১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

তাসকিনের কান্না যেভাবে হাসিতে রূপ নিল

বিশ্বকাপ মানে তাসকিনের জন্য খারাপ সময়। - ছবি : সংগৃহীত

তাসকিন আহমেদের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিশেষ স্মৃতির, ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই তার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল।

সেই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়েই আবার বিশ্বকাপে ফিরছেন তিনি।

অবশ্য ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে, বিশ্বকাপ মানে তাসকিনের জন্য খারাপ সময়। প্রথমে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে বাদ পড়া, এরপর ২০১৯ সালে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার ঠিক আগে ফিটনেসের কারণে বাদ পড়েন তাসকিন আহমেদ।

২০১৯ সালের স্মৃতিতেই ফিরে গেলেন তিনি। বললেন, ‘একজন ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। ২০১৯ সালে যখন বাদ পড়লাম মনে হইলো যেন এটা কি শেষ? আমি আর ফিরতে পারবো?’

যদিও তিনি বলেছেন- এসব ভুলে যেতে চান।

দুই বছর আগে তাসকিন আহমেদ যখন জানলেন তিনি বিশ্বকাপের দলে নেই, মিরপুর স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণেই কেঁদে ফেলেন। সেদিন বাদ পড়ার আগেও তাসকিন জোর চেষ্টা চালান নিজেকে ফিট রাখতে, কিন্তু নির্বাচকরা ঝুঁকি নেননি।

এরপর চলেছে ফিরে আসার লড়াই, কখনো আঙ্গুলের চোট তো কখনো বাংলাদেশের মাটিতে খেলা তাই পেস বোলারের গুরুত্ব কম। এসব মিলিয়ে ম্যাচ পেতেও বেশ অপেক্ষা করতে হয়েছে তাসকিনকে।

২০১৮ সালের পর ২০২১ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলেছেন তাসকিন আহমেদ।

বলার মতো কিছু করেননি। কিন্তু তাসকিন আহমেদ, ‘স্বপ্নের বিশ্বকাপে’ খেলবেন।

প্রস্তুতি ম্যাচেও ভালো বল করেছেন, চার ওভারে ২৪ রান দিয়েছেন, একটি উইকেট নিয়েছেন।

তাসকিন আহমেদের মতে, বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়া থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ার মাঝের সময়ে ফিটনেস নিয়ে কাজ করাই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, এই স্কোয়াডে এজন্যই তার নাম আছে।

তাসকিন সবসময়ই বলেন, ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বল করতে চান।

গতিই তার বোলিংয়ের সবটা কি না এমন প্রশ্ন রাখার পর তিনি বলেন, একটা সময় তাই ছিল।

‘একটা সময় আসলেই ভাবতাম জোরে বল করবো। এটার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। একবার জোরে বল করা শুরু করলে হাত-পায়ে একটা বাড়তি প্রেরণা পাওয়া যায়। আর দুই-একজনকে বোল্ড করলে আরো অনুপ্রেরণা পাই।’

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাসকিন এখন গতির সাথে ব্যাটসম্যানের মন বোঝার চেষ্টা করছেন, ব্যাটসম্যানের ভাবনা নিয়ে খেলার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন।

মূলত স্লোয়ার বল নিয়ে কাজ করেছেন তাসকিন। তার মতে, ‘স্লো বল করা মানে শুধু যে একটা আস্তে বল করে দিলাম তা না। এটা একটা খেলার ভেতর খেলা।’

তাসকিন মূলত ব্যাটসম্যানের সাথে মনস্তাত্বিক লড়াইয়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

কোন বলটা জোরে করা হবে ও কোনটায় গতির তারতম্যে ব্যাটসম্যানকে বোকা বানানো হবে এটা ঠিক করাই জরুরি বলে মনে করেন তাসকিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছে তিনি ভেরিয়েশন নিয়ে কাজ করার শিক্ষাটা পেয়েছেন।

মাশরাফির ইনজুরি জর্জরিত ক্যারিয়ারে অর্ধেকের বেশি সময়ই ছোট রান আপে বল করেছেন, আবার গতি কমার সাথে সাথে মাশরাফী সুইং ও লাইন লেন্থের প্রতিই বেশি নজর দিয়েছেন, এবং সফলও হয়েছেন। ২০১৫ সালে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশের সফলতম ফাস্ট বোলারই ছিলেন।

তাসকিন আহমেদও মনে করেন, মাশরাফি সবসময়ই তাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যান। একই সাথে তিনি বলেন কখন কী করলে ভালো হবে।

তাসকিনের ক্যারিয়ারে শুরু থেকেই মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার একটা প্রভাব ছিল। মাশরাফীর সাথে খোলামেলাই বেশ ভালো সম্পর্ক তাসকিনের।

২০১১ সালে মাশরাফীও একটা বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে দলে সুযোগ পাননি, তাসকিন আহমেদ এসব ঘটনায় সাদৃশ্য খুঁজে পেয়ে নিজেকে আরো ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চান।

একই সাথে সতীর্থ মোস্তাফিজুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তাসকিন।

তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজ দলে থাকলে, অন্য দলগুলো বাংলাদেশ টিম নিয়ে ভাবে। আলাদাভাবে পরিকল্পনা করে। কোন বল কীভাবে খেলবে এসব ভিডিও দেখে। এতে দলের বাকি ক্রিকেটারদের সুবিধা হয়।’

২০১৫ বিশ্বকাপে তাসকিন আহমেদ ইনিংসের মাঝপথে উইকেট এনে দেয়ার কাজ করতেন।

তিনি আশাবাদী একই কাজ তিনি এবারো করতে পারবেন। তাসকিনের মতে, প্রত্যেক ক্রিকেটারে নিজস্ব রোল আছে, যদি প্রয়োজন হয় ব্যাটিং করার ব্যাটিংও করতে পারবেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়েও ভূমিকা থাকে।

‘অনেক সময় আমার ৬ বলে ১০ নেয়া লাগতে পারে। অনেক সময় আমি এক রান বাঁচালে ওই এক রানে জিতে যাইতে পারে দল।’

তাসকিন মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার খেলা, এখানে অনেক সময় ক্রিকেটীয় দক্ষতার সাথে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ