০৭ মার্চ ২০২১
`

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজ জয় বাংলাদেশের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজ জয় বাংলাদেশের - ছবি : নয়া দিগন্ত

বল হাতে ঝলক দেখালেন তিন পেসার। সবচেয়ে উজ্জ্বল সাকিব আল হাসান। তার সাথে দুর্দান্ত পেসে অভিষেক ম্যাচ রাঙালেন হাসান মাহমুদ। ছিল কাটার স্পেশালিস্ট মোস্তাফিজের দারুণ শুরু। সাকিবদের আগুনমুখো বোলিংয়ে খেই হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে গেল অল্প রানে। বোলার মতো সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন ব্যাটসম্যানও। সব মিলিয়ে দাপুটে জয়ে বঙ্গবন্ধু ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তামিম-সাকিবরা। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে টাইগাররা।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে টাইগারদের বোলিং তোপে মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ৪ উইকেটে, ৯৭ বল হাতে রেখে।

লক্ষ্য ছোট। ব্যাট হাতে বাংলাদেশের শুরুটা তাই অতি সাবধানী। ব্যাটিংয়ে গোড়াপত্তন করেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও ফর্মের তুঙ্গে থাকায় লিটন দাস। ৫ ওভারে আসে ২৩ রান। পাওয়ার প্লেতেও উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা। ১০ ওভারে আসে ৩৯ রান।
ক্রিজে টিকে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা ছিল লিটনের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি উইন্ডিজের অভিষিক্ত আকিল হোসেনের দুরন্ত বোলিংয়ের কারণে। দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ডই হয়ে যান লিটন। মিডল স্টাম্পে পড়া গুড লেংথের লাইন পড়তে পারেননি লিটন। বাঁহাতি স্পিনারের বল তার প্রত্যাশার বেশি টার্ন করে আঘাত হানে অফ স্টাম্পের মাথায়। ভাঙে ৪৭ রানের জুটি।

১৩.২ ওভারে প্রথম উইকেটের পতন। সাজঘরে ফেরার আগে লিটনের রান ৩৮ বলে মাত্র ১৪। হাঁকিয়েছেন দুটি চার। ওয়ান ডাউনে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু সাকিবের নির্ধারিত এই ব্যাটিং পজিশনে নিজের নামের সুবিচার করতে পারেননি শান্ত। দলীয় ৫৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতন বাংলাদেশের।

আকিল হোসেইনকে কীভাবে সামলাবেন তা যেন ভেবে পাচ্ছিলেন না শান্ত। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি স্পিনারের বলেই ফেরেন সহজ ক্যাচ দিয়ে। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বল লেগে খেলতে চেয়েছিলেন শান্ত। ঠিক মতো পারেননি, মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান জেসন মোহাম্মেদ। ৯ বলে ১ রান শান্তর।

এরপর অবশ্য তামিম-সাকিব ধীরে হলেও দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। দলীয় ৮৩ রানে এই জুটি ভাঙেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন মোহাম্মেদ। অফ স্পিনারকে পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তামিম। ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে যান, আর ফিরতে পারেননি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেলস ফেলে দেন ক্যারিবিয়ান কিপার।

৬৯ রানে ৭ চারে ৪৪ রান করেন তামিম। বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান এটি। দলের স্কোর যখন শতরানের উপর তখন বিদায় নেন সাকিব আল হাসান। নিজের শেষ বলে উইকেট পান আকিল হোসেইন। বোল্ড করে ফেরান সাকিব আল হাসানকে। শরীরের খুব কাছের বল কাট করতে চেয়েছিলেন সাকিব। ঠিক মতো পারেননি, ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে। আকিল পান নিজের তৃতীয় উইকেট।

বল হাতে ফেরাটা দারুণ হলেও ব্যাট হাতে ততটা হলো না সাকিবের। ৪৩ বলে এক চারে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। দলীয় রান তখন ১০৫। জয়ের কাছাকাছি তখন বাংলাদেশ। বাকি সময়টাতে আর উইকেট হারাতে দেননি মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ জুটি। ৩৩.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌছায় বাংলাদেশ। ১৯ রানে মুশফিক ও ৯ রানে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন অপরাজিত। অভিষেকে বল হাতে ২৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আকিল হোসেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ রীতিমতো ভুগেছে বাংলাদেশের পেস বোলিং তোপে। ছয়জনের অভিষেকের ম্যাচে উইন্ডিজ শিবির তালগোল পাকায়। সাকিব, হাসান আর মোস্তাফিজের আগুনমুখো বোলিংয়ে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস।

অনভিজ্ঞ দল। ছয় জনের অভিষেক। এমন উইন্ডিজ টিম ব্যাট হাতে কার্যত ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশের বোলারদের সামনে। একজন ব্যাটসম্যানও পাননি ফিফটির দেখা। সর্বোচ্চ ৪০ রান এসেছে কাইল মায়ার্সের ব্যাট থেকে। এটি ছিল মায়ার্সের অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচ। ৫৬ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাকিয়েছেন মায়ার্স। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন রভম্যান পাওয়েল। ৩১ বলের ইনিংসে রভম্যান হাকিয়েছেন সমান দুটি করে ছক্কা ও চার।

অধিনায়ক জেসন মাহমুদ প্রতিরোধের জোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাকিবের বলে তিনি স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার। ৩৬ বলে কোন বাউন্ডারি ছাড়া তার সংগ্রহ ১৭ রান। অভিষিক্ত আন্দ্রে ম্যাকার্থি ৩৪ বলে করেন ১২ রান। তিনি সাকিবের নিরীহ একটি বলে সরাসরি বোল্ড। বাকি সব ব্যাটসম্যানদের রান ছিল দুই অঙ্কের নিচে।

দুই ওপেনার সুনিল এমব্রিস (৭) ও জসুয়া ডি সিলভা (৯) মোস্তাফিজের শিকার। লোয়ার অর্ডারে রাইমন রেইফার (০) ও অভিষিক্ত আকিল হোসেন (১) হাসান মাহমুদের বলে আউট হন। মিডল অর্ডারে ভরসার জায়গা বোনার ৪ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। তিনি সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ।

বল হাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটা দারুণ হলো সাকিব আল হাসানের। ৭.২ ওভারে দুটি মেডেনে উইকেট পেয়েছেন সর্বোচ্চ চারটি। রান দিয়েছেন মাত্র ৮। ইকোনমি রেট দেখলে তো আক্কেলগুড়ৃম, ১.০৯। সেখানে অভিষেকে ৬ ওভারে এক মেডেনে তিন উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তিনি অবশ্য রান দিয়েছেন একটু বেশি সাকিবের তুলনায়, ২৮।

মোস্তাফিজ ছিলেন নিজ ছন্দে। ৬ ওভারে মেডেন না পেলেও ২০ রানে নেন দুটি মূল্যবান উইকেট। বাকি একটি উইকেট পান স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। সাত ওভারে ১ মেডেনে ২৯ রান দেন তিনি।

আগামী ২২ জানুয়ারি (শুক্রবার) মিরপুরেই অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ চট্টগ্রামে।



আরো সংবাদ