০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

‘দুঃখিত’ ডি কক বললেন তিনিও হাঁটু গেড়ে বসবেন যদি...

কুইন্টন ডি কক - ছবি : সংগৃহীত

‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’ নিয়ে বিতর্কিত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা ক্রিকেটার কুইন্টন ডি কক অবশেষে মুখ খুলেছেন। এক বিবৃতিতে তুলে ধরেছেন নিজের বক্তব্য। জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তিনি দুঃখিত এবং তিনি আবার হাঁটু গেড়ে বসবেন যদি এতে কারো শেখার কিছু থাকে।

‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বেশ কয়েকদিন ধরেই কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন, যার প্রতীক হিসেবে হাঁটু গেড়ে বসা হয়। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের এমনভাবে দেখা গেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক তাতে রাজি না হওয়ায় বাঁধে বিস্তর গোলযোগ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রোটিয়া দল থেকে বাদ পড়েন ডি কক। প্রথমে তার কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত সমস্যার’ কথা বলা হলেও, পরে জানানো হয় দলের তারকা কিপার বোর্ডের নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজি হননি। এরপরেই তাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। এই বিষয়ে প্রোটিয়া বোর্ড বিবৃতি দিলেও ডি কক চুপই ছিলেন। তবে অবশেষে তিনি নিজের নীরবতা ভাঙলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ড নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার ডি ককের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেই বিবৃতিতে তিনি লেখেন, ‘আমি কোনোভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে না খেলে কাউকে অসম্মান করতে চাইনি। অনেকেই জানে না, যে গোটা বিষয়টা আমাদের মঙ্গলবার ম্যাচের দিন সকালেই খেলতে নামার আগে জানানো হয়। গোটা ঘটনায় যাদের মনে আঘাত লেগেছে, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি এবং এর জন্য আমি দুঃখিত।’

ডি কক দাবি করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ডের পক্ষ থেকে আগে খেলোয়াড়দের নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বিকল্প বাছাইয়ের সুযোগ দেয়া হলেও ম্যাচের দিন কার্যত একপ্রকার জোর করেই সকলেই হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। ‘আমাকে কি করতে হবে সেটা বলে দেয়ায় আমার মনে হয়েছে যে আমার ব্যক্তিগত অধিকার খর্ব হচ্ছে। এ বিষয়ে আমার বোর্ডের সাথেও কথা হয়েছে এবং বর্তমানে আমরা সকলেই বিষয়টা আরো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। এগুলো যদি আগে থেকে ঠিকভাবে বলা হতো, তবে ম্যাচের দিন যা ঘটেছে, তা সহজেই এড়ানো যেত’, জানান প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক।

তার মতে, কাউকে জবরদস্তি কিছু করানো হলে, বিশেষত এই ধরনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে, গোটা উদ্দেশ্যটাই অহেতুক হয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতা তাকে হতভম্ব করে বলেও তিনি জানান। তবে পাশপাশি তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমি রেসিস্ট নই। আমি নিজের হৃদয় থেকে এটা জানি এবং যারা আমায় চেনে, আমার মনে হয় তারাও এটা জানে।

তিনি বলেন, ‘যদি আমি হাঁটু গেড়ে বসলে অন্যদেরকে শিখতে সাহায্য করে, এবং অন্যদের জীবনকে আরো ভালো করে তোলে, তাহলে আমি তা করতে পারলে বেশি খুশি হবো,’ বলেন তিনি।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস, ইএসপিএন ক্রিকইনফো



আরো সংবাদ