১৮ মে ২০২২, ০৪ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩
`

ঢাকাকে চমকে খুলনার দারুণ শুরু

ঢাকাকে চমকে খুলনার দারুণ শুরু -

ধারে ভারে এগিয়ে ছিল মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। তামিমের ব্যাটে তাদের সংগ্রহটাও ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু বড় টার্গেট বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি খুলনা টাইগার্সের সামনে। আন্দ্রে ফ্লেচার-রনি তালুকদাদের জয়ের ভিত্তি গড়া ইনিংস, শেষের দিকে পেরেরার ও মেহেদীর দারুণ ফিনিশিং। সব মিলিয়ে ঢাকাকে চমকে দারুণ জয়ে বিপিএল মিশন শুরু করেছে খুলনা টাইগার্স। মাহমুদউল্লাহদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে মুশফিক বাহিনী।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান করে ঢাকা। জবাবে ৬ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় খুলনা টাইগার্স।

বড় জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় খুলনা টাইগার্স। দলীয় ৮ রানের মাথায় শুভাগত হোমের বলে বোল্ড হয়ে হয়ে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান (২)। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন আন্দ্রে ফ্লেচার ও রনি তালুকদার। এই জুটি দলকে নিয়ে যায় ৮০ রান পর্যন্ত। ফিফটির আগে বিদায় নেন ফ্লেচার। রাসেলের বলে উইকেটের পেছনে শাহজাদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২৩ বলে সাত চার ও এক ছক্কায় ৪৫ রান করেন ফ্লেচার।

টিকতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। ৮ বলে ৬ রান করে তিনি এবাদতের শিকার। তবে অপর প্রান্তে রনি তালুকদার ছিলেন বিধ্বংসী। রান আগাতে থাকে তরতরিয়ে। একপর্যায়ে তাকে থামান এবাদতই। করে দেন বোল্ড। তার আগে রনি করে যান ৪২ বলে ৬১ রানের দারুণ ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা।

দলীয় ১৩৪ রানে পড়ে চতুর্থ উইকেট। ওভার তখন ১৪.৪। এরপর দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন ইয়াসির আলী ও থিসারা পেরেরা। দলীয় ১৫৩ রানে এই জুটি বিচ্ছিন্ন করে ঢাকার আশা জাগ্রত করেন আন্দ্রে রাসেল। ১৫ বলে ১৩ রান করে রাসেলের বলে শুভাগতর হাতে ক্যাচ দেন ইয়াসির।

খুলনার জয়ের আশা দারুণ ব্যাটিংয়ে ধরে রাখেন লঙ্কান ক্রিকেটার থিসারা পেরেরা। সাথে ছিলেন মেহেদী হাসান। শেষের দিকে সমীকরণ ছিল বল টু বল। যা করার করছিলেন পেরেরা। তবে শেষটা করেন মেহেদী হাসান। দারুণ ছক্কায় এক ওভার হাতে রেখে খুলনাকে দারুণ জয় উপহার দেন মেহেদী। ১৮ বলে ৬টি চারে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন পেরেরা। ৫ বলে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন মেহেদী। বল হাতে ঢাকার হয়ে দুটি করে নেন রাসেল ও এবাদত হোসেন।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ঢাকার হয়ে উড়ন্ত সূচনা করে দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহাজাদ ও তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৬৯ রান। ২৭ বলে ৮ চারে ৪২ রানের ইনিংস খেলে রান আউট হন শাহজাদ।

শাহজাদ ফিফটির আগে ফিরলেও অনেক দিন পর মাঠে ফেরা তামিম ইকবাল ঠিকই পান পঞ্চাশের দেখা। ৪২ বলে সাত চারে বরাবর ৫০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তামিম। কামরুলের বলে তিনি ক্যাচ দেন নাভিন উল হকের হাতে।

১৩.১ ওভারে ঢাকার রান তখন ১০৯, উইকেট দুটি। মোহাম্মদ নাঈম দ্রুত ফেরেন সাজঘরে। ১১ বলে ৯ রান করে তিনি পেরেরার বলে বোল্ড। ঝলসে উঠতে পারেননি ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলও। ৩ বলে এক ছক্কায় ৭ রান করে তিনি রান আউট।

এরপর অবশ্য জহুরুল ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলকে আরো ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। দলীয় ১৫০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১২ রানে সাজঘরে ফেরেন জহুরুল। মাহমুদউল্লাহ বিদায় নেন শেষ ওভারে ২০ বলে ৩৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলে। তার ইনিংসে ছিল তিন ছক্কা ও দুই ছক্কার মার।

শেষের দিকে শুভাগত হোম ৪ বলে ৯ রানে ও ইসরু উদানা ২ বলে ৬ রানে থাকেন অপরাজিত। বল হাতে খুলনার হয়ে কামরুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। থিসারা পেরেরা পান এক উইকেটের দেখা।


আরো সংবাদ


premium cement

সকল