০৫ ডিসেম্বর ২০২০

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না বিসিবি’র

আকরাম খান - ছবি : সংগৃহীত

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। বেড়েই চলেছে উৎকণ্ঠা, অনিশ্চিয়তা। শ্রীলঙ্কা সফর আদৌ হবে? নাকি শেষ পর্যন্ত বাতিলের খাতায় চলে যাবে। সূচি অনুযায়ী, আগামীকালই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের। সেটা তো হচ্ছেই না। উল্টো ক্রিকেটারদের স্কিল ক্যাম্প তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আজ আশার খবর শুনিয়েছেন বিসিবি’র পরিচালক আকরাম খান। আর সেটা হলো, দেরিতে হলেও শ্রীলঙ্কা সফর হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য নির্দেশিকার। সেটা হাতে পেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

আগের সূচি অনুযায়ী, শনিবারই ছিল অনুশীলনের শেষ দিন। সেই হিসাবেই অনুশীলন চলেছে। কিন্তু লঙ্কা সফর নিয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় জরুরি সভায় বসেন প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী, অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান, নির্বাচক মিনহাজুল আবেনি ও হাবিবুল বাশার।

সভা শেষে আকরাম জানান, আপাতত ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিচ্ছেন তারা।

বলেন, ‘আমরা বসেছিলাম শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে। প্রথমে তো কালকে (রোববার) ফ্লাইট ছিল, কিন্তু যেহেতু যেতে পারছি না, কাজেই আমাদের পরিকল্পনা কি হবে তা নিয়ে নির্বাচক ও সিইওর সাথে সভা করেছি। আমরা তিন দিনের বিরতি দিয়েছি। তারপর আবার আমরা অনুশীলন চালাব। আর আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে উত্তরটা আসবে শ্রীলঙ্কা থেকে।’

দুই-এক দিনের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় পরিস্কার কিছু জানাবে। সে অপেক্ষায় বিসিবি। আকরাম খান বলেন, ‘যেহেতু সিরিজ পেছাচ্ছে আমাদের হাতে সময় আছে, সেক্ষেত্রে আমরা আরো কিছুদিন অপেক্ষা করবো। আসলে ব্যাপারটা ওদের হাতে নেই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওরা আশা করছে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আমাকে জানাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার ওরা চাচ্ছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওদের একটা নির্দেশিকা আমাদের দিতে। আমরা আশাবাদী, ওরাও ইতিবাচক। আজকে ও আগামীকাল বন্ধ থাকায় হয়তো সোম, মঙ্গলবার দিবে।’

ব্যাটিং কোচ প্রসঙ্গে কথা উঠলে আকরাম খান বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে বেশি মনযোগী এই সফরটা নিয়ে। এই সফরটা চূড়ান্ত হলে আমরা অন্য পরিকল্পনা করবো। সফরটা আগে ঠিক হোক, তারপর ব্যাটিং কোচ নিয়ে আলাপ আলোচনা করবো।’

২৭ সেপ্টেম্বর তো যাওয়া হলো না। কবে নাগাদ বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় যেতে পারে?
জবাবে আকরাম খান বলেন, ‘যদি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগোয় আমরা আগামী মাসের ৭-১০ তারিখের মধ্যে যেতে পারি। যেহেতু ওদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ছিল সেটা যথাসময়ে হচ্ছে না, সেহেতু ওদের এবং আমাদেরও সময় আছে।’

লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি বা মেইল প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন চিঠি বা মেইল আসেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না এলে বাইরে কি হচ্ছে, না হচ্ছে তা নিয়ে তো কিছু বলতে পারব না।’

লঙ্কা সফর নিয়ে বিসিবি মরিয়া কী না? গোলার মতো এমন প্রশ্ন সপাটে কাভার ড্রাইভ করেন আকরাম, ‘মরিয়া না। ব্যাপারটা হলো সময় ওদের কাছেও আছে, আমাদের কাছেও আছে। ওরা বারবার অনুরোধ করছে কিছুদিনের মধ্যে জানিয়ে দিবে। বিষয়টা এমন না যে ওরা চাচ্ছে না কিন্তু আমরা জোর করে যাচ্ছি। আমরা যদি যেতেই চাইতাম তাহলে ওদের শর্ত মেনেই চলে যেতে পারতাম। কিন্তু আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই, প্রথম অগ্রাধিকার হলো খেলোয়াড়দের কমফোর্টেবল থাকা, মানসিকভাবে যেন ক্লান্ত না থাকে। এভাবে ওদের কাছ থেকে পারফরম্যান্সটা বের করে আনা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গিয়েই যেন ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি তার জন্য যা যা করা দরকার তাই করবো।’

ক্রিকেটারদের অনুশীলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো প্ল্যানের মধ্যেই আছি। এখন তিন দিনের ব্রেক দিয়েছি। এই তিনদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসলে আমরা আবার প্ল্যান করবো। বোর্ড সভাপতি তো বলেছেন, যদি সফর না হয় একটা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট করবো। সেটা আমাদের মাথায় আছে, প্ল্যান এ, বি, সি সব করাই আছে। আমরা আমাদের প্ল্যান মতই আছি। যেহেতু প্লেয়াররা ৭-৮ দিন অনুশীলন করে ফেলেছে সেহেতু একটা ব্রেকের দরকার আছে।’


আরো সংবাদ