২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম : কেড়ে নেয়া হয়েছে কোহলির নেতৃত্ব!

কেড়ে নেয়া হয়েছে কোহলির নেতৃত্ব! - ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টির পর এক দিনের ক্রিকেটেও ভারতীয় দলের নেতৃত্ব খোয়ালেন বিরাট কোহলি। তবে ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণের সময় নিজেই জানিয়েছিলেন নেতৃত্ব ছাড়ার কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর যে ভারতকে এই ধরনের ক্রিকেটে আর নেতৃত্ব দেবেন না তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন কোহলি। কিন্তু এক দিনের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তেমনটা হলো না। ভারতীয় বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হলো, সাদা বলের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে রোহিত শর্মাকে।

এমনিতে বুধবার একেবারে আড়ম্বরহীনভাবে বিরাটকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। এমনকি পৃথকভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও করা হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজের জন্য দল ঘোষণার বিজ্ঞপ্তিতেই নিচে এক বাক্যে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে একদিন এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের অধিনায়ক হচ্ছেন রোহিত। তাতে বিরাটের নামও নেয়া হয়নি। সাফল্যের সাথে (পরিসংখ্যান অনুযায়ী) ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ভারতের নেতৃত্ব দিলেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বোর্ডের তরফে একটা শব্দও খরচ করা হয়নি। টুইটারেও যে ঘোষণা করা হয়, তাতেও বিরাটের নাম নেয়া হয়নি। রোহিতের ছবি এবং নাম দেয়া হয়। তাকে ট্যাগ করা হয়।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর কোহলিকে নেতৃত্ব ছাড়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল বোর্ড। কিন্তু অধিনায়কত্ব ছাড়তে রাজি ছিলেন না তিনি। এরপরেই বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা করে দেয়া হয় নতুন অধিনায়কের নাম। কোহলিকে যে নেতৃত্ব থেকে সরানো হতে পারে সেই জল্পনা ছিলই। কিন্তু বোর্ডের পক্ষ থেকে কোহলিকে নেতৃত্ব থেকে সরানো নিয়ে কোনো কিছুই বলা হয়নি। শুধুমাত্র ঘোষণা করে দেয়া হয় টি-টোয়েন্টি এবং একদিনের ক্রিকেটে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন রোহিত। প্রায় হঠাৎ করেই সাদা বলের ক্রিকেটের নেতৃত্ব হারালেন কোহলি।

তবে সূত্রের ভিত্তিতে পিটিআই জানিয়েছে, একদিনের ক্রিকেটে যে অধিনায়ক হিসেবে কোহলির সময় শেষ হয়ে এসেছে, তা আগেই লেখা হয়েছিল। বিশেষত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায় থেকে ছিটকে যাওয়ার পরই কোহলির ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তবে ভারতীয় বোর্ড কোহলিকে সম্মানের সাথে বিদায় জানাতে চেয়েছিল। সে পথে হাঁটেননি কোহলি। ভারতীয় বোর্ডকে চরম পদক্ষেপ করার ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়েছিলেন বলে মনে করছে একটি মহল। সেই ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে বিসিসিআই। যে বোর্ডের শীর্ষে এমন একজন আছেন, যিনি এককালে ভারতের অধিনায়ক ছিলেন। ‘বরখাস্ত’ করে দেয় বিরাটকে। যা বিরাটের মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না বলে জানিয়েছে পিটিআই।

উল্লেখ্য, পিটিআই জানিয়েছে, অনেকেই এই ঘটনায় অবাক নন। বরং ভারতীয় ড্রেসিংরুমের ধারেকাছে থাকা ব্যক্তিরা একেবারে আলোর মতো 'গোপন' বিষয়টা জানতেন যে কোহলি মোটেও দলের সবথেকে জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন না। দলের একাংশ ক্রমশ তার থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন বলে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বছরদুয়েক আগে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে কাটানো এক খেলোয়াড়কে উদ্ধৃত করে পিটিআই বলেছেন, 'বিরাটের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় সমস্যা ছিল বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি। ও (বিরাট) মুখে স্পষ্ট কথাবার্তার কথা বলে। কিন্তু উপযুক্ত কথাবার্তার অভাবেই নেতা হিসেবে সম্মান হারিয়ে ফেলেছিল।' পিটিআই জানিয়েছে, আর ঠিক সেখানেই রোহিত খেলোয়াড়দের কাছের হয়ে উঠেছিলেন।

২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। তার আগে নতুন অধিনায়ক যথেষ্ট সময় দিতে চাইছে বোর্ড। সেই জন্যই এখন থেকেই দলের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হলো রোহিতের হাতে। কোহলির নেতৃত্বে আইসিসি-র কোনো ট্রফি জিততে পারেনি ভারত। তার নেতৃত্ব নিয়ে দলের অন্দরেই বার বার প্রশ্ন উঠছিল। বোর্ডের কাছে সিনিয়র খেলোয়াড়দের থেকে অভিযোগ এসেছিল বলেও শোনা যায়। এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় ভারতকে। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার হারতে হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। কোচ রবি শাস্ত্রীর মেয়াদ শেষ হতেই শেষ হলো সাদা বলের ক্রিকেটে কোহলির নেতৃত্বের মেয়াদ।

এক দিনের ক্রিকেটে ভারতকে ৯৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোহলি। জিতেছেন ৬৫টি ম্যাচে। হেরেছেন ২৭টি। দু’টি ম্যাচের কোনো ফল হয়নি, একটি ম্যাচ টাই হয়। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ছায়ায় তৈরি হয়েছিলেন নেতা কোহলি। বিশ্বকাপের দু’বছর আগে সাদা বলের ক্রিকেটে নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয়েছিল তার হাতে। সেই দু’বছরে নিজেকে ঘষে মেজে তৈরি করে নিয়েছিলেন কোহলি। দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে তার নাম যে থাকবে তা নিঃসঙ্কোচে বলা যায়। কিন্তু ট্রফির বাক্স খালিই থেকে গেছে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজেই আটকেছিল তার সমস্ত আগ্রাসন।

কোনো দলেই শুধু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য আলাদা অধিনায়ক দেখা যায়নি। সাদা বলের ক্রিকেটে আলাদা অধিনায়ক রয়েছে অনেক দেশেই। অস্ট্রেলিয়ায় যেমন অ্যারন ফিঞ্চ, ইংল্যান্ডে অইন মর্গ্যান, এক সময় ভারতীয় দলে টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন কোহলি, সাদা বলের ক্রিকেটে নেতা ছিলেন ধোনি। বোর্ড যে সাদা বলের ক্রিকেটে আলাদা অধিনায়কের পথে হাঁটবে সেই ইঙ্গিত ছিলই। কিন্তু কোহলি একদিনের ক্রিকেট থেকে নেতৃত্ব ছাড়তে চাননি বলেই জানা যাচ্ছে। তাই এক প্রকার তাকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হলো বোর্ড।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা ও হিন্দুস্তান টাইমস


আরো সংবাদ


premium cement