেকেছে বিপিএল। ফিক্সিংয়ে ফেঁসে যাওয়া পাকিস্তানি পেসার আমির থেকে পরে অজি কাপ্তান স্মিথ, ওয়ার্নার; বিপিএলকেই পেয়েছেন ভরসার। রবি বোপারা, অজান্তা মেন্ডিস, সেকুজে প্রসন্ন বা হালের উদানা; বিপিএল পুঁজি করেই তাদের রুটি রোজগার। তাছাড়া মরগান, মুনরোও এসেছেন, ম্যাককালামও খেলেছেন৷ আছে আরো কত কত নাম। পাকিস্তান-লঙ্কা তারকাদের কথা না হয় বাদই দিলাম!

মইন আলিও ছিলেন বিপিএলের আবিষ্কার, একটা সময় বিপিএলে সময় দিতেন বাটলার। গত বছর দিয়েছিলেন মালান, এখন তিনি টি-২০’র বড় নাম। রয়, হেলসও এসেছিলেন, ডি ভিলিয়ার্স, রুশোও মাতিয়েছেন। ওয়াটসন, ফকনারসহ আরো অনেক নাম আছে অজানা, কিংবা স্মৃতির দুর্বলতায় আনমনা। তবে উপমহাদেশ আর ক্যারিবীয় আঙ্গিনায় আইপিএলের পর বাংলাদেশেই ছিল দৃষ্টির অন্তরায়। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকিয়ে থাকত বিপিএলের অপেক্ষায়। হায়, সেই দিন কোথায়?

নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় বিপিএল আজ ধুঁকছে। আইপিএলের পরই ছিল যার অবস্থান, আজ সেখানে বিগব্যাশ, পিএসল, সিপিএল, আবুধাবি টি-১০, হিসাব মেলালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলে আসতে পারে আরো নাম। অথচ ভালো কিছু সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারত বাংলাদেশের ক্রিকেট। বিপিএল ধরে রাখতে পারত শ্রেষ্ঠত্ব তার।

দূর্নীতি মুক্ত পরিচালনা, উপযুক্ত মাঠ আর সঠিক সময় নির্ধারণ বদলে দিতে পারত এখনকার চিত্র। আর আরেকটু বুদ্ধিদীপ্ত হলে ধারাভাষ্য প্যানেল আর সম্প্রচারে মন দিলে নিঃসন্দেহে বিপিএলের পাশাপাশি দেশী প্লেয়াররাও ছড়িয়ে যেত মুখে মুখে। মনে করুন—

‘আপনার ধারাভাষ্য প্যানেলে পাঁচজন বিদেশী ভালো মানের ধারাভাষ্যকার আছেন। তারা এই লীগের খেলা দেখছেন। তারা গিয়ে যখন অন্য লীগে ধারাভাষ্য দিবেন নিঃসন্দেহে তখন এখানকার কিছু গল্পও সেখানে বলবেন। আর কখনো কিছু প্লেয়ারের নামও চলে আসতে পারে তার মুখে, যারা পেয়ে যেতে পারেন সুযোগ কোন এক দলে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব তো আছেই।

একই মন্তব্য সম্প্রচার নিয়ে। ক্রিকেট প্রিয় দেশগুলোতে যদি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকে। একজন দলের কোচ, কিংবা ম্যানেজমেন্ট বা ওনার; হয়তো বা হতে পারেন কোন এক স্বর্ণ খুঁজে বেড়ানো স্বর্ণাকার, যখন হঠাৎ টিভি খুলে দেখলেন বাঙালী এক ক্রিকেটার দারুণ খেলছেন। খেলা দেখে মন ভরে নামটাও লেগে গেল হৃদে। পরবর্তী সময়ে কখনো দল গঠনে বা পরামর্শে নিঃসন্দেহে ওই নামটাও আসবে তার মুখে।

কিন্তু এখন সবাই বিপিএল নিয়ে হাস্যরস করে৷ ম্যাককালাম অন্য লীগে গিয়ে এই মাঠগুলোর সমালোচনা করে৷ অনেকে তো বিদ্রুপও করে থাকে হয় হামেশাই। রশিদ খান এখন বিপিএলকে না বলেন, পারফর্ম করা কাউকে পরবর্তী বছর পাওয়াটা এখন স্বপ্ন সমান। উইল জ্যাকের কালকের পারফর্ম দেখে এবারই হয়ত শেষ বিপিএল, এমন এক মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক বন্ধু শাদিদ রেহমান। হতেই পারে, এমনটাই তো হচ্ছে। বিপিএলকে এখন কে গোনায় ধরে!

যা হারানোর তাতো হারিয়েই গেছে। তবে কিছুটা উন্নতর সুযোগ আছে। সবার আগে মাঠগুলো গুছাতে হবে, প্রয়োজনে সরকারের সুবিধা নিয়ে হলেও৷ তাছাড়া নির্দিষ্ট ফ্রাঞ্জাইজিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। সম্প্রচার ও ধারাভাষ্যমান ভালো করতে হবেই হবে। মোদ্দাকথা, দুর্নীতি আর রাজনীতি থেকে ক্রিকেটকে দূরে রেখে ব্যবসার মতো ভাবতে হবে। যেখানে লাভটা টাকায় নয়, ক্রিকেট ও ক্রিকেটার হতে হবে। ফ্রাঞ্জাইজি বাড়াতে হবে। আর অবশ্যই শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্লেয়ারদের ফ্রী সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে টুর্নামেন্ট আয়োজন করাটা জরুরি। নয়তো মানহীন বিদেশী ক্রিকেটার এনে ক্রিকেটের লাভ আশা করাটা বোকামি বৈকি আর কিছু নয়!

 


আরো সংবাদ


premium cement