০১ মার্চ ২০২১
`

ক্রিকেটারদের আটকাতে নতুন পথে হাঁটছে বিসিবি

ক্রিকেটারদের আটকাতে বিসিবির নতুন ফর্মুলা -

দেশের খেলা বাদ দিয়ে আইপিএল খেলবেন সাকিব। খেলবেন হয়তো মোস্তাফিজও। বিব্রত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সরাসরি তাই জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটারদের স্বাধীনতা আছে যেকোন জায়গায় খেলা। তবে আগে জানাতে হবে।

সেই জানানোর বিষয়টিও হয়তো আর থাকছে না। কারণ কেন্দ্রিয় চুক্তিতে নতুন শর্ত আরোপ করতে যাচ্ছে বিসিবি। যেখানে সব কিছুরই উল্লেখ থাকবে। জাতীয় দল না ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ, কোনো দ্বন্দ্ব সামনে আসবে না। সব কিছু পরিষ্কার করেই ক্রিকেটারদের সাথে নতুন করে কেন্দ্রিয় চুক্তি করবে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।

সাকিবকে ছুটি দেয়ার পর অন্য যে কেউ চাইলেও ছুটি দেয়ার বাধ্যবাধকতা চলে এসেছে বিসিবির। বোর্ড এই অবস্থার মুখোমুখি ভবিষ্যতে হতে চায় না।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাজমুল হাসান জানান, ‘এটা একেবারে অস্বীকার করার পথ নেই (ক্রিকেটারদের কাছে বোর্ড বন্দী হয়ে যাচ্ছে কিনা)। এর আগেও যে হয়নি এটা, তা নয়। তবে এখন একটা ব্যাপারে আমাদের ভাবনা খুবই পরিষ্কার। কাউকে জোর করে কোথাও পাঠাব না। যারা খেলতে চায় না, তারা খেলবে না। এই বার্তাটা সবার জন্য, কেবল সাকিব আল হাসানের জন্যই নয়।'

‘এবার চুক্তিতে আরো নতুন কিছু জিনিস যুক্ত হবে। ওখানে পরিষ্কার লেখা থাকবে, কে কোন ফরম্যাট খেলতে চায়। তাদেরকে বলতে হবে এবং এটাও জানাতে হবে, ওই সময়ে তাদের যদি অন্য কোনো খেলা থাকে, তাহলে সেখানে খেলবে নাকি দেশের হয়ে খেলবে। চুক্তিতে সই করলে সেটা মানতে বাধ্য। আগে এটা ছিল ব্যক্তির ওপর, এখন আমরা কাগজে-কলমে লিখিত নিয়ে নেব। কারো বলার কিছু থাকবে না। ইটস অবভিয়াস, যে খেলবে না, সে খেলবে না।’

হুট করে কোনো সিরিজের আগে ছুটি চাওয়া। এটা হতে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, ‘এটা একদম লং টার্ম, কোনো সিরিজের সাথে আর কিছু নাই। কারণ, এটা আমাদের চিন্তায়ই আসেনি কখনো (আগে)। আপনারা আমাদের দিকটা ভেবে দেখুন। আমি তো কখনো অ্যালাউ করিনি এগুলো। এতগুলো ম্যাচ হারার পরে ক্রিকেটারদের উচিত, বিশেষ করে সিনিয়রদের চিন্তা থাকবে যে, আমরা পরের টেস্ট ম্যাচ জিতব। এটা না হয়ে যদি বলে আমি খেলব না, সেটিও ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপার নয়, আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার জন্য, তখন এটা খুব স্পষ্ট যে আসলে এদের দিয়ে খুব বেশি একটা কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না, অন্তত টেস্টে।’

‘ওরা সবাই যদি লিখে দেয়, আমরা কেউ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই না, আমি এখনই রাজি। তবে আমাকে অবশ্যই জানতে হবে। ট্যুরের আগে গিয়ে বললে হবে না। যে খুশি বলে দিক, কে কে খেলতে চায় না। কোনো অসুবিধা নেই, তবে সিরিজের আগে হুট করে নয়। আমাদের সময় লাগবে, আমি একটা বছর সময় চাই। এক বছর পরে কাউকে লাগবেও না, কোনো অসুবিধা নেই।’



আরো সংবাদ